মিসরে আইএইএ প্রধানের সঙ্গে দেখা করবেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মিসরে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে বৈঠক করবেন। আজ মঙ্গলবার তাদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। দুই মাস আগে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান। এ ঘটনার পরে এটিই তাদের মধ্যে প্রথম বৈঠক হতে যাচ্ছে।ইসরায়েলের সঙ্গে গত জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এটি হবে তেহরান ও আইএইএর মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। ওই যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর পরপরই ইরান আইএইএর সঙ্গে সব সহযোগিতা করা স্থগিত করে। তখন তেহরান অভিযোগ করে, আইএইএ ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ‘কায়রো সফরের সময় জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালকের সঙ্গে ইরান ও সংস্থার মধ্যে নতুন এক প্রোটোকল চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।’
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে, আজ মঙ্গলবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাত্তি, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি এবং আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি উপস্থিত থাকবেন।
এবার ইরান জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সংস্থাটির সঙ্গে তাদের সহযোগিতার বিষয়টি নতুন আকারে হবে।ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর গত মাসে আইএইএর একদল পরিদর্শক স্বল্প সময়ের জন্য ইরানে ফিরে আসে এবং বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি প্রতিস্থাপনের তদারকি করে দ্রুত দেশ ছেড়ে যায়। তবে তাদের ফোরদো ও নাতাঞ্জসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই স্থাপনাগুলো সাম্প্রতিক ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
পশ্চিমা দেশ ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ তুলে আসছে। তবে তেহরান বারবার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি মেনে চলতে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে পশ্চিমা শক্তিগুলো। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি চুক্তির আওতায় জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে এই তিন দেশ সতর্ক করে আসছে যে, ইরান তার পারমাণবিক চুক্তি ভঙ্গ অব্যাহত রাখলে তারা তথাকথিত ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা সক্রিয় করবে।
‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো চুক্তি বা নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা পক্ষ যদি চুক্তি ভঙ্গ করে, তাহলে পূর্বে তুলে নেওয়া নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় কার্যকর হয়ে যায়। তখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। এই ব্যবস্থাটি ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তিতে (জেসিপিওএ) অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইরান চুক্তি না মানলে তার বিরুদ্ধে আরোপিত পূর্বের নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার চালু হওয়ার কথা ছিল সেখানে।
তবে, ইরান এ পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং সতর্ক করেছে যে, এতে আইএইএর সঙ্গে তাদের সহযোগিতা আরো দুর্বল হবে।
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
বিপি>টিডি
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তর্জাতিক
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
১ দিন আগে
by বাংলা প্রেস
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি