বিদ্যুৎ বিলের অনুলিপিতে পাওয়া মুঠোফোন নম্বরে ফোন করে পাওয়া যায় এই সাঁওতালপাড়ার সরদার শ্যামল মুর্মুকে। তাঁর কথা থেকে পুরো কাহিনি জানা গেল। তিনি জানান, আগে তাঁদের বাড়ি ছিল গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ি এলাকায়। সেই এলাকা থেকে তাঁরা এদিকে কৃষিকাজে আসতেন। দূর থেকে আসতেন বলে এলাকার তিনজন কাউন্সিলর পাঁচ বছর আগে তাঁদেরকে এই পুলের ওপর বাড়ি করতে দিয়েছিলেন। সেই বাড়ি ছেড়ে তাঁরা যে যেদিকে পেরেছেন চলে গেছেন। এখনো ভয়ের মধ্যে আছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শ্যামল মুর্মু বলেন, ‘সেদিন ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে বাবলু পাড়ার এক মহিলাকে খিস্তি করছিলেন। এতে নিষেধ করলে তিনি রেগে যান এবং মালতি মুর্মু নামের এক মহিলাকে মারধর করেন। তখন পাড়ার যুবক ছেলেরাও বাবলুকে একটু মারে। ঘটনার পর মালতিকেও হাসপাতালে ভর্তি করি।’
শ্যামল মুর্মু জানান, এ ঘটনার পর দুপুরে বাবলু কয়েকজনকে নিয়ে এসে হরি, তাঁর স্ত্রী এবং মেয়েকে মারধর করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বিকেলে পুলিশ আসে। তারা সবাইকে শান্ত থাকার নির্দেশনা দিয়ে যায়। স্থানীয় বিএনপি নেতা মোকছেদ আলীও পুলিশের সঙ্গে এসেছিলেন। তাঁরা চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যার আগে আবার দলবল নিয়ে গিয়ে পাড়ায় হামলা করেন বাবলু। তাঁদের কাছে হাঁসুয়া, বল্লম ও ছোরা ছিল। এ রকম আক্রমণ দেখে সাঁওতালপাড়ার সবাই পালিয়ে যান। শ্যামল অভিযোগ করেন, পালানোর সময় কেউ কিছু নিয়ে যেতে পারেননি। সব লুটপাট হয়ে গেছে। তাঁর নিজের বাড়িতে ১০ হাজার টাকা ছিল। সেগুলো লুট হয়েছে। ২৫টি কবুতর ছিল। খাঁচাসহ কবুতরগুলোও নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।
এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে জানান শ্যামল মুর্মু। এ বিষয়ে গত রোববার পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ সাঁওতালদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পবা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে ইউএনও জানিয়েছেন।
পবা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, বাবলু আগেই একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। সাঁওতালদের পক্ষ থেকে শ্যামল, তাঁর স্ত্রী ও ছোটন নামের আরেকজন এসেছিলেন গতকাল রোববার সন্ধ্যায়। তাঁদের মামলা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এখন তিন দিন সময় চেয়েছেন। এখন তাঁরা মামলা না করলে তো জোর করে কিছু করা যায় না।
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
বিপি>টিডি