১৮ জুন ২০২৬

ছাবেদ সাথী'র কলাম

সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাজা-রানী নেই

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ০১:১২ পিএম
সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাজা-রানী নেই

ছাবেদ সাথী

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে 'নো কিংস ডে' উপলক্ষে প্রায় ২ হাজারটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার ( ১৮অক্টোবর)। এতে যোগ দেন লক্ষ লক্ষ আমেরিকান নাগরিক, যারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংবিধান, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের ওপর আক্রমণের বিরোধিতা করছেন। এই আন্দোলনটি গত ১৪ জুন, ট্রাম্পের ৭৯তম জন্মদিনে অনুষ্ঠিত প্রথম 'নো কিংস ডে'-এর ধারাবাহিকতা।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যেমন নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, মিয়ামি ও লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার ( ১৮ অক্টোবর) সকালে শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিউ ইয়র্ক সিটির বিখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন।

রাস্তা ও সাবওয়ে প্রবেশমুখে ভিড় জমে যায় প্রতিবাদকারীদের ব্যানার হাতে, যেখানে লেখা ছিল 'গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র নয় এবং সংবিধান ঐচ্ছিক নয়'।

এই প্রতিবাদগুলোতে যুক্ত হয়েছে বহু অলাভজনক সংস্থা এবং এতে অংশ নেন দেশপ্রেমিক রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট, স্বতন্ত্র এবং তৃতীয় পক্ষের সমর্থকরা যারা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের সেই অমর নীতির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন: 'জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য পৃথিবী থেকে যেন বিলীন না হয়।'

আমেরিকাকে মহান করে তুলেছিল সংবিধানের সেই প্রজ্ঞা, যা আমাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে এমন স্বাধীনতা, যা পৃথিবীর বহু মানুষ শুধু স্বপ্নেই কল্পনা করে। তবুও, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় তার নিজস্ব আদর্শ পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বিশেষ করে দাসপ্রথা এবং কৃষ্ণাঙ্গ, অন্যান্য সংখ্যালঘু ও নারীদের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের মাধ্যমে যা কিছুটা কমলেও, আজও পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ট্রাম্প এসব আদর্শ রক্ষা করার চেষ্টা করেন না; বরং তিনি সেগুলোকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা করেন।

ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রশংসা করেন একনায়ক নেতাদের যেমন রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া ও অন্যান্য স্বৈরশাসনের শাসকদের যারা লোহার মুঠিতে দেশ শাসন করেন। তিনি দাবি করেন, সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (Article II) তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে 'যা খুশি করার পূর্ণ ক্ষমতা' দিয়েছে।

এই ভয়াবহ ধারণাকে আইনি বিশেষজ্ঞরা ব্যাপকভাবে নিন্দা করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস ৩৫ জন আইনি পণ্ডিতের মতামত সংগ্রহ করে জানিয়েছে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের মধ্যে অনেকগুলোই বেআইনি ও অসাংবিধানিক।

এসবের মধ্যে রয়েছে: জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা, কংগ্রেসের বরাদ্দকৃত বিলিয়ন ডলারের ব্যয় অস্বীকার করা, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুল্ক আরোপ, যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া অভিবাসীদের নির্বাসন, এবং আইন সংস্থাগুলো থেকে বিনা খরচে আইনি সহায়তা দাবি করা।

তিনি আরও হুমকি দিয়েছেন তার নীতিমালা না মানা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেবেন, সাংবাদিকদের সীমিত করবেন এবং স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের বেআইনিভাবে বরখাস্ত করবেন।

ট্রাম্প বিচার বিভাগকেও প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন, সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমি ও নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমসের বিরুদ্ধে। তিনি হাজার হাজার ফেডারেল কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করেছেন এবং আরও বহুজনকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছেন।

তিনি ডেমোক্র্যাট মেয়রদের শহরে ভুয়া জরুরি অবস্থার অজুহাতে ন্যাশনাল গার্ড পাঠিয়েছেন, রাজ্য বা স্থানীয় অনুমতি ছাড়াই।

এমনকি জাতীয় নিরাপত্তাও হুমকির মুখে ফেলেছেন যেসব কর্মকর্তাকে তিনি 'অবিশ্বস্ত' মনে করেছেন, তাদের গণছাঁটাই করে। তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিপজ্জনকভাবে অযোগ্য রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রকে। তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে আপস করতে অস্বীকার করেছেন ফলে সরকার বন্ধ (shutdown) থেকে শুরু করে ২.২ কোটি আমেরিকানের স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

এটি কেবল ট্রাম্পের স্বৈরাচারী ক্ষমতা দখলের একটি আংশিক তালিকা। সবগুলো উল্লেখ করার জায়গা এখানে নেই। ট্রাম্প প্রথমে কাজ করেন, তারপর আদালতে মামলা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন — আশা করেন, রিপাবলিকান মনোনীত ছয়জন সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি তার পক্ষ নেবেন, যেমনটি তারা প্রায়ই করেন।

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক ডেভিড পোজেন বলেছেন,এই প্রশাসনের নাগরিক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, ক্ষমতার বিভাজন এবং আইনি সীমার প্রতি অবজ্ঞার গভীরতা ও ব্যাপকতা একে নিঃসন্দেহে এক স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করে।

ট্রাম্পের আগে, কংগ্রেসের সদস্যরা নিজেদের সাংবিধানিক ক্ষমতা রক্ষায় দৃঢ় ছিলেন এমনকি যখন সেটা তাদের নিজেদের দলের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও যেত।

উদাহরণস্বরূপ, বহু ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসনের ভিয়েতনাম যুদ্ধের নীতি সমালোচনা করেছিলেন। রিপাবলিকানরাও রিচার্ড নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন, অভিশংসন ও অপসারণ এড়াতে।

কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে, রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস আগের চেয়ে আরও ভীত আশঙ্কা করে, ট্রাম্প তাদের প্রাইমারি প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমর্থন করবেন এবং তারা আসন হারাবেন। তাই তারা ট্রাম্পকে প্রায় সীমাহীন ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছেন, যা আমেরিকার স্বাধীনতার জন্য ভয়াবহ হুমকি।

আমরা অনেকেই টাইপ শেখার সময় বারবার লিখেছি: Now is the time for all good men to come to the aid of their country.

আজ সেই বাক্যে Women-দেরও যোগ করতে হবে এবং এটিকে শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিরোধের আহ্বান হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, যখন আমেরিকা এক স্বৈরশাসনের হুমকির মুখে। আমাদের অবশ্যই এমন একটি জাতি হিসেবে থাকতে হবে যেখানে কোনো রাজা বা রানি নেই।

বিক্ষোভের আগে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা অভিযোগ করেন যে এই আন্দোলনের সঙ্গে বামপন্থী অ্যান্টিফা সংগঠনের যোগ আছে এবং একে 'আমেরিকাবিরোধী ঘৃণার র‍্যালি' বলে আখ্যা দেন।

স্বাধীন লেখক ও সম্পাদক বেথ জ্যাসলফ বলেন, তিনি নিউ ইয়র্কের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন কারণ তিনি 'ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হওয়া' দেখে ক্ষুব্ধ ও হতাশ।

তিনি বলেন, আমি নিউ ইয়র্ক সিটিকে ভালোবাসি,এখানে এত মানুষকে একসঙ্গে দেখে নতুন করে আশা জাগছে।

জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের কিছু অংশ বিলুপ্ত করে এবং রাজ্য গভর্নরদের আপত্তি সত্ত্বেও ন্যাশনাল গার্ড শহরগুলোতে মোতায়েন করে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার পরিধি বাড়িয়েছেন।

এছাড়া তিনি প্রশাসনের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীদের বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর এসব পদক্ষেপ 'সংকটাপন্ন দেশকে পুনর্গঠনের' জন্য প্রয়োজনীয় এবং তাঁকে একনায়ক বা ফ্যাসিবাদী বলা 'উন্মত্ততা'।

তবে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন, প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপ সংবিধানবিরোধী এবং গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হতে পারে।

নিউ জার্সির ৬৮ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ইলেকট্রনিক প্রকৌশলী মাসিমো মাসকোলি, যিনি ইতালিতে বেড়ে উঠেছেন, বলেন তিনি বিক্ষোভে এসেছেন কারণ তাঁর উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাঁর দেশ ইতালির অতীতের পথেই এগোচ্ছে।

তিনি বলেন,আমি এমন এক ইতালীয় নায়কের ভাতিজা, যিনি মুসোলিনির সেনাবাহিনী ত্যাগ করে প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন,তাকে ফ্যাসিস্টরা নির্যাতন করে হত্যা করেছিল, আর ৮০ বছর পর আমি যুক্তরাষ্ট্রে আবার সেই ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে পাবো ভাবিনি।

শনিবারের সব বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা। 'নো কিংস' আন্দোলনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, অহিংসা তাদের মূল নীতি, এবং অংশগ্রহণকারীদের সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে ভিড়ের মধ্যে ড্রামবিট,ঘণ্টা আর শব্দযন্ত্রের সঙ্গে একত্রে নিয়মিত স্লোগান উঠছিল 'এটাই গণতন্ত্রের চেহারা'।

উপরে উড়ছিল হেলিকপ্টার ও ড্রোন, পাশে অবস্থান করছিল পুলিশ।

নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শহরের পাঁচটি বরোতে মিলিয়ে এক লাখেরও বেশি মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে অংশ নেন এবং কোনো গ্রেপ্তার হয়নি।

টাইমস স্কোয়ারে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, শুধুমাত্র ৭ম অ্যাভিনিউতেই ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ মিছিল করেছেন।

মাসিমো মাসকোলি আরও বলেন, তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ অভিবাসন দমননীতি ও স্বাস্থ্যসেবা হ্রাস যা লক্ষ লক্ষ আমেরিকানের ওপর প্রভাব ফেলবে।

তিনি বিবিসিকে বলেন, আমরা সুপ্রিম কোর্টের ওপর নির্ভর করতে পারি না, সরকারের ওপরও না, কংগ্রেসের ওপরও না,

বিধান, নির্বাহী ও বিচার সবকিছুই এখন আমেরিকান জনগণের বিরুদ্ধে। তাই আমরা লড়ছি।

সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা ও নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট চ্যাক শুমারও বিক্ষোভে যোগ দেন। তিনি এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ লিখেছেন,আমেরিকায় কোনো স্বৈরশাসক নেই, আর ট্রাম্পকে আমরা আমাদের গণতন্ত্র ধ্বংস করতে দেব না।

তার সঙ্গে তিনি 'স্বাস্থ্যসেবা সংকট সমাধান করুন' লেখা একটি পোস্টার হাতে তোলা ছবি শেয়ার করেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স মূল বক্তৃতা দেন।

তিনি বলেন, আমরা এখানে আমেরিকাকে ঘৃণা করতে নয়, ভালোবাসতে এসেছি। ডিসি মিছিলে বিবিসি এক ব্যক্তিকে দেখেছে যিনি ট্রাম্পের 'আমেরিকাকে আবার মহান করুন' টুপি পরে ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি কেবল দেখতে এসেছেন এবং যদিও পুরো ব্যাপারটি 'বোঝেন না', লোকজন তাঁর প্রতি শালীন আচরণ করেছে যদিও এক নারী তাঁকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করেন। বিক্ষোভ কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

ইউরোপের বার্লিন, মাদ্রিদ ও রোমেও বিক্ষোভ হয়েছে আমেরিকান প্রতিবাদকারীদের প্রতি সংহতি জানাতে। লন্ডনে কয়েকশো মানুষ মার্কিন দূতাবাসের সামনে সমবেত হন।

কানাডার টরন্টোতেও অনুরূপ দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের সামনে লোকজন 'কানাডা থেকে হাত সরিয়ে নাও' লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ করেন।

শনিবার সম্প্রচারিত হওয়ার আগে ফক্স নিউজে এক সাক্ষাৎকারের প্রচারণা ক্লিপে ট্রাম্প বলেন ,‘একজন রাজা’? এটা কোনো অভিনয় নয়। তারা আমাকে রাজা বলছে। আমি রাজা নই।'

রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল সিএনএনকে বলেন, ন্যাশনাল গার্ড পাঠাতে হবে। আশা করি শান্তিপূর্ণ থাকবে, যদিও আমি সন্দেহ করি। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান গভর্নররা আগাম ন্যাশনাল গার্ডকে প্রস্তুত রেখেছিলেন।

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বৃহস্পতিবার তাঁর রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড সক্রিয় করেন, দাবি করে যে অস্টিনে 'অ্যান্টিফা-সংযুক্ত বিক্ষোভ' পরিকল্পিত হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরা, বিশেষ করে রাজ্যের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জিন উ, এর নিন্দা করে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে সশস্ত্র সেনা পাঠানোই রাজা ও স্বৈরশাসকদের কাজ — আর গ্রেগ অ্যাবট প্রমাণ করলেন তিনিও তেমনই একজন।'

ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান গভর্নর গ্লেন ইয়াংকিনও রাজ্য ন্যাশনাল গার্ড সক্রিয় করার নির্দেশ দেন, যদিও স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৈন্যরা মিছিলে উপস্থিত ছিল না।

ওয়াশিংটন ডিসিতে আগস্ট থেকে ট্রাম্পের নির্দেশে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন রয়েছে, তবে প্রতিবাদের সময় সেখানে সৈন্য দেখা যায়নি শুধুমাত্র স্থানীয় পুলিশ ছিল।

রাজধানীর মিছিলে এক প্রতিবাদকারী হাতে ধরে ছিলেন একটি সাইনবোর্ড: 'আমি অ্যান্টিফা'।

৭৬ বছর বয়সী চাক ইপেস বলেন, এই শব্দটি 'বিকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে', আসলে এর মানে হচ্ছে তিনি 'শান্তি, শিশুসেবা, ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসী ও বর্ণবৈচিত্র্যের পক্ষে।'

তিনি বলেন, ট্রাম্প সবাইকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে কিন্তু তা কাজ করছে না। আমেরিকানরা ট্রাম্পকে নিয়ে গভীরভাবে বিভক্ত।

সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪০% আমেরিকান ট্রাম্পের কর্মক্ষমতাকে অনুমোদন করেছেন, ৫৮% অসন্তুষ্ট। এই হার তাঁর প্রথম মেয়াদের গড় জনপ্রিয়তার সমান, তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার ৪৭% অনুমোদনের চেয়ে কম।

সাধারণত, সময়ের সঙ্গে প্রেসিডেন্টদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। রয়টার্স/ইপসোস অনুযায়ী, জো বাইডেনের অনুমোদন হার ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ছিল ৫৫%, যা সেই বছরের অক্টোবরে নেমে আসে ৪৬%-এ।

ছাবেদ সাথী: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক ও মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সম্পাদক বাংলা প্রেস

বিপি।এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি