র্যাবের সক্ষমতা বাড়াতে কেনা হচ্ছে আরও ১৬৭টি গাড়ি
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) বহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন ১৬৭টি গাড়ি। এর জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। র্যাবের অভিযানের সক্ষমতা বাড়াতে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ থেকে এসব যানবাহন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাড়ি কেনার জন্য অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে গত মে মাসে র্যাবের জন্য ১৬৩টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
গত ২২ জুলাই র্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জাহিদুল করিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১৬৭টি গাড়ি কেনার বিস্তারিত চাহিদাপত্র পুলিশ সদরদপ্তরে পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ আগস্ট পুলিশ সদরদপ্তর এসব গাড়ি কেনার সুপারিশসহ প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময় ১৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কাছে এসব গাড়ি কেনার জন্য অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন চায়।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম পরিবর্তন করে নতুন নামে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় সরকারি নথিতে এখনও এলিট ফোর্সটির নাম ‘র্যাব’ হিসেবেই উল্লেখ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে বর্তমানে নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। গত ৮ জুলাই এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করে। তবে ওই পরিপত্রের আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা শিথিলযোগ্য। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, র্যাবের কার্যক্রমের সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস দমন ও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্পৃক্ত। তাই বিশেষ বিবেচনায় নতুন গাড়ি কেনার অনুমোদনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
র্যাবের বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন, স্পেশাল সেকশন ও মাঠ পর্যায়ের চাহিদা বিবেচনায় ১৬৭টি গাড়ির শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫০টি প্যাট্রল পিকআপ, ৪৪টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস, ৫০টি প্যাট্রল কার, তিনটি ডগ ভ্যান, ১০টি ট্রাক, তিনটি জিপ, দুটি রিকভারি ভেহিকল, একটি মোবাইল ওয়ার্কশপ ভেহিকল এবং চারটি রায়ট ভ্যান।
মে মাসে কেনা হয়েছে ১৬৩ গাড়ি
র্যাবের যানবাহন বহর পুনর্গঠনে এটি নতুন কোনো উদ্যোগ নয়। এর আগে গত ৭ মে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে র্যাবের জন্য আরও ১৬৩টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা ১২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা দিয়ে গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব গাড়ি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) সরবরাহের কথা রয়েছে।
প্রশাসনিক নথিপত্র অনুযায়ী র্যাবের জন্য অনুমোদিত যানবাহনের সংখ্যা তিন হাজার ১৪৫টি। এর বিপরীতে প্রকৃত ঘাটতি রয়েছে ৬৬৮টি। এর বাইরে ২৫৬টি গাড়ি অকেজো হিসেবে ঘাোষিত হয়েছে। আরও ৮৯টি গাড়ি অকেজো ঘোষণার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলার কাজে আগুনে পড়ে ভস্ম সাতটি। এ ছাড়া ৯৪৩টি বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ১০ বছরের বেশি পুরোনো। এসব গাড়ির গড় মাইলেজ লাখ কিলোমিটার অতিক্রান্ত হয়েছে। যা অভিযানে ব্যবহার করা কষ্টসাধ্য।
২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক সভায় ‘র্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৩৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। পরবর্তী সময় ব্যয় পুনর্মূল্যায়নের পর ২০৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা কমিয়ে প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৮২৭ কোটি ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ব্যয়ে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
কেনাকাটার প্রস্তাবনায় বলা হয়, র্যাব একটি অপারেশনাল ফোর্সেস। এ ফোর্সেসের আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কিন্তু বিগত বছরগুলো অর্থ মন্ত্রণালয় যানবাহন ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন অবশিষ্ট রয়েছে।
বিপি/টিআই
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি