ভোট করতে দেবে না, বিএনপি এত সাহস কোথায় পায়: শেখ হাসিনা
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: নির্বাচন প্রতিহতে বিএনপির কর্মসূচিতে অগ্নিসংযোগে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারেক রহমান রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছে। সেখানে বসে নির্বাচন বন্ধ করতে আগুন সন্ত্রাসের হুকুম দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি বলে ভোট করতে দেবে না। তারা এত সাহস কোথায় পায়।’
বুধবার বিকালে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকাল তিনটা ১০ মিনিটে জনসভা স্থলে আসেন শেখ হাসিনা।
নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান দলীয় প্রধান। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা।
প্রতিবারের মতো এবারও সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
জনসভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ, ১৫ আগস্টের শহীদ ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের মানুষ যখন স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছিল ও অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল তখনই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বাবা-মাকে হত্যা করার পর আমাকে বাংলার মাটিতে আসতে বাধা দেওয়া হয়। সব বাধা উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মানুষের জন্য ফিরে আসি। দেশে ফিরে শপথ করেছিলাম বাংলাদেশের মানুষই আমার পরিবার। তাদের জন্য আমি কাজ করব, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশকে আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছি। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বারবার ক্ষমতায় আনছেন বলেই বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়ন দেশে রূপান্তরিত করতে পেরেছি।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর দেশের ক্ষমতা দখল করা হয়েছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, জাতির পিতার হত্যার পর এদেশের আইন লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করা হয়েছিল। সামরিক আইন ও দেশের আইন লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতায় এসেছিল। তারাই দেশের মধ্যে হাঁ-না ভোট চালু করেছিল। নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করলেও দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কোনো কাজ করেনি। তারা ক্ষমতায় এসেছিল ক্ষমতা ভোগ করতে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করার অধিকার ছিল না।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেয়নি। আমেরিকা আমাদের প্রস্তাব করলো ক্ষমতায় আসতে হলে গ্যাস দিতে হবে। আমি বলেছিলাম এই গ্যাস দেব না, এই গ্যাস জনগণের গ্যাস। জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে। তারপর খালেদা জিয়া গ্যাস দেওয়ার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তখন আমি বলেছিলাম খালেদা জিয়া গ্যাস দিতে পারবে না। তারপর তারা ক্ষমতায় এসে দেশের মধ্যে জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও দুঃশাসন সৃষ্টি করে। তখন তারা গ্যাস পায়নি, দিতেও পারেনি। কিন্তু সে কূপ খনন করে আমরা শুধু গ্যাসই নয়, তেলও পেয়েছি। আল্লাহ যখন কাউকে কিছু দেয়, সেটা মানুষজন বুঝে ধন দেয়, এটা হলো বাস্তব কথা। আল্লাহ জানে তাদের হাতে পড়লে সবকিছুই শেষ করবে, আওয়ামী লীগের হাতে পড়লে জনকল্যাণে ব্যয় হবে।
আওয়ামী লীগ যখন উন্নয়ন কাজ করছে তখন বিএনপির কাজ হচ্ছে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানো- এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানো, মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব থাকলে কেউ করতে পারে না। মা শিশুকে বুকে ধরে রেখেছে সে অবস্থায় আগুন দিয়ে মা ও শিশুকে পুড়ে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত দেশের মধ্যে আগুন সন্ত্রাস করছে। বাসে ও ট্রেন আগুনে পোড়াচ্ছে।
‘২০১৩-১৪ সালেও নির্বাচন বন্ধ করার নামে তারা আগুন সন্ত্রাস করেছিল। কিন্তু বিএনপি অগ্নিসন্ত্রাস করে ভোট ঠেকাতে পারেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। তারা বলে ভোট করতে দেবে না। তারা এত সাহস কোথায় পায়। তারেক রহমান রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছে। সেখানে বসে নির্বাচন বন্ধ করতে আগুন সন্ত্রাসের হুকুম দিচ্ছে।’
সরকারপ্রধান বলেন, লন্ডনে বসে একটা কুলাঙ্গার হুকুম দেয় আর কতগুলো লোক এখানে আগুন নিয়ে খেলে। আগুন নিয়ে খেলতে গেলে আগুনেই হাত পোড়ে, এটা তাদের মনে রাখা উচিত। তারা মনে করেছে দুইটা আগুন দিলেই সরকার পড়ে যাবে, অত সহজ না।
নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী নির্বাচন নৌকা মার্কা; এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা, এই নৌকায় মানবজাতিকে রক্ষা করেছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। এই নৌকায় ভোট দিয়ে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। আবার এই নৌকা যখন সরকারে এসেছে, নৌকা মার্কায় ভোট পেয়ে যখন আমরা সরকারে এসেছি বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়েছে। ’
তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমরা যাদের নৌকা মার্কার প্রার্থী দিয়েছি তাদেরকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। আপনাদের কাছে সেটাই আমার আহ্বান। ’
এদিন বেলা ১টার দিকে সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এসময় তার সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানা ছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৬০১ এর একটি ফ্লাইটে বেলা ১১টা ৩৩ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন শেখ হাসিনা। এসময় তাকে অভ্যর্থনা জানান কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
বাংলাদেশ
ঈদুল আজহায় ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলবে, অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু কবে
৫ ঘন্টা আগে
by বাংলা প্রেস
বাংলাদেশ
‘পুশব্যাক’ ইস্যুতে বাংলাদেশকে নাগরিকত্ব যাচাই দ্রুত করার আহ্বান ভারতের
৫ ঘন্টা আগে
by বাংলা প্রেস
বাংলাদেশ
হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
৫ ঘন্টা আগে
by বাংলা প্রেস
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি