
নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো মানবদেহে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির সিয়াটলে কেইসার পার্মানেন্ট রিসার্চ সেন্টারে গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) এই ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত একজনের শরীরে এটি প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা বুঝে উঠতে কয়েক মাস সময় লাগবে।
আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটার এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৪,৭২৭ জন। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের।
সিয়াটলে বসবাসকারী দুই সন্তানের মা জেনিফার হলার প্রথম এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই স্বেচ্ছাসেবী বলেন, করোনা ভাইরাসের কাছে এই মুহূর্তে আমরা সবাই অসহায়। এটা আমার জন্য সুবর্ণ সুযোগ যে আমি কিছু করতে পারছি। তিনি এই কার্যক্রমে অংশ নেয়ায় তার দুই সন্তানও বেশ খুশি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানায়, এই ভ্যাকসিন ফলপ্রসূ হবে কিনা তা জানতে বেশ কয়েক মাস লেগে যাবে। এছাড়া এই ভ্যাকসিন বাজারে আসতে এক থেকে দেড় বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। করোনা ভ্যাকসিন তৈরি দলের বিজ্ঞানী ড. লিসা জ্যাকসন বলেন, তারা সবাই এই জরুরি অবস্থায় যতটুকু পারেন তা-ই করতে চান। আমরা এখন একটি টিম। এই জরুরি মুহূর্তে যা করা দরকার আমরা সবাই সেটাই করতে চাচ্ছি।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের অর্থায়নে এক মাস ধরে মানবদেহে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানো হবে। কমপক্ষে ৪৫ স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে করোনার ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানো হবে।
গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। সেখানে এই ভাইরাস দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও আতঙ্কজনকহারে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করায় বিশেষজ্ঞরা এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কাজ শুরু করেন।
বিপি।সিএস
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]