মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করে 'দাড়ি কেটে ফেলার' পরামর্শ দিল আইসিই

ইমা এলিস: যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যাসিবাদের কতটা বিস্তার ঘটেছে, যখন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) এমন একজন মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করে যার কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই,শুধু তার চেহারার জন্যএবং তারপর বলে, 'তোমার দাড়ি কেটে ফেলো।' ঠিক এমনটাই ঘটেছে হিউস্টনের ৩৩ বছর বয়সী মিগুয়েল পন্স জুনিয়রের সঙ্গে, যার চেহারা তাকে গ্রেপ্তার ও আটক করিয়ে দিয়েছে।
টেক্সাসে জন্ম নেওয়া পন্স যখন কাজে যাচ্ছিলেন, তখন ICE এজেন্টরা তাকে থামায়। বৈধ পরিচয়পত্র দেখানোর পর এবং তিনি যে একজন জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক এবং তার কোনো অপরাধ নেই, তা জানানোর পরও তাকে হাতকড়া পরিয়ে অজ্ঞাত আরেক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি নিউজউইকের মাধ্যমে খুউ-কে বলেন। আমি নিজেকে একরকম অপহৃত মনে করছিলাম, তারা আমাকে বলল আমার বিরুদ্ধে নাকি ডিপোর্টেশনের আদেশ আছে, হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে গেল এক অন্য জায়গায়।
তিনি বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি কলেজ স্টেশনে জন্মেছেন এবং কখনও গ্রেপ্তার হননি তবুও আইসিই এজেন্টরা কিছুতেই শুনতে চায়নি। ওয়ারেন্টও দেখাতে পারেনি তারা। এজেন্টরা দাবি করছিলেন, তিনি তাদের এক তালিকাভুক্ত সহিংস অপরাধীর মতো দেখতে।
শেষ পর্যন্ত পন্স যখন তার ট্যাটুগুলো দেখান যা সন্দেহভাজনের সঙ্গে মেলেনি তখন তারা তাকে ছেড়ে দেয়। পন্স জানান তবে দুঃখপ্রকাশের বদলে তারা দেন এক অপমানজনক উপদেশ: তারা বলল ‘তোমার দাড়ি কেটে ফেলো, তাহলে আর ভুল হবে না।’
যখন ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (মাগা) গোষ্ঠী স্বাধীনতার কথা বলে, তখন দেখাই যাচ্ছে, চেহারার স্বাধীনতাও তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেছে।
নিউজউইককে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ বিবৃতিতে পন্স বলেন, 'আমি কখনও আমার দাড়ি কাটব না। এটা অসম্মানজনক। কতটা সাহস হলে কেউ এমন কিছু বলতে পারে।'
আইডি দেখানোর পর, এজেন্টরা তাকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। তিনি বারবার বললেও যে তিনি একজন মার্কিন নাগরিক, এজেন্টরা কোনো ওয়ারেন্ট দেখাননি। বরং তারা একটি ছবি দেখান, যেখানে একজন অপরাধীর মতো দেখতে বলেই তার ওপর সন্দেহ করে।
প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা হাতকড়া পরিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়। এ সময় তিনি বারবার জানান যে তারা ভুল মানুষকে আটক করেছে, কিন্তু এজেন্টরা পাত্তাই দেয়নি।
পন্স বলেন, এজেন্টরা মনে করছিল যেন এটা একটা খেলা, তারা বলছিল অনেক লোক আমার সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ব্যবহার করছে। আমি প্রমাণ চাইলে তারা বিষয়টা এড়িয়ে যায়। আমি বলছিলাম, আমি সেই লোক না। তারা বলছিল, ‘তুমি বললেই সেটা সত্যি হয়ে যায় না।
এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বাড়াবাড়ি এবং বর্ণবৈষম্য ও জাতিগত প্রোফাইলিং-এর উদ্বেগজনক নিদর্শন হিসেবে সামনে এসেছে।
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি। সিএসআপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি