৪ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি: ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরজুড়ে আতঙ্ক

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:০১ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি: ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরজুড়ে আতঙ্ক

 

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান তাদের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েল-এর হামলার জেরে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন-এ। এতে চার দেশেই সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজানো হয় এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এগুলো আকাশেই ধ্বংস করে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ শহরের বিভিন্ন স্থানে পড়ে কিছু জায়গায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

 

একই সময় সৌদির পূর্বাঞ্চলের একটি গ্যাস স্থাপনার দিকে আসা একটি ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে। সেটিও লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কাতার-এর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাস লাফান এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইরানের হামলার পর এই আগুনের ঘটনা ঘটে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কুয়েত-এ গত ২৪ ঘণ্টায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ ধরনের মোট ঘটনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২১। একই সময়ে ৯৪ বার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়েছে।

বাহরাইন-এও সাইরেন বাজানো হয়েছে। দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনার আশপাশের এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। এসব স্থাপনাকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র-এ বুধবার ইসরায়েলের হামলার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তেহরান প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর গ্যাসক্ষেত্র লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথা জানায়। কাতার এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করা পুরো অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি,”—এমন মন্তব্য দেশটির এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত এখন শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জ্বালানি স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।


বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি