২৩ জুন ২০২৬

ডেঙ্গু মোকাবিলায় জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
ডেঙ্গু মোকাবিলায় জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।


মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভায় এসব নির্দেশনা দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তত্ত্বাবধানে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই টাস্কফোর্স মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের কার্যক্রম তদারকি করবে। টাস্কফোর্সটি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।

উল্লেখ্য, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সরকারের কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করতে সম্প্রতি জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বাধীন এ কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি অর্জনের আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

সভায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক হারে লিফলেট ও সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ। ২. স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা। ৩. স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা। ৪. ফগার মেশিন ও মশক নিধন কার্যক্রমের মান (কোয়ালিটি) নিয়মিত পরীক্ষা ও তদারকি করা। ৫. এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা। ৬. নির্মাণাধীন ভবন, ছাদবাগান, টায়ারের দোকান, গ্যারেজ এবং জলাবদ্ধ এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন বৃদ্ধি। ৭. গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করা। ৮. ডেঙ্গুর লার্ভা শনাক্ত হওয়া স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। ৯. ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করা। ১০.ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

সভায় বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এখন থেকেই সমন্বিত ও জোরালো প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি। জাতীয় কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াসা, এলজিইডি, ডিপিএইচই, রাজউক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি