৯ আগস্ট ২০২৬

কানেকটিকাট প্রবাসীদের অনৈক্যের পেছনে কাজ করছে বিশ্বাসঘাতক হেলাল

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
কানেকটিকাট প্রবাসীদের অনৈক্যের পেছনে কাজ করছে বিশ্বাসঘাতক হেলাল
নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী কাল রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশিদের অন্যতম সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট (বাক)-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। গোটা অঙ্গরাজ্যজুড়ে বাক-এর ভোটারদের মাঝে উৎফুল্লতা দেখা যাচ্ছে। ঐক্যবদ্ধ কানেকটিকাটের প্রবাসীদের বিভক্ত করার পেছেন নেপথ্যে কাজ করছেন বর্তমান সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল। এবারে তিনি নিজে প্রার্থী না হয়েও একটি প্যানেলকে সরাসরি সমর্থন নির্বাচনী প্রচারণাসহ প্রকাশ্যে ওই প্যানেলের নির্বাচনী সভায় যোগদানকে কেন্দ্র করে চলছে নানা বিতর্ক। ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল গত ৩ বছর ধরে বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট (বাক)-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও অত্যন্ত সুকৌশলে বাক-এর গণসংযোগ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন। করোনা মহামারি নিয়ে তার নেতৃত্বে ত্রাণের ছবি তুলে ফেরতের অভিযোগ আনার পর গণসংযোগ সম্পাদককে সংবিধান বহির্ভূতভাবে বহিস্কার করেন। কিন্তু পরবর্তীতে অন্য আরেকজনকে এ পদে নেওয়া হলেও তিনি নিজেই গণসংযোগ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বাক-এর সদস্যরা ইমেইলে সবসময় তার বার্তাই পেয়ে থাকেন। কানেকটিকাটের (বাক)-এর নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা'র সভাপতির পদ বাগিয়েছেন বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, শ্বেতাঙ্গ মার্কিনী নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক বিষয়টি তার স্ত্রীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়লে ঐ সময়ে বেশ আলোচিত হন তিনি। পদলোভী ও প্রচার পাগল ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল গত ১৩ মে ২০১৭ সালের বাংলাদেশি আমেরিকান এসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট (বাক)-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে নিজের স্বার্থ চরিতার্থের জন্য নিজের প্যানেলের প্রার্থীদের সাথে প্রতারণা করে রাতের অন্ধকারে প্রতিদ্বন্দ্বি গ্রুপে যোগদান করলে তিনি বিতর্কিত হয়ে পড়েন। সেই থেকে কানেকটিকাট বাসীর কাছে তিনি বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত এবং ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। তিনি প্যানেলের প্রার্থীদের সাথে প্রতারণার পর তার প্যানেল বিতর্কিত হয়ে পড়ে। করোনা মহামারি শুরুর আগে বাক-এর বর্তমান সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল নিউ ইয়র্কের একটি টিভির প্রতিবেদককে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়ে ম্যানচেস্টার প্রবাসীদেরকে 'গরীব' (ছোটলোক) বলে অভিহিত করে তাচ্ছিল্য করেন। অথচ ইস্ট হার্টফোর্ডে তিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে বেসমেন্টে (মাটির নিচের ঘর) বসবাস করতেন। এ ঘটনার জন্য তিনি ম্যানচেস্টার প্রবাসীদের কাছে আজও ক্ষমা না চাননি। নির্লজ্জ বেহায়া ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল এবারের নির্বাচনে নুরু-হুমায়ুন পানেলের জন্য ম্যানচেস্টারবাসীদের কাছে ভোট চাইছেন। ম্যানচেস্টারে তাদের প্যানেলের প্রথম নির্বাচনী পরিচিতি সভাসহ বেশ কয়েকটি নির্বাচনী প্রচারণা সভায় ময়নুল হক চৌধুরী হেলালকে দেখা গেছে। ওই বছরে দুই প্যানেলের সভাপতি প্রার্থীর জামানতের অর্থের চেক ফেরত এবং ব্যাংকে চেক জমা দিতে বিলম্বের ঘটনা নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটে। ফলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রার্থীদের মতানৈক্য দেখা দিলে ১৩ মে'র নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল খলনায়কের ভূমিকা পালন করে। তিনি তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. গোলাম চৌধুরী ইকবালের সাথে যোগসাজস করে তার মনোনয়ন জমাকৃত ফি কৌশলে ব্যাংক থেকে উত্তোলনে বিলম্ব করান। সম্ভবত তার একাউন্টে ওই পরিমাণ অর্থ জমা ছিলো না। জানা যায়, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে সহকারি নির্বাচন কমিশনার শফিক উদ্দিন আহমেদের বাসায় গিয়ে উভয় প্যানেলের দু’টি প্রতিনিধি দল পৃথক পৃথকভাবে দুটি প্যাকেট জমা দেন। উভয় প্যানেলের প্রতিনিধিরা বড় আকারের দুটি প্যাকেটে জামানতের অর্থের ব্যাংক চেকসহ মনোনয়নপত্র শফিক উদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেন। প্যাকেটে দু’টিতে ১৭টি পদে জন্য মোট ৩৮টি মনোনয়নপত্র ও ব্যাংক চেক ছিল। একটি প্যানেলের প্যাকেটে ৪জন অতিরিক্ত প্রার্থীর মনোনয়ন ও চেক জমা পড়েছিল বলে জানান সহকারি নির্বাচন কমিশন শফিক উদ্দিন আহমেদ। শফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, মনোনয়নপত্রের প্যাকেট দুটি জমা নেওয়ার পর সীলগালা করে তিনি পরদিন তা হস্তান্তর করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হাতে। এর কয়েকদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. গোলাম চৌধুরী ইকবাল তাকে ৩৮টি চেকের মধ্যে একটি চেক বাদে ৩৭টি চেক ব্যাংকে (বাক-এর হিসাব নম্বরে) জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি সেই মোতাবেক ৩৭টি চেক জমা দেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হাতে আটকে পড়া চেকটির পরিমান বা সেটা কার চেক ছিল এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওই ব্যক্তির নাম বলতে তিনি অস্বীকার করেন। একই প্রশ্ন বেশ কয়েকবার করার পর পরে তিনি বলতে বাধ্য হন যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. গোলাম চৌধুরী ইকবালে আটকে পড়া ঐ চেকটি হেলাল-আজম পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ময়নুল হক চৌধুরী হেলালের। এ বিষয়টি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. গোলাম চৌধুরী ইকবালের সাথে তার মতানৈক্য দেখা দেয়। এর ফলে প্রথমেই তিনি ব্যক্তিগত অজুহাত দেখিয়ে পদত্যাগ করতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আসন্ন নির্বাচনে সহযোগিতা করার জন্য তাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। ফলে ওই সময় তার পদত্যাগপত্র গ্রহন করা হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকলে তিনি বাধ্য হয়েই পদত্যাগ করেন। মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে জমা পড়া ৩৮টি চেকের মধ্যে ৩৭টি চেক ব্যাংকে (বাক-এর হিসাব নম্বরে) জমা দেওয়ার জন্য শফিক উদ্দিনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং হেলাল-আজম পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ময়নুল হক চৌধুরী হেলালের চেক নিজের কাছে কেন এক সপ্তাহ আটকে রেখেছিলেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম চৌধুরী ইকবাল বলেন, এ ঘটনাটি ভুলক্রেমেই ঘটেছে। বেখেয়ালে সেটা আমার টেবিলেই পড়েছিল। একটা চেক কমতি দেখে বা জানার পর তা জমা দেওয়া হয়েছে। অতিলোভী বিশ্বাসঘতক হেলালের কারনেই বাক-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মার্কিন আদালত পর্যন্ত গড়ায়। নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে উভয় পক্ষের আইনজীবিদের আহবানে হার্টফোর্ডের একটি আদালত ভবনে উভয় প্যানেলের সদস্যরা উপস্থিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশি আমেরিকান এসোসিয়েশন অব কানেকটিকাট (বাক)-এর আসন্ন দ্বিবার্ষিক নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনকল্পে আদালতে শুনানির কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এর আগেই মাননীয় বিচারকের পরামর্শে উভয় পক্ষের এটর্নি জন কারডারাস ও এটর্নি রবার্ট এফ লাটজিন দুই প্যানেলের সদস্যদের নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে আসন্ন নির্বাচন স্থগিত করে বাক পরিচালনার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি অস্থায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে উভয় পক্ষই সম্মতি প্রদান করেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় কমিটিতে বর্তমান নির্বাচন কমিটির একমাত্র সদস্য ড.গোলাম চৌধুরী ইকবালকে অন্তর্ভুক্ত করা, না করার বিষয় নিয়ে। তিনি নিজেই এ কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত না থাকার পক্ষে মতামত দিলেও হেলাল-আজম পরিষদ তাকে কমিটিতে থাকার জন্য পক্ষে জোর দাবি জানান। অপর পক্ষ কামাল-হুমায়ুন পরিষদ ড.গোলাম চৌধুরী ইকবালকে অন্তর্ভূক্তির না করার পক্ষে মতামত দেন। যুক্তি হিসেবে তারা বলেন, যেহেতু তিনি এখন আর কোন নিরপেক্ষ ব্যক্তি নন তাই প্রস্তাবিত কমিটিতে তার থাকার কোন প্রশ্নই আসে না। আদালতের ভেতরেই প্রায় তিন ঘন্টাব্যাপী উভয় পক্ষকে নিয়ে দুই আইনজীবি সমঝোতায় নিয়ে আসতে হিমশিম খেতে হয়েছে। আইনজীবিদের মধ্যস্থতায়ও জটিলতার কোন সুরাহা করতে দেননি হেলাল ও তার দল। অবশেষে অমিমাংশিত অবস্থায় সকলেই আদালত ভবন ত্যাগ করেন। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি