প্রকল্প পরিচালক মো. সবুক্তগীন বলেন, ক্যামেরাগুলো হাতির অবয়ব চিহ্নিত করতে পারবে। যদি কখনো হাতি বা হাতির পাল রেললাইনে চলে আসে, তাহলে তা ছবি আকারে সিগন্যাল বা সংকেত পাঠাবে। এই সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেললাইনের পাশে থাকা লাল বাতিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠবে। এই লাল বাতি দেখে চলন্ত ট্রেনের ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার) বুঝতে পারবেন, রেললাইনে হাতির পাল বা হাতি রয়েছে। তখন তিনি ট্রেনের গতি কমাবেন এবং থামাবেন।প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, এই ছয়টি ক্যামেরার সঙ্গে আনুষঙ্গিক সংকেতবাতি স্থাপন, বৈদ্যুতিক কাজ রয়েছে। সব মিলিয়ে এতে ব্যয় হবে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এসব ক্যামেরা কীভাবে কাজ করবে, সংকেতব্যবস্থা কেমন হবে, তার ওপর ট্রেনচালক ও পরিচালকদের (গার্ড) প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এক দফা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
রেললাইনে হাতি
আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচলের এক বছরের মধ্যে ট্রেনের ধাক্কায় হাতি মারা গিয়েছিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে। গত বছরের ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে রেলপথের ওপর দিয়ে পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মারা যায় একটি বাচ্চা হাতি। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ঈদ স্পেশাল-১০ ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটি প্রথমে আহত হয়েছিল।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের এলিফ্যান্ট ওভারপাসের (রেললাইনের ওপর দিয়ে হাতি পারাপারের পথ) উত্তর পাশে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার দুই দিন পর রেলওয়ের একটি উদ্ধারকারী ট্রেনে করে আহত হাতিটিকে ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই দিন বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিটির মৃত্যু হয়।
হাতির মৃত্যুর পর এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়। গত ২৩ অক্টোবর অফিস আদেশে বলা হয়, দেশের বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান এলাকা অতিক্রম করার সময় ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য এলাকায় এই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল গত ২২ জুলাই রাত ১০টা ২৫ মিনিটে। ওই দিন রাতে রেললাইনে ছিল একটি হাতি। ওই সময় কক্সবাজার থেকে আসছিল চট্টগ্রামগামী সৈকত এক্সপ্রেস। দূর থেকে হাতি দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক বা হার্ড ব্রেক চেপে ট্রেন থামান লোকোমাস্টার আবদুল আওয়াল। হাতি যেখানে অবস্থান করছিল, তার ঠিক আগে গিয়ে ট্রেন থামে। এরপর হাতি যাতে সরে যায়, এ জন্য ঘনঘন হুইসেল দিতে থাকেন ট্রেনচালক। এতে হাতি নিচে নেমে যায়। তবে ‘বিরক্ত’ হয়ে হাতির পালে একটি হাতি রেললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের শেষ বগিতে ধাক্কা দেয়। অবশ্য দ্রুত ট্রেন ছেড়ে দিলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
হাতির জন্য রেললাইনে ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের উপবন সংরক্ষক আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাতি রক্ষায় এই ধরনের ক্যামেরা বা সেন্সর বসানোর জন্য রেলওয়েকে আমরা অনেক আগে থেকে বলে আসছি। আগে একবার ট্রেনচালকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে আর তা বসানো হয়নি। এখন যদি বসানো হয়, তাহলে তা খুব ভালো হবে।’
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
বিপি>টিডি