সৈয়দপুরে ‘শিশু মঙ্গল’ স্কুল নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কুচক্রী মহল
রমজান আলী টুটুল, সৈয়দপুর (নীলফামারী)প্রতিনিধি: সৈয়দপুরে শিশুমঙ্গল প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কুচক্রী মহল । ১৯৯২ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি সরকারি করণ করা হয় ২০১৩ সালে । জমিদাতা রেজাউল করিম পাটোয়ারির ৩৩ শত দানকৃত জমির উপর তিনটি ক্লাসরুমে শিশু থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় । আগে নিজেরা পরিচালনা করলেও বর্তমানে সরকারি নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে ।
সারেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নবনির্মিত দ্বিতল ভবন ও একটি একতলা ভবনে শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণীর পাঠদান চলছে । প্রাত্যহিক সমাবেশ সহ শিশু শ্রেনীর মনোরম পরিবেশে চার দেওয়ালে ও উপরের অংশে অক্ষর ,সংখ্যা, বিভিন্ন পশু পাখির ছবি অঙ্কিত কক্ষে পাঠদান চলছে ।ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মরিয়ম নেছার তদারকৃতি স্কুলটি প্রাণ চঞ্চল ফিরে পেয়েছে । স্লিপ ফান্ড এর অর্থ সহ বিভিন্ন কার্যক্রম সরকারি নিয়ম নীতি মেনেই চলছে ।স্কুলটি ধীরে ধীরে উন্নতর পথে যাওয়ার ফলে কিছু কুচক্রী মহলে ঈর্ষায় পরিণত হয়েছে ।
প্রধান শিক্ষক শাহানাজ আখতার জানান আমি এই স্কুলে যোগদানের পর থেকে লক্ষ্য করছি জমিদাতা রেজাউল করিম পাটোয়ারী সহ কিছু ব্যক্তি স্কুল নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন । স্কুল পরিচালনা পরিষদের আজীবন সদস্য হওয়ার পরও নিজের ইচ্ছে মতো মিটিংয়ে উপস্থিতি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তেমন সহযোগিতা করছেন না । এমন কি পরিচালনা পর্ষদের হাই স্কুল প্রতিনিধি আব্দুল মোমিন কে মিটিং ও রেজুলেশনে স্বাক্ষর দিতে নিষেধ করেন । স্কুলের মাঠে থাকা ছয়টি ইউকেলেক্টার গাছ নতুন ভবন নির্মাণের সময় কেটে নিয়ে যান , যার বাজার মূল্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা । এতে বাধা দেওয়ার পর থেকে তার সহযোগী ওয়ার্ড সদস্য নুরুন্নবী সহ কিছু ব্যক্তি স্কুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে । বর্তমানে আমরা (শিক্ষক )নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে ক্লাস নিচ্ছি । স্কুলটি ফাঁকা জায়গায় হওয়াতে রাতে মাদক সেবী ও জুয়ারুদের আড্ডা বসছে । কিছুদিন আগে ফ্যান , পানির পাম্প সহ বেশ কিছু বেঞ্চ চুরি হয়ে যায় । রমজান মাসে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় নবনির্মিত ভবনের ১২ টি ফ্যান ও ঠিকাদারের কার কাছ থেকে প্রাপ্ত একটি পানির পাম্প রেজুলেশন করে আমার কাছে সংরক্ষণ রাখি। এবং স্কুল খোলার পরে তা ধীরে ধীরে শ্রেণিকক্ষে লাগানো হয় । স্কুলের দুটি সাউন্ড বক্স জমিদাতার এক আত্মীয়ের বাড়িতে সংরক্ষণে রাখলে সেখান থেকে উধাও হয়ে যায় আমাদের স্কুলে বাউন্ডারি ওয়াল ও নৈশো প্রহরীর বিশেষ প্রয়োজন ।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মরিয়ম নেছা জানান স্কুল নিয়ে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে । আমি পদাধিকার বলে সভাপতি হিসেবে মিটিং দেখেছিলাম এবং সমস্যার বিষয়ে জানতে চেষ্টা করেছি । কিন্তু জমিদাতা এ পর্যন্ত আমার সাথে দূরত্ব বজায় রেখেছেন । তিনিসহ কিছু ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে । উনার মত শিক্ষা অনুরাগী মানুষের কাছ থেকে এমনটা আশা করিনি ।
জমি দাতা রেজাউল করিম পাটোয়ারী জানান আমার এলাকায় স্কুল না থাকার কারণে তেত্রিশ শতক জমির উপর স্কুলটি করি । আমার স্ত্রীসহ আত্মীয়রা শিক্ষকতা করেছেন সেখানে । বর্তমানে কিছু অনিয়মের কারণে আমি প্রতিবাদ করি এবং বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করি । বর্তমানে তা তদন্তাধীন রয়েছে । আমার অনুপস্থিতিতে সাবেক সভাপতি ও ওয়ার্ড মেম্বার নুরুন্নবীকে দায়িত্ব দেই । আমি চিরদিন থাকবো না কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি থাকবে । তাই সকলের কাছে অনুরোধ করব বৃহৎ স্বার্থ প্রতিষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালনায় সহযোগিতা করা ।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের খবর ভিত্তিহীন, সতর্কতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি