৭ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণযুগ এখন থেকে শুরু: ডোনাল্ড ট্রাম্প

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণযুগ এখন থেকে শুরু: ডোনাল্ড ট্রাম্প
  ছাবেদ সাথী: যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তাকে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি করে তুলেছে যিনি একবার ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে এসেছেন। তার উদ্বোধন ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ আনতে শুরু করেছে। যার মধ্যে রয়েছে অভিবাসন বিষয়ে ১০টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পরিকল্পনা, যা আংশিকভাবে বাইডেন যুগে নির্ধারিত নিয়ম এবং মানগুলো ফিরিয়ে আনবে। ট্রাম্প সোমবারের অনুষ্ঠানের পরপরই বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। শপথের আগে ট্রাম্প ও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একসঙ্গে একটি লিমোজিনে চড়ে হোয়াইট হাউস থেকে ক্যাপিটল হিলে পৌঁছান। শপথ অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্প তাঁর উদ্বোধনী ভাষণ দেন। ভাষণের শুরুতে তিনি শপথমঞ্চে উপস্থিত সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ বুশ, বারাক ওবামা ও বাইডেনকে ধন্যবাদ জানান। এর আগে ক্রিস্টোফার ম্যাকিওর ‘ওহ, আমেরিকা’ গানের মধ্য দিয়ে শপথের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিরাও। ছিলেন বিদায়ী ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন, সেকেন্ড জেন্টলম্যান ডগ এমহফসহ বিদায়ী প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও। এ ছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের সন্তানেরা—ইভানকা ট্রাম্প, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, টিফানি ট্রাম্প, এরিক ট্রাম্প ও ব্যারন ট্রাম্প উপস্থিত হন। উপস্থিত হন সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতিও। ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের প্রধান হিসেবে রবার্ট এফ কেনেডি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনোনীত প্রধান ক্রিস্টি নোম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে মনোনীত মার্কো রুবিওসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠান যখন চলছিল, তখন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসও ট্রাম্পের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। ন্যান্সি রিগানের ডিজাইন করা একটি কার্পেট ফিরিয়ে আনা হয় সেখানে। ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে এটি ব্যবহার করেছিলেন। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার উদ্বোধনী বক্তব্যের শুরুতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে বিচার বিভাগের 'অস্ত্রায়ন' বন্ধ করা হবে। ট্রাম্প বলেছেন, বিচারের পাল্লা পুনরায় ভারসাম্যপূর্ণ হবে। বিচার বিভাগ এবং আমাদের সরকারের নিষ্ঠুর, হিংস্র এবং অন্যায্য অস্ত্রায়ন শেষ হবে। তিনি তার বক্তব্য শুরু করেন এই অঙ্গীকার দিয়ে যে, 'আমেরিকার স্বর্ণযুগ এখন থেকেই শুরু হচ্ছে।' ট্রাম্প এবং তার মিত্ররা বারবার উল্লেখ করেছেন যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত প্রমাণ করে যে বিচার বিভাগ (DOJ) তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএস ক্যাপিটলের রোটন্ডায় ৬০তম প্রেসিডেন্সিয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সময় শপথ গ্রহণ করার পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের দিকে ইঙ্গিত করেন। ট্রাম্প দিনটি শুরু করেছিলেন সোমবার সকাল ৯টার ঠিক আগে লাফায়েট স্কোয়ারের একটি চার্চ সেবায় অংশ নিয়ে। যেখানে তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি সকাল ১০টার দিকে হোয়াইট হাউসে পৌঁছান এবং বাইডেন পরিবারের সঙ্গে চায়ের জন্য সাক্ষাৎ করেন, তারপরে তারা সবাই ক্যাপিটলের দিকে রওনা দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শনিবার থেকে শুরু হয়েছিল। যখন সাবেক ও ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওয়াশিংটনে ফিরে আসেন। তারা অভ্যর্থনা এবং বিজয় র‍্যালির মাধ্যমে সংবর্ধনা পেয়েছেন। তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান তীব্র ঠান্ডার কারণে ক্যাপিটল রোটন্ডায় অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২:০২ মিনিটে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শপথ বাক্য পাঠ করান। যেখানে ট্রাম্প তার স্ত্রী মেলানিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ শেষে তিনি মেলানিয়ার গালে চুম্বন করেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা তাকে করতালির মাধ্যমে অভিনন্দন জানান। এর আগে দুপুর ১২টায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শপথ গ্রহণ করেন। বিচারপতি ব্রেট কাভানাঘ শপথ বাক্য পাঠ করান। সেনেটর অ্যামি ক্লোবাচার (ডি-মিনেসোটা) উদ্বোধনী বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ক্লোবাচার বলেন, এই অনুষ্ঠান আমাদের গণতন্ত্রের ২৫০ বছরের কাছাকাছি পৌঁছানোর কথা মনে করিয়ে দেয়। এটি এমন মুহূর্ত, যখন নেতারা জনগণের ইচ্ছার মাধ্যমে ক্ষমতায় উঠে আমাদের সংবিধানের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। সেনেটর ডেব ফিশার (আর-নেব্রাস্কা) উল্লেখ করেন, 'আমেরিকানরা আবারও এই জাতিকে মহত্ত্বের দিকে পরিচালিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।' উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা, যার মধ্যে ছিলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ট্রাম্প। সকাল ১১:৪৫ মিনিটে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইট ট্রাম্প প্রশাসনে পরিবর্তিত হয়। শপথ গ্রহণের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইট বাইডেন প্রশাসন থেকে ট্রাম্প প্রশাসনে রূপান্তরিত হয়। ট্রাম্প এবং ভ্যান্স ইমান্সিপেশন হলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সময় করতালিতে অভ্যর্থনা পান। ট্রাম্পের অভিষেকে ছিলেন উল্লেখযোগ্য বিশ্বনেতা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিষেক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তিনি শনিবার রাজধানী ওয়াশিংটন পৌঁছেছেন। ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এ শপথ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় রাজধানীতে দায়িত্ব পালন করেন ন্যাশনাল গার্ডের ৭৮০০ সদস্যসহ ২৫ হাজার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য। নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও শপথ নেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্প-ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন নতুন মার্কিন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। সোমবার স্থানীয় সময় সাড়ে ১২টায় অনুষ্ঠিত হয় এই শপথের অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ শেষে রেকর্ডসংখ্যক নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পাঠানো বিমানবাহিনীর একটি বিমানে করে ট্রাম্প ফ্লোরিডার পাম বিচে অবস্থিত রিপাবলিকান ঘাঁটিতে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মেলানিয়া, মেয়ে ইভাঙ্কা এবং তাঁর স্বামী জ্যারেড কুশনার। সেখান থেকে ট্রাম্প তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভার্জিনিয়ায় তাঁর গলফ ক্লাবে যান। প্রায় ৫০০ অতিথির সংবর্ধনা এবং আতশবাজি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ উৎসব শুরু হয়। সোমবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনই তিনি রেকর্ডসংখ্যক নির্বাহী আদেশে সই করেন। যদিও ঠিক কতগুলো আদেশে সই করেন, তা এখনও ঠিক করা হয়নি বলে জানান তিনি। তবে সেটি রেকর্ডসংখ্যক হবে। তিনি যেসব নির্বাহী আদেশে সই করেন, তার অনেকই বাইডেন প্রশাসনের গৃহীত নীতি বাতিল করতে করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ট্রাম্প শপথ নেওয়ার দু’দিন আগে ওয়াশিংটনের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ, যাদের বেশির ভাগই নারী। এ কর্মসূচির নাম দ্য পিপলস মার্চ, যা আগে উইমেন্স মার্চ হিসেবে পরিচিত ছিল। এটা ২০১৭ সাল থেকে নিয়মিত হয়ে আসছে। কয়েকটি গ্রুপের একটি জোট এর আয়োজক। তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তারা ‘ট্রাম্পিজম’ এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক ও সিয়াটলেও ট্রাম্পবিরোধী ছোটখাটো প্রতিবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রযুক্তি জগতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব; যেমন- ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস এবং মার্ক জাকারবার্গ। বিদায়ি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। যদিও ২০২০ সালে বাইডেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন না ট্রাম্প। অতিথিদের মধ্যে আরও ছিলেন বিল ক্লিনটন, জর্জ ডবি্লউ বুশ, বারাক ওবামাসহ জীবিত সব সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শপথ অনুষ্ঠানে অতিথিদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকে। তবে শপথ অনুষ্ঠানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আমন্ত্রণ পেলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম ছিল না আমনি্ত্রত অতিথিদের তালিকায়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে সৌজন্যমূলকভাবে বিদেশি কূটনীতিকদের অংশগ্রহণ থাকে। সাধারণত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না। ট্রাম্প অবশ্য প্রচলিত রীতিনীতির ধার ধারেন না। তিনি শপথ অনুষ্ঠানে অনেক বিদেশি নেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অতিথিদের তালিকায় ইউরোপের মধ্যমপন্থিদের বাদ দিয়ে অনেক কট্টর ডানপন্থি ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদদের আমন্ত্রণ জানাতে দেখা গেছে। একই গাড়িতে শপথ অনুষ্ঠানে পৌঁছলেন ট্রাম্প ও বাইডেন একই গাড়িতে চড়ে হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে পৌঁছেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ সময় রাত এগারোটায় সেখানে শপথ নেবেন ট্রাম্প। দুই প্রেসিডেন্টের আলাদা যাওয়ার কথা থাকলেও তারা একসঙ্গে একই গাড়িতে ক্যাপিটল হিলে পৌঁছেছেন। এর আগে সৌজন্যমূলক হোয়াইট হাউস পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন সেখানে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ট্রাম্প গাড়ি থেকে নামার সময় বাইডেন বলেন, বাড়িতে স্বাগতম! এ সময় বাইডেন ও ট্রাম্প এবং তাদের স্ত্রী জিল বাইডেন ও মেলানিয়া ট্রাম্প একসঙ্গে হেঁটেছেন। সেইসঙ্গে ছবিও তুলেছেন। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত এগারোটায় (মার্কিন সময় দুপুর ১২টা) যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দেশটির ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত মার্কিন কংগ্রেস ক্যাপিটল হিলের সামনে শপথ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। তবে আজ ওয়াশিংটনে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে (মাইনাস ১৩ ডিগ্রি) ইনডোরে অনুষ্ঠিত হবে তার শপথ অনুষ্ঠান। শপথের পরই জাতির উদেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এ অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যান ঝেং, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ অনেকে। ট্রাম্পকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি ট্রাম্পকে শপথ পড়াবেন। অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও শপথ নেবেন। শনিবার ওয়াশিংটন রওনা হওয়ার আগে এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রথম দিনই রেকর্ডসংখ্যক নির্বাহী আদেশে সই করার কথা বলেন। তিনি যেসব নির্বাহী আদেশে সই করবেন, তার অনেকগুলোই বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের গৃহীত নীতি বাতিল করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প তার নতুন মেয়াদের প্রথম দিন থেকে যেসব কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার মধ্যে গণবিতাড়ন কর্মসূচিও রয়েছে। ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত শপথগ্রহণের আগে সৌজন্যমূলক হোয়াইট হাউস পরিদর্শনে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন তাকে স্বাগত জানিয়েছে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ট্রাম্প গাড়ি থেকে নামার সময় বাইডেন বলেন, বাড়িতে স্বাগতম! এ সময় বাইডেন ও ট্রাম্প এবং তাদের স্ত্রী জিল বাইডেন ও মেলানিয়া ট্রাম্প একসঙ্গে হেঁটেছেন। সেইসঙ্গে ছবিও তুলেছেন। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত এগারোটায় (মার্কিন সময় দুপুর ১২টা) যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দেশটির ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সাধারণত মার্কিন কংগ্রেস ক্যাপিটল হিলের সামনে শপথ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। তবে আজ ওয়াশিংটনে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে (মাইনাস ১৩ ডিগ্রি) ইনডোরে অনুষ্ঠিত হবে তার শপথ অনুষ্ঠান। শপথের পরই জাতির উদেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এ অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যান ঝেং, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ অনেকে। ট্রাম্পকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তিনি ট্রাম্পকে শপথ পড়াবেন। অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও শপথ নেবেন। শনিবার ওয়াশিংটন রওনা হওয়ার আগে এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রথম দিনই রেকর্ডসংখ্যক নির্বাহী আদেশে সই করার কথা বলেন। তিনি যেসব নির্বাহী আদেশে সই করবেন, তার অনেকগুলোই বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের গৃহীত নীতি বাতিল করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প তার নতুন মেয়াদের প্রথম দিন থেকে যেসব কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার মধ্যে গণবিতাড়ন কর্মসূচিও রয়েছে। মেক্সিকো সীমান্তে আজ জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করবেন ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বেশ কিছু নির্বাহী আদেশ জারি করতে যাচ্ছেন। তার মধ্যে রয়েছে, আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্তে, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে তিনি জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করবেন। অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সাথে যে 'লাখ লাখ অপরাধী' অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে, তারা যেখান থেকে এসেছে, সেখানে ফেরত পাঠানো হবে। সেই সাথে তার রিমেইন ইন মেক্সিকো বা 'মেক্সিকোতেই থাকো' নীতি তিনি পুনরায় কার্যকর করা হবে। সীমান্ত এলাকায় আরো সৈনিক ও জনবল পাঠানো হবে বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। মাদক চক্র বা কার্টেলগুলোকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে ঘোষণা করা হবে এসব নির্বাহী আদেশে। 'এলিয়েনস এনিমিস অ্যাক্ট অব ১৭৯৮' পুনর্বহাল করা হবে, যাতে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্যগুলো 'যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিদেশি গ্যাংগুলো' দমনে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে পারে। শপথ গ্রহণের দিনটিকে, ২০শে জানুয়ারি ২০২৫কে তিনি 'মুক্তির দিন' বলে বর্ণনা করেন। একই দিনে মার্টিন লুথার কিং দিবস ও অভিষেক প্রয়াত নাগরিক অধিকার নেতা ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের কন্যা বার্নিস কিং বলেছেন যে এই বছরে মার্টিন লুথার কিং (এমএলকে) দিবস এবং অভিষেক দিবস একই দিনে হওয়া তার বাবার উত্তরাধিকার সম্পর্কে পুনরায় চিন্তা করার একটি সুযোগ হয়েছে। তিনি বলেন'এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে কিং দিবস এবং অভিষেক একসাথে পালিত হচ্ছে, কারণ এটি আমাদের কিং-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ড. কিং-এর চার সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ, শনিবার এমএসএনবিসির 'দ্য উইকেন্ড' শোতে। বার্নিস মাত্র ৫ বছর বয়সে ছিলেন, যখন তার পিতা ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল হত্যা হন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইতিহাসে জাতিগত মন্তব্যের জন্য সমালোচিত হওয়া সত্ত্বেও, কিং বলেছেন, তার অভিষেক এবং তার বাবার ছুটির দিনে মিলিত হওয়া “আমাদের আবার কিং-এর দিকে নিয়ে যায়।” “এটি বলে, ‘যখন আমরা এগিয়ে যাব, আমাদের তা কিং-এর চেতনার সঙ্গে করতে হবে,’” তিনি বলেন। বার্নিস কিং এবং তার ভাই মার্টিন লুথার কিং তৃতীয় শুরু থেকেই ট্রাম্পের সমালোচক। সম্প্রতি, ট্রাম্প উত্তর ক্যারোলিনার লেফটেন্যান্ট গভর্নর মার্ক রবিনসনকে সমর্থন করেছেন, যিনি গভর্নর পদের জন্য দাঁড়িয়েছেন এবং ড. কিং সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ট্রাম্প রবিনসনকে কিং-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, রবিনসন “স্টেরয়েড খাওয়া কিং।” ট্রাম্প নিজেকেও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আইকন কিং-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি মিথ্যা দাবি করেছিলেন যে ৬ জানুয়ারি, ২০২১ সালের “স্টপ দ্য স্টিল” সমাবেশে কিং-এর “মার্চ অন ওয়াশিংটন ফর জবস অ্যান্ড ফ্রিডম” থেকে বেশি লোক উপস্থিত ছিলেন, যেখানে কিং তার বিখ্যাত “আই হ্যাভ এ ড্রিম” ভাষণ দিয়েছিলেন। যারা নির্বাচন ফলাফলে “পরাজিত” মনে করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বার্নিস কিং বলেছেন, আমেরিকানদের “উদ্দেশ্যের উপর মনোযোগী” থাকতে হবে। “আমাদের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। আমরা কৌশল হারিয়ে ফেলেছি। আমরা ড. কিং-এর চেতনা হারিয়েছি,” কিং বলেন। “ড. কিং-এর চেতনা হলো অহিংসা। আর অহিংসা শুধুমাত্র একটি অবস্থান নয়, এটি একটি মনোভাব। আমাদের জন্য, এটি ভালোবাসা-কেন্দ্রিক চিন্তা, কথা বলা, কাজ করা এবং সম্পৃক্ত হওয়ার একটি উপায় যা ব্যক্তিগত, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক রূপান্তর সৃষ্টি করে।” বিপি।এসএম    
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি