মাত্র দুই দিনে ১৭৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন ইলন মাস্ক
নোমান সাবিত: আপনি যদি ভাবেন ধনীরা আগেই ধরাছোঁয়ার বাইরে, তাহলে ইলন মাস্ক বিষয়টিকে একেবারে অন্য স্তরে নিয়ে গেছেন। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে টেসলার প্রধানের সম্পদ বেড়েছে চোখ কপালে তোলার মতো ১৭৮ বিলিয়ন ডলার। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি আবারও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন আর বাকিদের সবাইকে কার্যত হতবাক করে দিয়েছেন।
খেয়াল রাখতে হবে, এই পরিসংখ্যান কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬৪৮ বিলিয়ন ডলার। ফরচুন–এর তথ্য অনুযায়ী, জীবিত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তির তুলনায় তিনি প্রায় দ্বিগুণ সম্পদের মালিক। এটি মাস্কের জন্য নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর হলেও, একই সঙ্গে প্রশ্ন জাগে এই ১৭৮ বিলিয়ন ডলার যদি বাস্তবে কাজে লাগানো হতো, তাহলে কী করা যেত? আমরা সেটাই ভেবে দেখেছি, আর সম্ভাবনাগুলো সত্যিই অবাক করার মতো।
স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা পুরোপুরি বহন করা যেত
যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূরক পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি (স্ন্যাপ) কম আয়ের পরিবারগুলোকে খাবার জোগাড়ে সহায়তা করে। এটি দেশের সবচেয়ে বড় পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি, যা ২০২৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তরের (ইউএসডিএ) মোট পুষ্টি ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল। গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, যার জন্য বছরে ফেডারেল সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় ৯৯.৮ বিলিয়ন ডলার—যা ইলন মাস্কের দুই দিনের সম্পদ বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম।
বেসরকারি শিক্ষাঋণ পুরোপুরি শোধ করা যেত
২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি শিক্ষাঋণের মোট পরিমাণ ছিল ১৪৪.৯ বিলিয়ন ডলার, যা মোট শিক্ষাঋণের মাত্র ৮.০২ শতাংশ। এই অঙ্কও মাস্কের দুই দিনের ১৭৮ বিলিয়ন ডলার সম্পদ বৃদ্ধির সামনে টিকতে পারে না। তাত্ত্বিকভাবে তিনি চাইলে দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাঋণ একেবারে মুছে দিতে পারতেন, যা মাসিক কিস্তির বোঝায় জর্জরিত লাখো মার্কিন নাগরিককে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিত। আর তবুও তার হাতে থেকে যেত আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার—সম্ভবত একটি ইয়ট কেনার মতো, বা ধনীরা সাধারণত যা করে (আমরা অবশ্য সে অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত নই)।
পরিষ্কার পানির অবকাঠামো উন্নয়ন করা যেত
বাইপার্টিজান ইনফ্রাস্ট্রাকচার আইন অনুযায়ী, পানযোগ্য পানি ও বর্জ্য পানির অবকাঠামো উন্নয়নে ফেডারেল সরকার ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে—হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ খাতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। এর মধ্যে সীসার পাইপ পরিবর্তনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম রয়েছে, যাতে সারা দেশে নিরাপদ ও পরিষ্কার পানির নিশ্চয়তা দেওয়া যায়।
তবুও আজও ৯ মিলিয়নের বেশি বাড়ি, স্কুল, ডে-কেয়ার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীসার পাইপের মাধ্যমে পানি পায়, যা লাখো মানুষকে সীসা বিষক্রিয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে। সেই ‘ভালোমতো’ ১৭৮ বিলিয়ন ডলার থাকলে স্পেসএক্সের বিলিয়নিয়ারকে এসব চাহিদা পূরণ করতে একেবারেই বেগ পেতে হতো না—এবং তাতেও তার হাতে থেকে যেত আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার।
আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, আমরা কোথায় যেতে চাইছি। ইলন মাস্কের মাত্র দুই দিনের ১৭৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বৃদ্ধি একাই SNAP কর্মসূচির পূর্ণ অর্থায়ন, বেসরকারি শিক্ষাঋণ পুরোপুরি মওকুফ, আবাসন উন্নয়ন, পরিষ্কার পানির ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ আরও অনেক কিছুই সম্ভব করে তুলতে পারত—যা বিশেষ করে শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মুখোমুখি থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রকট সমস্যাগুলো সমাধানে বড় ভূমিকা রাখতে পারত।
তবে এসবই আসলে কেবল একটি চিন্তানিরীক্ষা। বাস্তবে সাধারণ মানুষ এর এক পয়সাও দেখবে না—ঠিক আছে, সেটাই মেনে নেওয়া যাক (চুপিচুপি একফোঁটা চোখের জল ফেলেই)।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি