বাংলাদেশ ন্যাপ'র প্রতিবাদ :
‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা’ ও ‘মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি’ বাতিল সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত
।। এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।।
‘জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জনস্বার্থ পরিপন্থি ও গণবিরোধী এই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।
সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা জনস্বাস্থ্য অধিকার ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ওষুধের মূল্য নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান নীতিগত ভিত্তি। সরকার জনস্বাস্থ্যের চেয়ে ওষুধ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা বাতিলের মধ্য দিয়ে মূলত সাধারণ জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করেছে।’
তারা বলেন, ‘স্বাস্থ্য কোনও বিলাসিতা নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। ওষুধ কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্য নয়; এটি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত একটি মৌলিক প্রয়োজনীয় দ্রব্য। তাই জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্যনিয়ন্ত্রণ দুর্বল বা বাতিল করা হলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগী এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ওষুধের মূল্য সম্পূর্ণভাবে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের চিকিৎসা গ্রহণের অধিকার আরও বেশী সংকুচিত হবে।জীবনরক্ষাকারী ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দায়িত্ব থেকে সরে আসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, গ্রহনযোগ্য হতে পারে না। এটি ক্ষমতাসীন সরকারের গণবিরোধী পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নয়।’
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ‘বাজারের ওপর ১৮০টি প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হলে এসব ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের বিকাশে ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধ নীতি একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। সেই নীতির মূল দর্শন ছিল জনগণের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আজ সেই নীতিগত ভিত্তি থেকে সরকার সরে আসার মাধ্যমে সরকার জনগণের চাইতে ব্যবসায়ীদের স্বার্থকেই গুরুত্ব প্রদান করছে। চলতি বছর জানুয়ারিতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণ করে ২৯৫টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল; এসব ওষুধের সরকার-নির্ধারিত মূল্য নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা এবং অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মূল্য নির্ধারণের একটি পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছিল। সরকার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও বাজারনির্ভর করার পথে এগোচ্ছে।’
বাংলাদেশ ন্যাপ নেতৃদ্বয় বলেন, ‘জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কোনোভাবেই ওষুধের বাজারকে অনিয়ন্ত্রিত মুনাফার সুযোগ করে দেওয়া রাষ্ট্রের উচিত নয়। সরকার যদি পূর্ববর্তী তালিকা বা মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি খুঁজে পেয়ে থাকে, তবে তা বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্যবিদ, ওষুধ প্রশাসন, রোগী প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধন করতে পারত। কিন্তু কোনো গ্রহণযোগ্য জনপরামর্শ ছাড়াই সম্পূর্ণ নীতিমালা বাতিলের মাধ্যমে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত জনমণে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা সৃষ্টি করেছে। ’
নেতৃদ্বয় সরকারের প্রতি অবিলম্বে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে, ‘প্রয়োজনীয় ওষুধের কার্যকর মূল্যনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, বাজার তদারকি জোরদার করা, নতুন করে ওষুধ কোম্পানিগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া ১৮০টি ওষুধের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং রোগীবান্ধব জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। একই সাথে অবিলম্বে ‘জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা’ ও ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি’ পুনর্বহাল, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শুরু এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওষুধের মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।’
তারা বলেন, ‘জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অধিকার নিয়ে কোনো ব্যবসা বা পরীক্ষানিরীক্ষা চলতে পারে না। জনস্বার্থবিরোধী এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করে মানুষের চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করি। অন্যথায় সরকাররে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের জন্য সরকারকেই মাসুল প্রদান করতে হবে। ’
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি