৬ মে ২০২৬

হোয়াইট হাউস: ‘জনগণের ঘর’-এ পাঁচটি স্থায়ী বড় পরিবর্তনের ছাপ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০২ পিএম
হোয়াইট হাউস: ‘জনগণের ঘর’-এ পাঁচটি স্থায়ী বড় পরিবর্তনের ছাপ

নোমান সাবিত: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে হোয়াইট হাউসে একটি বিশাল বলরুম নির্মাণ শুরু হয়েছে যা ইস্ট উইংয়ের একাংশ ভেঙে নির্মিত হবে। কিন্তু এটি যে প্রথমবার হচ্ছে তা নয়, এর আগেও অনেক প্রেসিডেন্ট ‘জনগণের ঘরে’ স্থায়ী পরিবর্তনের ছাপ রেখে গেছেন।

থিওডর রুজভেল্ট থেকে শুরু করে বারাক ওবামা পর্যন্ত অনেক প্রেসিডেন্ট তাঁদের পছন্দমতো হোয়াইট হাউসের নানা অংশ বদলেছেন। আর ১৭৯২ সালে নির্মিত ভবনটির বড় আকারের আধুনিকায়ন করেছিলেন হ্যারি ট্রুম্যান।

হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, 'সাউথ পোর্টিকো, নর্থ পোর্টিকো, ইস্ট উইং, ওয়েস্ট উইং এবং ট্রুম্যান ব্যালকনি—সবকিছুর সময়েই সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু আজ আমরা হোয়াইট হাউসকে এসব প্রতীকী অংশ ছাড়া কল্পনাই করতে পারি না।'

তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা এর সবকিছুকেই ছাড়িয়ে গেছে, জানিয়েছেন এড লেনজেল, যিনি ২০১৬–১৮ সালে হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ইতিহাসবিদ ছিলেন।

তিনি বলেন, 'এমন কিছু আগে কখনও হয়নি একেবারেই না। আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, এই পরিসরের কোনো নির্মাণকাজ এর আগে কখনও হয়নি।'

ট্রাম্প একটি বিশাল বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন, যা ইস্ট উইংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং ব্যক্তিগত অনুদানে নির্মিত হবে—যেখানে বিশ্বনেতা ও অতিথিদের আপ্যায়ন করা হবে।

প্রকল্পের সমালোচনার জবাবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এটি একটি সাহসী ও প্রয়োজনীয় সংযোজন, যা পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের সময়ের সংস্কার ও সম্প্রসারণের ঐতিহ্যকে প্রতিধ্বনিত করে এবং প্রেসিডেন্টের বাসভবনকে আমেরিকান উৎকর্ষতার প্রতীক হিসেবে ধরে রাখবে।

হোয়াইট হাউসের বড় পাঁচটি সংস্কারের সময়রেখা

 

১৯০২

ওয়েস্ট উইং তৈরির কাজ শুরু হয় প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্টের সময় এবং শেষ হয় প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম টাফটের সময়। তার আগে প্রেসিডেন্টরা অফিসিয়াল কাজ করতেন ভবনের বিভিন্ন জায়গায়, কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট অফিস ছিল না। রুজভেল্ট চাইলেন একটি কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট অফিস। তিনি নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ম্যাককিম, মিড এবং হোয়াইট-কে দিয়ে পশ্চিম পাশে আয়তাকার একটি অফিস কক্ষ নির্মাণ করান, যা পরে রুজভেল্ট রুম” নামে পরিচিত হয়।

রুজভেল্ট প্রথমবার তাঁর নতুন অফিসে কাজ করেন ১৯০২ সালের ৫ নভেম্বর এবং পরের দিন প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকও সেখানেই করেন।

১৯০৯ সালে টাফট এটিকে বিস্তৃত করে বর্তমান ওয়েস্ট উইং রূপে রূপান্তরিত করেন এবং এর কেন্দ্রে একটি ডিম্বাকৃতি অফিস বর্তমান ওভাল অফিস স্থাপন করেন।

 

১৯৩৩

প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ওয়েস্ট উইংয়ে স্থায়ীভাবে আরও ২৫,০০০ বর্গফুট অফিস স্পেস যোগ করেন। তাঁর সময়ে একটি অতিরিক্ত 'পেন্টহাউস' তলা এবং ভূগর্ভস্থ অফিস এলাকা তৈরি হয়। রুজভেল্টের সময়েই ওভাল অফিস বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয় উইলসন রোজ গার্ডেনের দিকমুখী।

তাঁর শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে রুজভেল্ট ওয়েস্ট টেরেসে একটি ইনডোর সুইমিং পুলও নির্মাণ করেন, যা অর্থায়ন করেছিল দ্য ডেইলি নিউজ পত্রিকা। পরে প্রেসিডেন্ট ফোর্ড সাউথ লনে একটি আউটডোর পুল নির্মাণ করেন, যা এখনো আছে।

 

১৯৪৮

প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান হোয়াইট হাউসের সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন তদারকি করেন। ভবনের কাঠামো দুর্বল হওয়ায় তিনি পরিবারসহ পাশের ব্লেয়ার হাউসে স্থানান্তরিত হন।

১৯৪৯ সালে ট্রুম্যান কংগ্রেসকে এক্সিকিউটিভ ম্যানশন সংস্কার কমিশন গঠনের অনুরোধ জানান। পুরো অভ্যন্তরীণ কাঠামো ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়, যার খরচ ছিল প্রায় ৫.৭ মিলিয়ন ডলার—আজকের হিসেবে ৫০ মিলিয়নেরও বেশি। তিনি স্থপতি লরেঞ্জো উইন্সলোর সঙ্গে মিলে ঐতিহাসিক কাঠামোর মৌলিক সৌন্দর্য সংরক্ষণের চেষ্টা করেন।

ফেরার পর ট্রুম্যান লিখেছিলেন, ইস্ট রুম, গ্রিন রুম, ব্লু রুম, রেড রুম এবং স্টেট ডাইনিং রুম সবই চমৎকার সব ঝামেলা ও দুশ্চিন্তার পরও সবকিছু সার্থক মনে হচ্ছে, তবে খরচটা একটু বেশিই!

 

১৯৭৩

প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন হোয়াইট হাউসে এক লেনের বোলিং অ্যালি যোগ করেন, যা আজও ব্যবহৃত হয়। এটি নির্মিত হয় উত্তর প্রবেশদ্বারের ড্রাইভওয়ের নিচে, এবং সম্পূর্ণ অর্থ আসে ব্যক্তিগত অনুদান থেকে। এর আগে ট্রুম্যানের সময়ও একটি বোলিং লেন তৈরি হয়েছিল, যা পরে সরিয়ে পুরনো নির্বাহী ভবনের বেজমেন্টে নেওয়া হয়।

 

২০০৯

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০০৯ সালে হোয়াইট হাউসের টেনিস কোর্টকে পূর্ণাঙ্গ বাস্কেটবল কোর্টে রূপান্তর করেন। এখানে কলেজ চ্যাম্পিয়ন দল এবং আহত যুদ্ধাহত সৈনিকদের ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের তত্ত্বাবধানে টেনিস কোর্ট পুনর্নির্মাণ করা হয় এবং পাশে একটি নতুন টেনিস প্যাভিলিয়ন নির্মিত হয়, সঙ্গে শিশুদের “গ্র্যান্ডচিলড্রেন’স গার্ডেন” সংস্কারও করা হয়।

হোয়াইট হাউস সব সময়ই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে প্রতিটি যুগের প্রেসিডেন্ট তাঁদের ছাপ রেখে গেছেন। তবে ট্রাম্পের বলরুম প্রকল্প, যদি সম্পন্ন হয়, তা এই ঐতিহ্যবাহী ভবনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও দৃষ্টিনন্দন পরিবর্তনগুলোর একটি হয়ে থাকবে।

বিপি।এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি