৫ মে ২০২৬

মামদানির বিরোধিতা সত্ত্বেও কি নিউইয়র্কের পেনশন তহবিলের অর্থ ইসরায়েলে বিনিয়োগ হতে যাচ্ছে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
মামদানির বিরোধিতা সত্ত্বেও কি নিউইয়র্কের পেনশন তহবিলের অর্থ ইসরায়েলে বিনিয়োগ হতে যাচ্ছে

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  গাজায় চলমান জাতিগত নিধন এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে বর্ণবাদী ব্যবস্থা বজায় রাখা সত্ত্বেও নিউ ইয়র্ক নগরের পেনশন ফান্ড আবারও ইসরায়েলের সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ শুরু হতে পারে। এতে জনগণের করের টাকা সরাসরি ইসরায়েলের সরকারি কোষাগারে চলে যাবে।

গত শনিবার যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ আবার এই বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে। অথচ শহরের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে সেখান থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।

নিউইয়র্ক নগরের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মার্ক লেভিন ফাইন্যান্সিয়াল  বলেন, ‘ইসরায়েলি বন্ডগুলোর পারফরম্যান্স খুব ভালো এবং সেগুলোর বিনিয়োগ মানও বেশ উন্নত। আমার দায়িত্ব হলো আগের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া।’ইসরায়েলি সরকারি বন্ড মূলত রাষ্ট্রকে সরাসরি দেওয়া একধরনের ঋণ। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা নিয়মিত সুদ পান আর ইসরায়েল সরকার সরাসরি অর্থ পায়।

সমালোচকেরা বলছেন, এ ধরনের বিনিয়োগের অর্থ হলো ইসরায়েলের বর্ণবাদী নীতি, অবৈধ বসতি স্থাপন, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে বেসামরিক মানুষ হত্যায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া।

নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষের বিনিয়োগের এই উদ্যোগ সিটি হলের ভেতরে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। ১ জানুয়ারি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জোহরান মামদানির প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের একটি আদেশ বাতিল করা। ওই আদেশে নিউইয়র্ক শহরের সংস্থাগুলোর জন্য ইসরায়েলকে বর্জন বা সেখান থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের হামলার দীর্ঘদিনের সমালোচক জোহরান দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বলেছিলেন, ‘নিউইয়র্কের এমন কোনো তহবিল থাকা উচিত নয়, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের কাজে বিনিয়োগ করা হয়।’

মার্ক লেভিন নিজে ইহুদি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, পেনশনের বিনিয়োগ–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখা উচিত। এগুলো কেবল আর্থিক মাপকাঠিতে হওয়া উচিত।

যদিও মুডিস-এর মতো রেটিং সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলি বন্ড এখন ‘ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ’। তবু লেভিন সেগুলো কেনার তোড়জোড় শুরু করেছেন।

এ অবস্থায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত একটি রাষ্ট্রে নিউ ইয়র্কের পেনশন তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করা ঠিক হবে কি না।

এই বিতর্ক কয়েক দশকের পুরোনো অভ্যাসের ঠিক বিপরীত। ৫০ বছর ধরে নিউ ইয়র্ক নিয়মিতভাবে লাখ লাখ ডলার ইসরায়েলি বন্ডে বিনিয়োগ করে আসছিল।

তবে ২০২৩ সালে তৎকালীন আর্থিক কর্মকর্তা ব্র্যাড ল্যান্ডার এই প্রথা ভেঙে দেন। তিনি নতুন করে বন্ড না কিনে আগের বন্ডগুলোর মেয়াদ শেষ হতে দেন।

ল্যান্ডার তখন বলেছিলেন, ইসরায়েলকে কোনো বিশেষ ছাড় না দিয়ে অন্য সব দেশের মতো সাধারণ মানদণ্ডে বিচার করা হবে।

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি