৫ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বিএনপির আন্দোলনের নেপথ্য ঘটনা!

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বিএনপির আন্দোলনের নেপথ্য ঘটনা!
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে আগমনকে কেন্দ্র করে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মিদের গত সপ্তাহ কেটেছে চরম উৎকন্ঠায়। নিউ ইয়র্ক প্রবাসী আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপসহ আওয়ামীলীগ-বিএনপির নেতাকর্মিদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত ছিলো বাংলাদেশিদের ব্যবসাকেন্দ্র খ্যাত জ্যাকসন হাইটস এলাকা। বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নানা ধরনের সমাবেশে মুখরিত ছিল জ্যাকসন হাইটস এলাকা। আওয়ামীগের ভয়ে ব্যানার গুটিয়ে ডাইভারসিটি প্লাজা থেকে বিএনপি কেন পালিয়েছিল তা নিয়ে নানা বিচার বিশ্লেষণ করছে প্রবাসীরা। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারিসিটি প্লাজায় বিএনপি নেতা গিয়াস আহমদে, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ আতিকউল্লাহ  ও গোলাম ফারুক শাহীনসহ নিউ ইয়র্ক স্টেট বিএনপির প্রায় ১০/১৫ জন কর্মি যেখানেই হাসিনা সেখানেই প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক সমাবেশের আয়োজন করেন। অপর দিকে পাশে অবস্থান নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা তাদের সমাবেশ ভুন্ডুলের উদ্দেশ্যে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মি জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিতে দিতে বিএনপির সমাবেশের দিকে তেড়ে আসে। উভয় দল মুখোমুখি অবস্থান নেয়। শুরু হয় বাক-বিতন্ডা। নিমিষেই পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে থাকে। বিএনপি নেতাকর্মিদের চেয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিদের সংখ্যা ছিলো দ্বিগুনের বেশি। তাই তারা প্রতিবাদে ব্যর্থ হয়ে নিজেদের ব্যানার গুটিয়ে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন। কিন্তু ওইদিন একই সময়ে ইটজি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় বিএনপির একটি অংশের সংবাদ সম্মেলন চলছিলো। খবর পেয়ে বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান জিলু, মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন, যুবদলের সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী ও বিএনপি নেতা জসিম ভুঁইয়াসহ অনেকেই ছুটে যান ডাইভার্সিটি প্লাজায়।কিন্তু  পর্যাপ্ত পরিমাণ বিএনপির কর্মিরা আসার আগেই বিএনপি নেতা গিয়াস আহমদে, মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ আতিকউল্লাহ ও গোলাম ফারুক শাহীনসহ অন্যান্যরা সেখান থেকে নিজেদের ব্যানার গুটিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। এ ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একটি বড় ধরনের পরাজয় বলে মন্তব্য করেছেন নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সচেতন প্রবাসীদের মতে, ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সকল নেতাকর্মিরা একত্রিত হয়ে আওয়ামীলীগকে প্রতিহত করে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে পারলে বিএনপির কষ্টার্জিত আন্দোলন কিছুটা সফল হতো বলে প্রবাসীরা ধারণা করছেন। এ ঘটনায় তারা আওয়ামীলীগের কাছে বিএনপির ভরাডুবি বা পরাজয় ভাবছেন। একইদিন নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ৭৩ স্ট্রিটে একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে স্থাপন করলে অদূরে ৩৭ অ্যাভিনিউতে একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে স্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। কিন্তু বিএনপির অফিস স্থাপন নিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সমর্থকরা অফিস স্থাপনে বাধা দিলে শুরু হয় তুমুল মারামারি। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিট ও ৩৭ অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘসময় চলতে থাকে হাতাহাতি ও ধ্বস্তাধস্তি। এ সময় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। নিউ ইয়র্ক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের উত্তেজনা। পরে পুলিশ দুই পক্ষতে এলাকা ত্যাগে বাধ্য করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি