মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে সৌদি
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সৌদি আরবের কাছে ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে ৪৮টি এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সৌদির সর্বশেষ বড় অস্ত্র ক্রয়।
বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, দীর্ঘদিন ধরে এফ-৩৫ কেনার আগ্রহ দেখিয়ে আসছে রিয়াদ। তবে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে একমাত্র এফ-৩৫ ব্যবহারকারী দেশ ইসরায়েল সৌদির কাছে এই যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
এফ-৩৫ একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, যা রাডারে সহজে ধরা পড়ে না।
এটি আকাশ ও স্থল— দুই ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালাতে পারে। সৌদি আরব এফ-৩৫ পেলে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে ইসরায়েলের পর দ্বিতীয় দেশ হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রি সৌদি আরবের নিজ ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা জোরদার করবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবেলায় দেশটির প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সমন্বয় সক্ষমতাও উন্নত হবে।
সৌদি দূতাবাস এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি সম্পর্কের শক্তি ও দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তির প্রতিফলন। দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে ভূমিকা রেখেছে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর তেহরানের বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য হয়েছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলারও শিকার হয়েছে দেশটি।
এদিকে, সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে।
চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আইনপ্রণেতাদের সম্মতি প্রয়োজন। তবে যুদ্ধবিমান সরবরাহের সময়সীমা জানানো হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই বিক্রি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনবে না। কারণ, দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির অংশ হিসেবে সম্ভাব্য আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের তুলনায় ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এতদিন কেবল ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছেই এফ-৩৫ বিক্রি করেছে। তবে চীনা গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের অংশীদারির মাধ্যমে বেইজিং এফ-৩৫-এর প্রযুক্তি পেতে পারে বলে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছর সৌদি আরবের একাধিক বড় অস্ত্র কেনার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেপ্টেম্বরে রিয়াদের কাছে ৫ বিলিয়ন ডলারে ১০ হাজারের বেশি বোমা, যার মধ্যে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমাও রয়েছে, বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ৭৫০ মিলিয়ন ডলারে ৬০টি ট্যাংক ইঞ্জিন এবং জুলাইয়ে ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারে রকেটকে নির্ভুল অস্ত্রে রূপান্তরের সরঞ্জাম বিক্রির চুক্তিও অনুমোদন করেছে ওয়াশিংটন।
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করবে বাংলাদেশ, যা বলল ভারত
সঙ্গীত একাডেমি