
নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ২০ হাজার রোগীর অবস্থা এখনও অবস্থা আশঙ্কাজনক।দিনরাত করোনার সাথে পাঞ্জা লড়ছেন এসব রোগী। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তাদের অবস্থার তেমন কোন উন্নতি হচ্ছে না। ওয়ার্ল্ডমিটারের একটি সূত্র জানায় যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন ১৯ হাজার ৬৩ জন করোনা রোগী।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণ আবার ব্যাপক হারে বাড়ছে। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোয় ৫৯ হাজারের বেশি কোভিড-১৯ রোগী ভর্তি ছিল, যা একটি রেকর্ড। এক দিনে এত বেশিসংখ্যক রোগী এর আগে দেশটির হাসপাতালগুলোয় ভর্তি ছিল না।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে টানা ছয় দিন রেকর্ড হয়েছে। গত ছয় দিনের প্রতি দিনই নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ১ লাখের বেশি ছিল।
এ অবস্থায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিয়ে এল আরও ভয়াবহ তথ্য। তাদের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল সোমবার বিভিন্ন হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৯ হাজার ৮ জন। এর আগে গত ২২ জুলাই সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার ৩৭০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাইজারের ভ্যাকসিন সুখবর দিলেও যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এই উচ্চহার ভয়াবহ শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। ফাইজারের ভ্যাকসিনটি তৃতীয় ধাপ উতরে গেছে এবং করোনার বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতা ৯০ শতাংশ। এ ভ্যাকসিন আনায় ফাইজারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশটির নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ভ্যাকসিনটি সবচেয়ে বেশি অসুস্থ রোগী ও সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের আগে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ভীষণ কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে সংক্রমণ সংখ্যার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আক্রান্তদের কতজন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, সে সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রে এ সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ১০৩ জন কোভিড-১৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে এ সংখ্যা ৪ হাজার ৪০৯ ও ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩ হাজার ৬৬৮।
গত ১০ দিনে দেশটিতে নতুন করে ১০ লাখের বেশি মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথম ধাপে যে গতিতে ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার হয়েছিল, তার চেয়ে এই দ্বিতীয় ধাপের গতি অনেক বেশি
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস এবং আরও করে বললে এই ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে মাস্ক পরা-না পরা নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে। রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জো বাইডেন নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মাস্ক পরার ওপর তিনি জোর দিচ্ছেন। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি, তাতে এই মোকাবিলার সরাসরি সুযোগ বাইডেন পাওয়ার আগেই অনেক জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে অনেক ভুগেছে। গত ১০ দিনে দেশটিতে নতুন করে ১০ লাখের বেশি মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথম ধাপে যে গতিতে ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার হয়েছিল, তার চেয়ে এই দ্বিতীয় ধাপের গতি অনেক বেশি। শুধু ১০ নভেম্বর ও এর আগের সাত দিনে নতুন সংক্রমণ হয়েছে ৭ লাখ ৭০ হাজারের বেশি, যা এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। আর মৃতের সংখ্যা আগের সপ্তাহ থেকে ১০ শতাংশ বেশি। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট ১ কোটি ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]