হাসপাতাল থেকেই পুলওয়ামা হামলার নির্দেশ দিয়েছিল মাসুদ আজহার

বিদেশ ডেস্ক : গত চারমাস ধরে পাকিস্তানের জেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে জৈশ–ই–মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহার। রাওয়ালপিণ্ডির সেই হাসপাতালের বেডে শুয়েই পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলার নির্দেশ দিয়েছিল সে। এতোটাই গোপন ছিল এই হামলার পরিকল্পনা।
অসুস্থতার কারণেই ভারত বিরোধী ইউনাইডেট জিহাদ কাউন্সিলের শেষ ছ’টি বৈঠকে যোগ দেয়নি জৈশ প্রধান। কিন্তু পুলওয়ামা হামলার ঠিক আটদিন আগে একটি রেডিওবার্তা পাঠিয়েছিল সে। সেই রেডিও বার্তায় ভাইপো উসমানের হত্যার বদলা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। গত অক্টোবর মাসে কাশ্মীরের ত্রালে নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল উসমানের। আজহারের সেই রেডিও বার্তায় ভারতে নাশকতা ছড়ানোর উস্কানির রেশ ছিল। এককথায় বলা চলে ভাইপোর হত্যার বদলা নেওয়ার বার্তা দিয়েছিল সে। উর্দু এবং হিন্দিতে দেওয়া সেই বার্তায় আজহার বলেছিলেন, ‘কেউ জঙ্গিদের হিংস্র বলবে কেউ বলবেন শান্তির শত্রু। কিন্তু আমি বলব ওদের যেতে দাও সীমান্ত তোলপাড় করে এসো।
পুলওয়ামা হামলার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা এতোটাই গোপন রাখা হয়েছিল যে তা আঁচ করতে পারেনি ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিলের কেউ। আজহার অত্যন্ত গোপনে এই হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার দায়িত্ব তাঁর দুই ভাইপো মহম্মদ উমের এবং আবদুল রশিদ গাজিকে দিয়েছিল। তারাই পরিকল্পিত ভাবে উপত্যকার যুবকদের মগজধোলাই করে ফিঁদায়ে হামলার জন্য তৈরি করেছিল। এই হামলার কাজে কোনও জৈশ জঙ্গিকে কাজে লাগানো হয়নি। এরা সকলেই উমের, এবং গাজির নেতৃত্বে দক্ষিণ কাশ্মীরে আত্মগোপন করে ছিল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর মোট ৬০ জন জৈশ জঙ্গি কাশ্মীরের নাশকতার কার্যকলাপ করে থাকে। তাদের মধ্যে ৩৫ জন পাকিস্তানি আর বাকিরা উপত্যকার বাসিন্দা। পুলওয়ামায় ফিঁদায়ে জঙ্গি হিসেবে কাশ্মীরি যুবককেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। কোনও পাক জৈশ জঙ্গিকে এই হামলায় ব্যবহার করা হয়নি। অর্থাৎ কাশ্মীরিদের মধ্যেই নাশকতার বীজ বপন করা এখন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে জৈশের। গত কয়েকমাস ধরেই সেকারণে উপত্যকা থেকে যুবক এবং কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এককথায় বলতে গেলে কাশ্মীর ইস্যুতে এবার নতুন ছকে এগোচ্ছে পাকিস্তান।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি