২১ জুন ২০২৬

ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে উদ্যোগী ইরান

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১০ পিএম
ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে উদ্যোগী ইরান

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   নতুন করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই ইরান তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমিয়ে ফেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। 

ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেহরান তাদের ৩০০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে রপ্তানি করতে রাজি না হলেও, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে সেগুলোর বিশুদ্ধতা কমিয়ে ফেলতে প্রস্তুত। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল নৌ-বাহিনী মোতায়েন করে ইরানে হামলার কথা বিবেচনা করছেন, ঠিক তখনই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পেশ করতে যাচ্ছে ইরান।

বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি। তেহরান এখন এই বিশুদ্ধতা কমিয়ে ২০ শতাংশ বা তার নিচে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিচ্ছে। 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো দাবি জানায়নি। বরং আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন সমৃদ্ধকরণের মাত্রা এবং কতগুলো সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে তার ওপর। যদিও অতীতে এই মজুত রাশিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়ার কথা উঠেছিল, কিন্তু ইরানি কূটনীতিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে পারমাণবিক কোনো উপাদান দেশের বাইরে যাবে না।

এদিকে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মাশহাদ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং তেহরানের অন্তত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। শরীফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে রাজপথে নেমে আসেন, যার ফলে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাধে। বিক্ষোভের আশঙ্কায় বন্ধ থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার পরপরই এই ঘটনা ঘটল। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে বিক্ষোভ না থামলে আবারও ক্লাস অনলাইনে সরিয়ে নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ইরানের ওপর চাপ বাড়ছে। লন্ডনে প্রায় ১,৫০০ মানুষ ইরানি দূতাবাস বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। 

অন্যদিকে, জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে ইরানের প্রতিনিধি আফসানেহ নাদিপুর দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাওয়ায় সেখানেও প্রতিবাদ সমাবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। 

এই জটিল পরিস্থিতিতে ইরানের আইনজীবী রেজা নাসরি সতর্ক করে বলেছেন, যদি কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ইরান আক্রান্ত হয়, তবে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলো ধরে নেবে যে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলকে ঠেকানোর একমাত্র উপায় হলো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা। 

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নেবেন কিনা, তা সম্ভবত ইরানের এই নতুন প্রস্তাবের ওপরই নির্ভর করছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি