২১ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ডাক

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০১ পিএম
হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ডাক

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহে একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। গুরুত্বপূর্ণ এ তেল পরিবহণ পথে নৌ-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যসহ ৩৫টি দেশ একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানান, এ সম্মেলনে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পুনরায় শুরু করার জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘যুদ্ধের অবসান ঘটার পর এ পথকে কিভাবে স্থায়ীভাবে নিরাপদ ও ব্যবহারের উপযোগী করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের সামরিক পরিকল্পনাকারীরাও আলোচনায় বসবেন।’

যুক্তরাজ্য ছাড়াও এই জোটে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্টারমারের মতে, এ যুদ্ধের প্রভাব বর্তমান প্রজন্মকে দীর্ঘকাল বহন করতে হবে, যা সত্তর দশকের জ্বালানি সংকটের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।

ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মিত্র দেশগুলোর ওপর একের পর এক ক্ষোভ ঝারছেন। সম্প্রতি ইরানবিরোধী অভিযানে অংশ না নেওয়া দেশগুলোকে বিদ্রূপ করে ট্রাম্প বলেন, ‘যারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমাদের সাহায্য করেনি, তারা এখন নিজেদের তেলের ব্যবস্থা নিজেরাই করুক।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প সরাসরি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সমালোচনা করে লেখেন, ‘যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো যখন ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে, তখন তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো—হয় আমেরিকা থেকে তেল কেনো, নয়তো সাহস সঞ্চয় করে নিজেরাই হরমুজ প্রণালিতে গিয়ে তা দখল করো।’

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, দেশগুলোকে এখন থেকে নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে, কারণ আমেরিকা আর পাশে থাকবে না।

জাতীয় স্বার্থ বনাম মার্কিন চাপ

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকার করার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিয়ার স্টারমারের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। শুরুতে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি না দিলেও পরে স্টারমার কেবল আত্মরক্ষামূলক এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষার মিশনে সহায়তার বিষয়ে সম্মত হন। ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে স্টারমার দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিনের মিত্র হলেও আমি যেকোনো চাপের মুখে ব্রিটিশ জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেব।’

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মুখে হরমুজ প্রণালি

এদিকে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান এ পথে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ায় ভারত ও চীনের মতো বড় বাজারগুলোতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে।  সূত্র: এনডিটিভি

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি