১০ আগস্ট ২০২৬

বিচারকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই

জোরপূর্বক মানুষের বাড়িতে ঢোকার ক্ষমতা চান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৮ বিকাল
জোরপূর্বক মানুষের বাড়িতে ঢোকার ক্ষমতা চান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা

আবু সাবেত: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা এখন বিচারকের স্বাক্ষরিত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই জোরপূর্বক মানুষের বাড়িতে প্রবেশের ব্যাপক ক্ষমতা দাবি করছেন। এটি সরকারের তল্লাশির সাংবিধানিক সীমা মেনে চলার দীর্ঘদিনের নির্দেশনার এক বড় ধরনের উল্টো পথে হাঁটা। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর এক অভ্যন্তরীণ মেমো হাতে পাওয়ার পর  এ তথ্য জানিয়েছে দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
আইসিই কর্মকর্তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে কেবলমাত্র একটি সীমিত প্রশাসনিক (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে, যাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে বাসভবনে জোর করে ঢোকার। অধিকারকর্মীদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং অভিবাসী সম্প্রদায়কে এতদিন যে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল, তা উল্টে দেয়।
এই পরিবর্তন এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে অভিবাসন গ্রেপ্তার নাটকীয়ভাবে বাড়িয়েছে। হাজার হাজার কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে গণ-নির্বাসন অভিযানের অংশ হিসেবে, যা মিনিয়াপোলিসের মতো শহরে আইনপ্রয়োগ কৌশলই পাল্টে দিচ্ছে।
বছরের পর বছর ধরে অভিবাসন অধিকারকর্মী, আইনি সহায়তা সংস্থা ও স্থানীয় সরকার মানুষকে বলে আসছিলেন বিচারকের স্বাক্ষরিত ওয়ারেন্ট না দেখানো হলে অভিবাসন কর্মকর্তাদের জন্য দরজা না খুলতে। এই পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে সাধারণভাবে বলা হয়েছে, বিচারিক অনুমোদন ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো বাড়িতে ঢুকতে পারে না। আইসের নতুন নির্দেশনা প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানের মধ্যে এই পরামর্শকে সরাসরি খাটো করে দেয়।
হুইসেলব্লোয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, মেমোটি সংস্থার ভেতরে ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়নি। তবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত আইসিই কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে এর বিষয়বস্তু ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নতুন ও প্রশিক্ষণরত কর্মকর্তাদের লিখিত প্রশিক্ষণ উপকরণের বদলে এই মেমোর নির্দেশনা মানতে বলা হচ্ছে যদিও সেই লিখিত উপকরণই মেমোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই নির্দেশনা কতটা বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে এপি ১১ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে এক লাইবেরিয়ান নাগরিকের বাড়ির সামনের দরজা ভেঙে ঢুকতে আইসিই কর্মকর্তাদের দেখেছে তাদের কাছে ছিল শুধু প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট, গায়ে ছিল ভারী ট্যাকটিক্যাল গিয়ার, হাতে ছিল রাইফেল।
এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ এবং অধিকার সংগঠন ও অভিবাসনবান্ধব রাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলোর তীব্র সমালোচনা আসা প্রায় নিশ্চিত। কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে সফলভাবে মানুষকে বলে আসছিলেন, বিচারকের ওয়ারেন্ট ছাড়া আইসকে দরজা না খুলতে।
এপি এক কংগ্রেস কর্মকর্তার কাছ থেকে মেমো ও হুইসেলব্লোয়ার অভিযোগটি পেয়েছে। সংবেদনশীল নথি হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি সেগুলো দেন। এপি অভিযোগে বর্ণিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করেছে। মেমোটি আইসিই'র ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্স স্বাক্ষরিত এবং তারিখ ১২ মে ২০২৫। 
এতে বলা হয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ঐতিহাসিকভাবে বাসভবনে থাকা চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক ওয়ারেন্টের ওপর নির্ভর করেনি, তবে ডিএইচএসের জেনারেল কাউন্সেলের দপ্তর সম্প্রতি সিদ্ধান্তে এসেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট এবং অভিবাসন সংক্রান্ত বিধিমালা এই উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট ব্যবহারে বাধা দেয় না।
তবে কীভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে বা এর আইনি প্রভাব কী হতে পারে মেমোতে তা ব্যাখ্যা করা হয়নি।
মেমো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন ইমেইলে এপিকে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট জারি করা হয়, তারা সবাই ইতোমধ্যে 'পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া' সম্পন্ন করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ রয়েছে। তিনি বলেন, ওয়ারেন্ট জারি করা কর্মকর্তারা গ্রেপ্তারের জন্য সম্ভাব্য কারণও পেয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্ট ও কংগ্রেস অভিবাসন আইনপ্রয়োগে প্রশাসনিক ওয়ারেন্টের যথার্থতা স্বীকার করেছে, যদিও বিস্তারিত জানাননি। মেমো জারির পর থেকে শুধু প্রশাসনিক ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আইস কর্মকর্তারা কতবার বাড়িতে প্রবেশ করেছেন এই প্রশ্নের জবাব তিনি দেননি।

(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।

বিপি/এসএম
 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি