প্রাথমিকের বৃত্তির ফল ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা বরখাস্ত
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫-এর ফলাফল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই ওয়েব পোর্টালে আপলোড হওয়ার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। তবে বিধি অনুযায়ী তিনি খোরাকি ভাতা পাবেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের আগে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫-এর ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড করার সময় প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়নি। এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ১২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে মো. মেহতাব কায়েসকে ৯ জুলাই থেকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে নির্ধারিত সময়ের আগেই ঢাকা বিভাগের নয়টি জেলার বৃত্তি পরীক্ষার ফল ওয়েবসাইটে দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই ফলাফল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফল প্রকাশের গোপনীয়তা ও তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রস্তুত করা হয়। ফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েব লিংক তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের আগে কোনো অবস্থাতেই ফলাফল লাইভ সার্ভার বা ওয়েব পোর্টালে আপলোড না করার বিষয়ে তাকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বিভাগের নয়টি জেলার ফলাফল সংশ্লিষ্ট লিংকে আপলোড করা হয়। লিংকটি সক্রিয় হওয়ার পর অভিভাবক ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফলাফল দেখতে এবং ডাউনলোড করতে সক্ষম হন। পরে সেটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পরিচালকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাইভ সার্ভারে লিংক তৈরি ও ফলাফল আপলোডের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা প্রটোকল মানা হয়নি। এই নিরাপত্তা ত্রুটির কারণেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই ফলাফল জনসাধারণের কাছে পৌঁছে যায়।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর সই করা এক চিঠিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সুপারিশ করা হয়।
একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. মিরাজুল ইসলাম উকিলকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপবৃত্তি বিভাগের শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল কবির সুমন এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) রোকসানা হায়দার।
তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিপি/টিআই
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি