৪ মে ২০২৬

১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো ধেয়ে আসছে, শঙ্কায় আবহাওয়াবিদরা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো ধেয়ে আসছে, শঙ্কায় আবহাওয়াবিদরা

ফাইল ছবি

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  এই গ্রীষ্মে আবারও আসছে ‘এল নিনো’। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী হতে পারে। ‘সুপার এল নিনো’ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এটি হলে আগামী বছর বিশ্বের তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে। একই সঙ্গে ভয়াবহ ঝড়, খরা ও বন্যার মতো দুর্যোগও বাড়তে পারে।

এল নিনো আসলে কী?
প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রের উপরিভাগের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ হয়ে উঠলে তাকে এল নিনো বলা হয়। এই অবস্থায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমপক্ষে ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকে। এই উষ্ণতা বিশ্বের আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই অবস্থা সাধারণত উত্তর গোলার্ধের বসন্তে শুরু হয় এবং তিন থেকে সাত বছর পরপর বদলায়।

এবার কতটা শক্তিশালী হতে পারে?
মার্কিন ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, এই গ্রীষ্মে এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৬২ শতাংশ। ‘সুপার এল নিনো’ বলতে বোঝানো হয় যখন সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমপক্ষে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হয়। ১৯৫০ সালের পর থেকে এটি মাত্র কয়েকবার ঘটেছে।

আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. পল রাউন্ডি এ সপ্তাহে লিখেছেন, ‘১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো ঘটনার বাস্তব সম্ভাবনা আছে।’ মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. অ্যান্ডি হেজেলটন বলেছেন, ‘সব মডেল ও পর্যবেক্ষণ একই দিকে ইঙ্গিত করছে — এটি হবে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো, যা এ বছর বিশ্বের জলবায়ুতে বড় প্রভাব ফেলবে।’

ক্লাইমেট সেন্ট্রালের জলবায়ু বিজ্ঞানী টম ডি লিবার্টো বলেছেন, এটি ‘নিশ্চিত নয়’, তবে এল নিনোর জন্য দরকারি সব উপাদান এখন আছে। তিনি জানান, ‘ঝুঁকি এতটাই বেশি যে উদ্বিগ্ন হওয়া দরকার।’

কোথায় কী প্রভাব পড়তে পারে?
এল নিনো বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল, ভারত এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে খরা ও তীব্র গরম দেখা দেওয়ার আশঙ্কা আছে। অ্যামাজনের বনাঞ্চলেও এর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে এর উল্টো প্রভাব পড়বে কিছু জায়গায়। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশ এবং দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ায় ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

২০১৫ সালের সুপার এল নিনোর সময় ইথিওপিয়ায় ভয়াবহ খরা হয়েছিল। পুয়ের্তো রিকোতে পানির সংকট তৈরি হয়েছিল। উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে ভয়ংকর হ্যারিকেন মৌসুমও দেখা গিয়েছিল।

কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জোয়েল লিসনবি বলেছেন, ‘শুধু বড় ধরনের জলবায়ু পরিবর্তন হবে বলেই খরা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে, এমন ভাবা ঠিক নয়।’ তিনি আরও বলেন, খরা কাটাতে হলে ‘অসাধারণ বেশি বৃষ্টি দরকার হবে। আর সেটা মানে বন্যা এবং তার সঙ্গে ধ্বংস ও প্রাণহানির ঝুঁকি।’

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা কী বলছে?
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্ট সাউলো বলেছেন, ‘২০২৩-২৪ সালের সর্বশেষ এল নিনো রেকর্ডে শীর্ষ পাঁচটির একটি ছিল এবং এটি ২০২৪ সালের রেকর্ড বৈশ্বিক তাপমাত্রায় ভূমিকা রেখেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এল নিনো ও লা নিনার মৌসুমি পূর্বাভাস কোটি কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে সাহায্য করে এবং কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও পানি ব্যবস্থাপনার জন্য এটি অপরিহার্য পরিকল্পনার হাতিয়ার। এটি মানবিক সংকট মোকাবিলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে এবং এভাবে জীবন বাঁচায়।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। তবে এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি বলে তারা মনে করছেন। সূত্র- দ্য গার্ডিয়ান

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি