৬ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থা বাতিল হচ্ছে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থা বাতিল হচ্ছে

কৌশলী ইমা: যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের বাছাই পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। হোয়াইট হাউসের নতুন একটি প্রস্তাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সরকার এলোমেলোভাবে পরিচালিত বর্তমান এইচ-১বি ভিসা লটারি পদ্ধতি থেকে সরে এসে নতুন নিয়ম চালু করতে চাচ্ছে। এতে আমেরিকান গ্র্যাজুয়েট, প্রযুক্তি খাতের কর্মী ও বৈশ্বিক প্রতিভার ওপর নির্ভরশীল কোম্পানিগুলোর ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

এইচ-১বি ভিসা বিতরণের নিয়ম পর্যালোচনার উদ্যোগ

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এবং মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) যৌথভাবে একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এই প্রস্তাবে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগে পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমানে এইচ-১বি ভিসা একটি লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে দেয়া হয়। প্রতি বছর হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ে, কিন্তু সীমিত সংখ্যক ভিসা দেয়া হয়। এলোমেলোভাবে বিজয়ী নির্বাচন করা হয় ফলে অনেক সময় বিরল দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কেউ বাদ পড়ে যায়, আবার তুলনামূলক কম যোগ্যতা সম্পন্ন কেউ নির্বাচিত হয়।

প্রস্তাবটির শিরোনাম 'ক্যাপ-বিষয় এইচ-১বি পিটিশন দায়ের করতে ইচ্ছুক নিবন্ধক এবং আবেদনকারীদের জন্য ওয়েটেড নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্দেশ করছে যে সরকার স্কিল, বেতন ও শিক্ষাগত যোগ্যতার মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে বাছাই পদ্ধতি চালু করতে চাচ্ছে। প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যে তা চূড়ান্ত হতে পারে। অনুমোদনের পর এটি ফেডারেল রেজিস্টার -এ প্রকাশিত হবে।

সরকার এইচ-১বি ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়েও উদ্বিগ্ন। অনেক কোম্পানি আমেরিকান কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেয়।

বিতর্কের কেন্দ্রে প্রযুক্তি খাত ও মার্কিন গ্র্যাজুয়েটরা

অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট ও আইবিএম-এর মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এইচ-১বি ভিসা খুবই জনপ্রিয়। এরা বলে থাকে যে দেশে পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মী নেই, তাই বিদেশিদের নিয়োগ দিতে হয়।

কিন্তু ইনস্টিটিউট ফর সাউন্ড পাবলিক পলিসি-এর নির্বাহী পরিচালক কেভিন লিন বলছেন, ব্যাপারটি এত সরল নয়।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৩৪ হাজার-এর বেশি শিক্ষার্থী কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক হয়েছে। অথচ একই বছরে এইচ-১বি, ওপিটি (ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ) ও এইচ-৪ ইএডি (স্বামীর কাজের অনুমতিপত্র) মিলিয়ে ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি বিদেশি কর্মীকে একই খাতে কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

কেভিন লিন মনে করেন, এই কর্মসূচিগুলো মার্কিন প্রযুক্তি গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। কারণ এতে করে দেশীয় শিক্ষার্থীরা এন্ট্রি-লেভেল চাকরিতে সুযোগ পাচ্ছে না।

২০২৫ সালের শুরুতে কম্পিউটার সায়েন্স গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৬.১%, আর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে ৭.৫%। যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক বেকারত্ব যেখানে ৪.০%।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি চারজন কম্পিউটার বিষয়ক গ্র্যাজুয়েটের মধ্যে একজন মনে করেন, তারা ভুল বিষয় বেছে নিয়েছেন। কেভিন লিন বলেন, এইচ-১বি ও ওপিটি-এর মতো কর্মসূচিগুলো এজন্যই দায়ী।

আউটসোর্সিং ও বিদেশি কোম্পানির আধিপত্য

হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রন হিরা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এইচ-১বি প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন, তিনি বলেন ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, কগনিজেন্ট ও অ্যাকসেনচার-এর মতো আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলো এই ভিসা ব্যবহার করে মার্কিন চাকরি বিদেশে সরিয়ে নিচ্ছে।

তারা 'গ্লোবাল ডেলিভারি মডেল' ব্যবহার করে গ্রাহকদের কম খরচে আইটি সেবা দেয়। এসব কোম্পানির অল্প কিছু কাজই যুক্তরাষ্ট্রে থাকে এবং সেই কাজগুলোতেও স্থানীয়দের বদলে এইচ-১বি কর্মীদের নিয়োগ দেয়া হয়।

হিরার মতে, এই ধরনের কোম্পানিগুলো এইচ-১বি ভিসার ৪০% ব্যবহার করে থাকে এবং বিদেশি কর্মীদের কম বেতনে রেখে মার্কিনদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করে।

বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বেতন বৈষম্য

অ্যাপল, আমাজন ও মাইক্রোসফট-এর মতো কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে তারা তাদের এইচ-১বি কর্মীদের মধ্যে অনেককে স্তর ১ ও স্তর ২-এর মতো সর্বনিম্ন বেতনের স্তরে রাখে, যা স্থানীয় মিডিয়ান বেতনের চেয়ে অনেক কম। এতে করে তারা একজন মার্কিন কর্মীর চেয়ে ২০% থেকে ৪০% কম বেতন দিয়ে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ দেয়।

হিরা বলেন, সরকার সাদা-কলার চাকরি কীভাবে বিদেশে যাচ্ছে তা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ করছে না। এআই বা অটোমেশনকে অজুহাত দেখিয়ে আসলে অনেক কোম্পানি বিদেশে আউটসোর্স করছে।

সমাধানের প্রস্তাব

রন হিরা সরকারের জন্য কিছু সুপারিশ দিয়েছেন:

শ্রম মন্ত্রণালয় যেন কঠোর বেতন নীতিমালা চালু করে

নিয়মিত অডিট ও দক্ষতার স্তর অনুযায়ী সঠিক শ্রেণিবিন্যাস নিশ্চিত করা হয়

এলোমেলো লটারি বাদ দিয়ে বেশি বেতন ও যোগ্যতাসম্পন্ন আবেদনকারীকে অগ্রাধিকার দেয়া হয় এবং

সর্বশেষ, কানাডার মতো নিয়ম চালু করে কোম্পানিগুলোকে যেন মার্কিন কর্মী খুঁজে না পেলে তবেই বিদেশি এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেয়া হয়

এই প্রস্তাব কার্যকর হলে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি খাতে চাকরির লড়াইয়ে বড় পরিবর্তন আসবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি। সিএস  
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি