ইরানের নজরদারি টাওয়ার ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
সংগৃহীত ছবি
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইরানের চাবাহার শহরের শহীদ কালানতারি বন্দরের সামুদ্রিক নজরদারি টাওয়ার ধ্বংস করেছে। শুক্রবার (স্থানীয় সময়) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।
সেন্টকমের দাবি, বৃহস্পতিবার চালানো এই হামলা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ। তারা জানায়, এবার চাবাহার বন্দরের নজরদারি টাওয়ারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ কালানতারি বন্দরের এই টাওয়ারটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত একটি সামুদ্রিক নজরদারি নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ওমান উপসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হতো।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর নজর রাখতে এটি ব্যবহার করা হতো বলে দাবি করেছে সেন্টকম। এক্সে দেওয়া পোস্টে সেন্টকম বলেছে, ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সফলভাবে এই নজরদারি টাওয়ার ধ্বংস করেছে। তাদের দাবি, বহু বছর ধরে আইআরজিসি এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ শনাক্ত করত এবং সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাত।
সেন্টকমের দাবি, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করার ক্ষেত্রে আইআরজিসির সক্ষমতা দুর্বল করা।
একই সঙ্গে আঞ্চলিক জলসীমায় নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করাও এই অভিযানের লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্র আরো বলেছে, এই অভিযান বেসামরিক সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর রাখতেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্য, নজরদারি টাওয়ার ধ্বংস হওয়ায় নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলার সমন্বয় করার ক্ষেত্রে আইআরজিসির সক্ষমতা কমে যাবে। এতে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা আরো জোরদার হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা জাহাজের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় চাবাহার বন্দরের সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ধ্বংস হয়েছে। তবে ইরনা জানিয়েছে, বন্দরের জাহাজ ভিড়ানোর জেটি, পণ্য ওঠানো-নামানোর যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অক্ষত রয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা এবং বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করার কাজও শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, শুধু চাবাহার নয়, রাতভর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশের আরো কয়েকটি প্রদেশের বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত হরমোজগান, বুশেহর, সিস্তান ও বেলুচিস্তান, খুজেস্তান এবং লোরেস্তান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানো হয়। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এসব হামলায় অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪০০ জনেরও বেশি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন নারী এবং একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন। এছাড়া কয়েক ডজন আহত ব্যক্তি এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলায় হরমোজগান প্রদেশের খামির কাউন্টির অন্তত ছয়টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির এবং আশপাশের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সূত্র: কালের কণ্ঠ
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
১ ভোটের ব্যবধানে জিতে ট্রাম্প সরকারের পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ
সঙ্গীত একাডেমি