২১ জুন ২০২৬

পাকিস্তানে পেট্রলের দাম বাড়লো ৪৩ শতাংশ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৭ বিকাল
পাকিস্তানে পেট্রলের দাম বাড়লো ৪৩ শতাংশ

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: পাকিস্তানে পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা ভোক্তাদের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর্মসূচির অধীনে সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে বৃহস্পতিবার এই দাম বাড়ানো হয়।

নতুন ঘোষণায় পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৩৭ রুপি বেড়ে ৪৫৮.৪ পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছে, যা ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি। অন্যদিকে হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ১৮৫ রুপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২০.৩৫ রুপিতে, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় মূল্যবৃদ্ধি। এর আগে গত ৬ মার্চ পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৫৫ রুপি বাড়ানো হয়েছিল।

এছাড়া কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৩৪ রুপি বেড়ে ৪৬৮ রুপি এবং লাইট ডিজেল অয়েলের দাম ৩০ রুপি বেড়ে ৩৯৫ রুপিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজস্ব বাড়াতে পেট্রোলের ওপর পেট্রোলিয়াম লেভি লিটারপ্রতি ১০৬ রুপি থেকে বাড়িয়ে ১৬১ রুপিতে উন্নীত করা হয়েছে। তবে হাই-স্পিড ডিজেলের ক্ষেত্রে লেভি তুলে দেওয়া হয়েছে, শুধু লিটারপ্রতি ২.৫ রুপি কার্বন লেভি বহাল রাখা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, হঠাৎ করে মজুতদারি ও আতঙ্কে কেনাকাটা ঠেকাতে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘোষণা করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং আইএমএফ অতিরিক্ত ভর্তুকির অনুমতি না দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। আইএমএফ জ্বালানি খাতে মোট ভর্তুকির সীমা ১৫২ বিলিয়ন রুপিতে বেঁধে দিয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যে তিন সপ্তাহ ধরে দাম অপরিবর্তিত রেখে প্রায় ১২৯ বিলিয়ন রুপি ভর্তুকি দিয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৬ ডলারের বেশি এবং পেট্রোলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

সরকার জানিয়েছে, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং রাজস্ব ঘাটতি এড়াতে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা জরুরি ছিল। একই সঙ্গে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী, কৃষক, মোটরসাইকেল চালক এবং গণপরিবহন খাতকে লক্ষ্য করে সীমিত ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে সরকার ১০০ বিলিয়ন রুপি উন্নয়ন বাজেট কমিয়েছে, অ-বেতনভুক্ত ব্যয় ২০ শতাংশ কমিয়েছে এবং সরকারি যানবাহনের জ্বালানি সুবিধাও হ্রাস করেছে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, একদিকে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সুবিধা-ভোগ কমেনি।

পেট্রোলিয়াম খাতের সংশ্লিষ্টরা নতুন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এতে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে এবং আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।

বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং আয় বৈষম্যের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, জ্বালানির দাম আরও বাড়লে তা পরিবহন, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।

সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে, যাতে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, রপ্তানি খাতকে সহায়তা দেওয়া এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা যায়। সূত্র: পাকিস্তান টুডে

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি