নেইমারকে না নামানোর কারণ জানালেন আনচেলত্তি
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: জাপানকে নাটকীয়ভাবে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। তবে হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো ভক্তের মনে ম্যাচজুড়ে ছিল কেবল একটিই প্রশ্ন—কেন মাঠে নামানো হলো না নেইমার জুনিয়রকে? ম্যাচ শেষে সেই রহস্যের জট খুললেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি ব্যাখ্যা করেন, নেইমারকে নিয়ে তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল, তবে খেলার গতিপ্রকৃতি তাকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করে। ইতালিয়ান এই কোচ জানান, অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ালে নেইমারকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গ্যাব্রিয়েল মার্তেনেল্লির শেষ মুহূর্তের গোলে নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটেই জয় নিশ্চিত হওয়ায় আর সেই প্রয়োজন পড়েনি।
আনচেলত্তি বলেন, 'আমরা ভেবেছিলাম, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গেলে নেইমারকে নামানো হবে। আমি ওর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছিলাম। ৬০ বা ৬৫ মিনিটের দিকে ওকে নামানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আমরা সমতায় ফিরলাম, এরপর দলের ছন্দ ও কৌশল বদলাতে চাইনি। কারণ তখন ম্যাচ পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।'
দ্বিতীয়ার্ধে নেইমারকে ওয়ার্ম-আপ করতে দেখা গেলে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। ৭০ মিনিটের পর হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামের তার নাম ধরে স্লোগানও শুরু হয়। তবে আনচেলত্তি দ্রুতই তাকে ওয়ার্ম-আপ থেকে ফিরিয়ে এনে অন্য খেলোয়াড়দের দিকে মনোযোগ দেন, যা উপস্থিত সমর্থকদের কিছুটা অবাক করে।
ম্যাচে প্রথমার্ধে কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ব্রাজিল। তবে বিরতির পর কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে সেলেসাওরা। এরপর যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের নিখুঁত পাস থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্তেনেল্লি জয়সূচক গোল করে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন।
প্রথমার্ধের ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিলকে দ্বিতীয়ার্ধে টেনে তোলেন কাসেমিরো। ৫৬ মিনিটে তার দুর্দান্ত হেডে সমতা ফিরে আসে ব্রাজিল শিবিরে। এরপর নির্ধারিত সময়ের যোগ করা ষষ্ঠ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের নিখুঁত পাসে গ্যাব্রিয়েল মার্তেনেল্লির লক্ষ্যভেদ ব্রাজিলকে এনে দেয় শ্বাসরুদ্ধকর জয়।
ম্যাচ শেষে নিজের দলের গভীরতা ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন আনচেলত্তি, 'মাঠে এবং বেঞ্চে আমাদের অনেক বিকল্প আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খেলোয়াড়রা ব্যক্তিগতভাবেও দারুণ পারফরম্যান্স করছে। এমন পারফরম্যান্স অবশ্যই মূল্যায়ন করা উচিত। এটি খুব কঠিন একটি ম্যাচ ছিল।'
আনচেলত্তি প্রতিপক্ষ জাপানের প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, 'জাপান মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। তারা অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং ভীষণ তীব্রতা নিয়ে খেলেছে। এই জয় আমাদের দলের গভীরতা ও মানসিক দৃঢ়তাকেই প্রমাণ করে।"
এখন কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করবে সেলেসাওরা। ৬ জুলাই নিউজার্সির নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে নরওয়ে বা আইভরি কোস্ট—কার মুখোমুখি হবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা, তা জানার অপেক্ষায় এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা।
বিপি/টিআই
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি