ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ দাবির প্রতিবাদ
ফোবানার আমন্ত্রণেই লস অ্যাঞ্জেলেস সম্মেলনে যোগ দেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানার প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী
ছাবেদ সাথী: যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের প্রধান অতিথি বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কারও ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে আসেননি। যথাযথ নিয়মানুযায়ী ফোবানা সম্মেলন কর্তৃপক্ষের নিমন্ত্রণেই তিনি সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ৪০তম লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানা হোস্ট কমিটির প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী। ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছেন বলে ভুল তথ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি লেখার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মোয়াজ্জেম চৌধুরী একথা বলেন।
মোয়াজ্জেম চৌধুরী তার ভেরিভাইড ফেসবুকে উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক লেখায় জুয়েল সাদাত দাবি করেছেন 'ড. জয়নুল আবেদিনের অনুরোধে তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে ফোবানায় এনেছিলেন। তার উক্ত বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মোয়াজ্জেম চৌধুরী।
৪০তম লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানা হোস্ট কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে, জুয়েল সাদাত ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের হোস্ট কমিটির কোনো সদস্য ছিলেন না এবং সম্মেলনের আয়োজন বা অতিথি আমন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব ছিল না।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ৪০তম ফোবানা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো এবং তাঁর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি ছিল হোস্ট কমিটির আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ ও সমন্বয়ের অংশ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রক্রিয়ার যথাযথ রেকর্ডও রয়েছে।
অতএব, 'আমি মন্ত্রীকে ফোবানায় এনে দিয়েছিলাম'-এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর এবং ৪০তম ফোবানা হোস্ট কমিটির প্রকৃত ভূমিকা ও অবদানকে খাটো করার শামিল।
৪০তম ফোবানা সম্মেলনের মতো একটি বৃহৎ আয়োজনের ইতিহাস ও সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে অসত্য তথ্য প্রকাশিত হলে তার প্রতিবাদ করা প্রয়োজন। সুতরাং জুয়েল সাদাতের উল্লিখিত বক্তব্য প্রত্যাহার ও সংশোধনের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে ফোবানার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সত্য ও যাচাইযোগ্য তথ্য উপস্থাপনের আহ্বান জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে মতামত জানতে চাওয়া হলে নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারপার্সন আবীর আলমগীর জানান, ফোবানা কর্তৃপক্ষ কোনো মন্ত্রীকে কনভেনশনে ইনভাইট করলে তার একটি প্রোটোকল আছে, ফোবানার অফিসিয়াল কতৃপক্ষ সেই ইনভাইটেশনটি যথাযথ ভাবেই করেছেন এবং মন্ত্রী সেই অফিসিয়াল আমন্ত্রণ গ্রহণ করেই এসেছেন। কোনো ব্যক্তি বিশেষের আমন্ত্রণে কোনো মন্ত্রী এধরনের কোনো কনভেনশনে অংশগ্রহণ করেন না এটাই প্রোটোকল।
তিনি জুয়েল সাদাতকে ইঙ্গিত করে বলেন আপনি বা অন্য কেউ নিউ ইয়র্ক বা অন্য কোথাও তার সাথে ব্যাক্তিগতভাবে দেখা হলে বা ফোনে কথা হলে যদি জিজ্ঞেস করে থাকেন যে আপনি কি কনভেনশনে আসছেন? সেই প্রতিউত্তরে যদি মন্ত্রী বলে থাকেন যে হ্যা আসছি, সেটাকে আমন্ত্রণ জানানো বলে না। আপনি আপনার কোন একটা নিউজ/ফেসবুক পোষ্টে সেই ক্রেডিটটি নিয়েছেন যা ফোবানার প্রোটোকলকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বৈকি। তাই মোয়াজ্জেম ভাই প্রতিবাদটি জানিয়ে একটা সংশোধনী দিয়েছেন। আমার মনে হয় এই নিয়ে আর কোনো কথা বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
ফোবানার সাবেক চেয়ারপার্সন রেহান রেজা জানান, মোয়াজ্জেম ভাই একদম ঠিক বলেছেন। আমি, মিটু ভাই আপনার সাথে ঢাকায় মাননীয় মন্ত্রীর অফিসে গিয়েছিলাম এবং মন্ত্রীকে ফোবানায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছি, এখানে জুয়েল সাদাত কিভাবে মন্ত্রীকে ফোবানা আনলো আমিও অবাক। ভুল সংবাদ বা ফেসবুক পোষ্ট না দেয়া উচিত। সঠিক এবং সত্যিকার সংবাদ আশা করি। আমিও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তবে এ ব্যাপারে জুয়েল সাদত ফোবানার হোয়াটঅ্যাপ গ্রুপে উল্লেখ করেন, কনভেনর ড. জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে মায়ামীতে তার কথা হয়েছিল। তিনি তাকে মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন।সেই সময় ইকবাল ও শহিদ আহমদও ছিলেন। এটা ছিল জয়নাল আবেদিনের অনুরোধ ছিল।
উল্লেখ্য, ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের প্রধান অতিথি বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে হোটেলে থাকার বন্দোবস্ত বা হোটেলে একটি রুওম পর্যন্ত দেননি কনভেনর ড. জয়নাল আবেদিন। হোস্ট কমিটির প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম এইচ.চৌধুরী তার নিজের রুম মন্ত্রীকে ছেড়ে দিয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে নিজের বাসা থেকে সম্মেলনে যাওয়া আসা করেছেন। শুধু তাই নয় তার মাত্রারিক্ত স্বেচ্ছাচারিতার ফলে দুইজন সাংবাদিক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মধ্যাহ্নভোজ বয়কট করেছেন। দুপুরের খাবারের কুপন দিতে অপারগতা প্রকাশের পরেই সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই নিজ কন্যা ও জামাতার হাতে বিনামূল্যে তুলে দেন প্রায় ১০টি খাবারের কুপন। যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু বলে সাংবাদিদ্বয় 'বিজনেস লাঞ্চ' নামের খাই খাই পর্ব বর্জন করেন।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেকের সংবর্ধনা বাতিল: নেপথ্যে ‘তোলাবাজি নাকি সাশ্রয়’?
সঙ্গীত একাডেমি