মাছির অত্যাচারে অতিষ্ঠ রাজশাহীর এক গ্রামের মানুষ, প্রতিকার না পেলে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরীপুর গ্রামে এখন যেন সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের নাম মাছি। একটি মুরগির খামার থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রামের শতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা। চায়ের কাপ থেকে শুরু করে ভাতের পাতে, এমনকি নবজাতকের শরীরেও বসছে মাছি। দীর্ঘদিন অভিযোগ করেও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় এবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস ধরে খামারে মুরগির বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ না করায় ভয়াবহ দুর্গন্ধ ও মাছির বিস্তার ঘটেছে। এতে গ্রামের প্রায় ১২০টি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, ঘরে খাবার রাখা যাচ্ছে না, রান্নার সময় মাছি খাবারের ওপর ভিড় করছে। অতিথিরাও এখন আর গ্রামে আসতে চান না। অনেকের অভিযোগ, খাবারের সঙ্গে মাছি মুখে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
সন্তান জন্মের পর বিশেষ দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন গৃহিণী লিপি খাতুন। তিনি বলেন, নবজাতকের শরীর ও মুখে সবসময় মাছি বসে। শিশুকে নিরাপদ রাখতে সারাক্ষণ মশারি টাঙিয়ে রাখতে হচ্ছে। এমনকি রেফ্রিজারেটরের ভেতরেও মাছি ঢুকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গ্রামবাসীরা জানান, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পরিবেশ অধিদপ্তরে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। তবুও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
অভিযোগের বিষয়ে খামারের মালিক মোহাম্মদ স্বপন বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি খামারের মুরগি ইতোমধ্যে বিক্রি করা হয়েছে এবং বাকি খামারে মশারি ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, মাছির জীবনকাল মাত্র ১৪ দিন, তাই কিছুদিনের মধ্যেই সমস্যা কমে যাবে। পাশাপাশি তিনি জানান, ব্যাংকের ঋণের চাপের কারণে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, দুর্গন্ধ এবং পরিবেশ দূষণের সত্যতা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামারের কার্যক্রম স্থানীয় জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয়ের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন জানিয়েছেন, তদন্তে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই খামার মালিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে প্রশাসনিক পদক্ষেপের অপেক্ষায় না থেকে গ্রামের অনেক বাসিন্দাই এখন আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের একটাই দাবি মাছির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা।
বিপি/এসআর
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত করিডোরের কথা আলোচনা হয়েছে: মাহদী আমিন
সঙ্গীত একাডেমি