৯ আগস্ট ২০২৬

আলফাডাঙ্গায় চেয়ারম্যনের যোগসাজশে চাল আত্মসাতের অভিযোগ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
আলফাডাঙ্গায় চেয়ারম্যনের যোগসাজশে চাল আত্মসাতের অভিযোগ

ফরিদপুর থেকে সংবাদদাতা: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৫ নং বানা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যনের যোগসাজশে চাল আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে।

তালিকায় নাম থাকার পরও ১৭ মাসে ভিজিডি কার্ড ও চাল পাননি অন্তত ১৩ দুঃস্থ নারী। তবে তাদের কার্ড দিয়ে নিয়মিত চাল ওঠানো হচ্ছে। কে বা কারা চাল তুলে নিচ্ছে তা বলতে পারছেন না ওই সকল দুঃস্থ নারীরা। তবে চেয়ারম্যানের যোগসাজশে এ চাল আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও অভিযোগ অস্বীকার করে ৫নং বানা ইউপি চেয়ারম্যান হাদী হুমায়ুন কবির বাবু।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারীতে বানা ইউনিয়নে ৩৬৬ জন দুস্থ নারীর তালিকা তৈরি করা হয়। সেই থেকে কার্ডধারী প্রতি নারী মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন। তবে তালিকায় নাম থাকার পরও অন্তত ১৩ নারী কার্ড না পাওয়ার অভিযোগ করেন। কার্ড না পেলেও অন্য কেউ তাদের নামে চাল তুলে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা। কার্ড না পাওয়া ১৩ জন দুস্থ নারীরা হলেন, বানা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের কোমেলা বেগম, ৩ নং ওয়ার্ডের মোসা. রেনুকা বেগম, ৪ নং ওয়ার্ডের জাহানারা বেগম ও জোসনা বেগম, ৫ নং ওয়ার্ডের সাবিনা বেগম, ৬ নং ওয়ার্ডের পারুল বেগম, ৭ নং ওয়ার্ডের মোসা. খুশি বেগম, রমেনা বেগম, নূর জাহান বেগম, সাথী খানম, ৯ নং ওয়ার্ডের মোসা. রতনা, মোসা. তানিশা বেগম, মোসা. আদরী বেগম। তাদের অভিযোগ রয়েছে যে তালিকায় তাদের নাম থাকলেও এখন পর্যন্ত তারা কার্ড ও চাল পাননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বানা ইউনিয়নের একাধিক সদস্য জানান, ৩৬৬ কার্ডের মধ্যে তালিকায় নাম থাকা অন্তত ১৩ দুস্থ নারীকে কার্ড দেওয়া হয়নি। তাদের নামের কার্ড দিয়ে অন্য কেউ চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন। প্রকৃত দুস্থরা ভিজিডি কার্ডের সুবিধা না পাওয়ায় সরকারি সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

৭ নং ইউপি সদস্য কাজী বাকা বলেন, আমার ওয়ার্ডে কয়েকজন আছে যাদের তালিকায় নাম আছে কিন্তু চাল পায় না।

বানা ইউপি চেয়ারম্যান হাদী হুমায়ুন কবীর বাবু'র সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, এটা আমার বিষয় তোমাদের এ নিয়ে ভাবতে হবে না। এটা আমি দেখবো। আমরা এক বছর আগে সবাইকেই কার্ড দিয়ে দিছি। সবাই ঠিকমতই চাল নেচ্ছে। এখন কাগে চাল কারা নেছে তাতো আমি বলতে পারিনে। পুরো ইউনিয়নের ব্যাপার। সবার মুখতো চিনে রাখতে পারিনে।

এছাড়াও ২ নং ওয়ার্ডে ভিজিডি তালিকায় মোসা. আন্না বেগম নামে এক মহিলার নাম রয়েছে। প্রতি মাসে চালও নেওয়া হচ্ছে তার নামে। কিন্তু এ নামে ওই ওয়ার্ডে কোন মহিলা নেই তাহলে এই নামে চাল নিয়েছে কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, শুনেছি ওই চাল নাকি মিরাজ চৌকিদার তুলে নেয়। চাল উত্তলনের বিষয়ে জানতে চাইলে মিরাজ চৌকিদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যানের লোক জাহাঙ্গীর আমার কাছ থেকে ২৫০০ টাকা নিয়ে এই কার্ড করে দেয়। তারপর থেকে আমি ওই নামে চাল নিয়ে আসছি। এ সব বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিপোর্ট ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছি।

আলফাডাঙ্গা বানা ইউনিয়নে ১৭ মাসে ১৩ দুস্থ নারী ভিজিডিং কার্ডের চাল পাননি এই বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, আমরা রিপোর্ট পেয়েছি আইনানুগ যে ব্যবস্থা নেওয়ার তা আমরা নিবো।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি