পাকিস্তানে তেলের ভাণ্ডার নিয়ে ট্রাম্পের দাবি কতটা সত্যি?
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: পাকিস্তানে খনিজ তেলের ‘বিশাল ভাণ্ডার নিয়ে সেদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘোষণা দিয়েছেন। তার মতে, এই চুক্তির আওতায় দুই দেশ মিলে পাকিস্তানের তেল সম্পদ উন্নয়নে কাজ করবে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ বলেন, ‘আমরা এখন সেই সংস্থাগুলো বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছি যারা এই প্রকল্পে যুক্ত হবে।কে জানে, হয়তো একদিন তারা ভারতকেও তেল রপ্তানি করবে!’এই ঘোষণা এমন এক সময় এলো যখন পাকিস্তানে খনিজ তেল ও গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। গত কয়েক বছরে দেশটির তেল উৎপাদন প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। ফলে দেশের চাহিদার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে।
তেলের ভাণ্ডার কোথায়?
ট্রাম্পের ঘোষণার পরেই পাকিস্তানে এবং আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এই ‘বিশাল ভাণ্ডার’ আসলে কোথায়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানে আগে যেসব খনি পাওয়া গেছে যেমন সুই, কাদিয়ারপুর, উচ ও মোরি—সেগুলোর অনেকগুলোর উৎপাদনও কমে গেছে।পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম ইনফরমেশন সার্ভিসেস বলছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে আনুমানিক ২.৩৮ কোটি ব্যারেল প্রমাণিত খনিজ তেলের মজুত রয়েছে। তবে ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, সম্ভাব্য মজুত প্রায় ৯০০ কোটি ব্যারেল। যদিও এসব তথ্য বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
বর্তমানে অনুসন্ধান কোথায় চলছে?
সিন্ধ প্রদেশে এখন সবচেয়ে বেশি অনুসন্ধান চলছে। সেখানে ২৪৭টি কূপ রয়েছে, যেখানে পাঞ্জাবে ৩৩টি, খাইবার পাখতুনখোয়ায় ১৫টি এবং বালুচিস্তানে চারটি কূপ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বালুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে কার্যক্রম সীমিত। তবে সম্প্রতি লাকি মারওয়াত ও বন্নু অঞ্চলে কিছু আশাব্যঞ্জক সন্ধান মিলেছে।মার্কিন সংস্থা অক্সিডেন্টাল পেট্রোলিয়াম এবং ইউনিয়ন টেক্সাস অতীতে পাকিস্তানের জ্বালানি খাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। ট্রাম্পের ঘোষণায় আবারও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যে বড় মার্কিন কম্পানি পাকিস্তানে ফিরতে পারে।
চীনা বিনিয়োগে প্রভাব পড়বে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন অংশগ্রহণে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হবে না, বরং প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞ ওয়াসি খান বলেন, ‘চীনা বিনিয়োগে যে ঘাটতি আছে, মার্কিন অংশীদারিত্ব তা পূরণ করতে পারে। আবার চীনারাও নির্মাণ ও প্রযুক্তি সরবরাহে অংশ নিতে পারে।’
ট্রাম্পের ‘ভারতকে একদিন পাকিস্তান তেল বিক্রি করবে’ মন্তব্য ঘিরে দুই দেশেই নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পাকিস্তানি রাজনৈতিক বিশ্লেষক হুসেইন নাদিম ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘আমরা আজকে জানলাম আমাদের বিশাল তেলের ভাণ্ডার আছে।’ আর ফয়সাল রাঞ্ঝা মন্তব্য করেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসলে ভারতের সঙ্গে মজা করছেন, এটা মোদীর জন্য অপমানজনক।’
ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্রসচিব কানওয়াল সিবাল ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক ও দম্ভপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেন, “এটা আসলে ভারতের ওপর চাপ তৈরির কৌশল।’ সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই হঠাৎ ঘোষণায় যেমন আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তেমনি অনেক প্রশ্নও উঠেছে। প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের তেলের এই ‘বিশাল ভাণ্ডার’ কতটা বাস্তব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখানে কতটা এগিয়ে আসবে, তা সময়ই বলে দেবে।
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
বিপি>টিডি
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তর্জাতিক
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
১ দিন আগে
by বাংলা প্রেস
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি