২০২৬ সালে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ কর ফেরত পেতে যাচ্ছেন মার্কিন নাগরিকরা
নোমান সাবিত:‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’-এর আওতায় কর আইনে একাধিক পরিবর্তনের ফলে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কর ফেরত (ট্যাক্স রিফান্ড) পেতে পারেন বলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা পূর্বাভাস দিচ্ছেন।
ডিসেম্বরের শুরুতে দেওয়া এক স্মারকে হাউস ওয়েজ অ্যান্ড মিন্স কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জেসন স্মিথ (মিসৌরি) আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান পাইপার স্যান্ডলারের একটি বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে বলেন, ২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে 'সবচেয়ে বড় কর ফেরতের মৌসুম'।
এবি ট্যাক্স ল–এর কর আইনজীবী অ্যাডাম ব্রুয়ার নেক্সস্টারকে বলেন, বিগ বিউটিফুল বিলের পরিবর্তনগুলোর কারণে বেশিরভাগ করদাতা ২০২৫ সালেই তুলনামূলক বড় রিফান্ড পেতে পারেন। তবে ঠিক কতটা পাবেন, তা পুরোপুরি নির্ভর করবে তাদের ব্যক্তিগত কর পরিস্থিতির ওপর।'
যদিও অনেক পরিবর্তন কার্যকর হবে ২০২৬ সালে (যা ২০২৭ সালের রিটার্নে প্রভাব ফেলবে), ২০২৫ সাল থেকেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চালু হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—
স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বৃদ্ধি, স্টেট ও লোকাল ট্যাক্স (এসএএলটি) ডিডাকশনের সীমা বৃদ্ধি, সিনিয়র নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত ৬,০০০ ডলার ডিডাকশন,
টিপসের ওপর কর অব্যাহতি, ওভারটাইম আয়ের ওপর কর না থাকা এবং গাড়ি ঋণের সুদের ওপর কর না থাকা।

ব্রুয়ার বলেন, প্রশাসন ও কংগ্রেস এখানে কার্যত বিজয়ী ও পরাজিত বেছে নিয়েছে। ফলে সব ধরনের আয় এখন সমানভাবে করযোগ্য নয়। যদি কারও আয়ের বড় অংশ আসে ওভারটাইম বা টিপস থেকে, তাহলে একই আয় থাকা সত্ত্বেও তিনি একজন বেতনভুক্ত কর্মীর তুলনায় অনেক কম কর দিতে পারেন।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা কবে পাওয়া যাবে?
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ফিলাডেলফিয়ার একটি স্থানীয় এনবিসি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমেরিকানরা 'অত্যন্ত বড় অঙ্কের কর ফেরত' পেতে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, এই বিলটি জুলাই মাসে পাস হয়েছে। কর্মজীবী মানুষরা তখন তাদের উইথহোল্ডিং পরিবর্তন করেননি। ফলে বছরের প্রথম প্রান্তিকেই তারা বড় অঙ্কের কর ফেরত পাবেন। আমার ধারণা, মোট রিফান্ডের পরিমাণ হতে পারে ১০০ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলার, যা প্রতিটি পরিবারের জন্য গড়ে ১,০০০ থেকে ২,০০০ ডলারের সমান।'
বেসেন্ট আরও বলেন, উইথহোল্ডিং সমন্বয় হয়ে গেলে ভবিষ্যতে মানুষের হাতে থাকা মাসিক আয়ও বাড়বে।
তবে স্পষ্ট করে বলা দরকার—বড় রিফান্ড মানেই আয় বেড়েছে, এমন নয়। বরং সারা বছর অতিরিক্ত কর কেটে রাখা হয়েছিল, যা এখন ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
তারপরও, ট্রাম্প প্রশাসনের এই আলোচিত বিল থেকে সব মার্কিন করদাতা সমানভাবে উপকৃত হবেন না।
দলনিরপেক্ষ ও স্বাধীন একাধিক থিঙ্ক ট্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বিলের সুবিধা মূলত দেশের উচ্চ আয়ের মানুষ ও বড় ব্যবসাগুলোর পক্ষেই বেশি গেছে।
কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শীর্ষ ১০ শতাংশ আয়ের মানুষ বছরে গড়ে অতিরিক্ত ১২,০০০ ডলার সুবিধা পাবেন, আর সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ মানুষের বার্ষিক ক্ষতি হবে প্রায় ১,৬০০ ডলার। একই সঙ্গে মেডিকেইড ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে কাটছাঁট করা হয়েছে।
ব্রুয়ার বলেন, 'আমি আমার ক্লায়েন্টদের বলছি—আগের বছরগুলোর তুলনায় যদি বড় রিফান্ড পান, সেটি আনন্দের চমক হতে পারে। তবে বড় রিফান্ডের আশায় এখনই খরচ শুরু করে দেবেন না।'
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কের কংগ্রেস নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব দেখাতে চান মেয়র মামদানি
সঙ্গীত একাডেমি