স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবারও এক হয়েছে, সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী
মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্প উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। আবারও স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল এক হয়েছে।
তারা বিগত সময়ও তলে তলে একসঙ্গে ছিল। এ জন্য তাদের গুপ্ত দল বলা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, পুরোহিতদের মাঝে সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর যেভাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে তখন তারা কোথায় ছিল।
তারা নিজেদের জন্য রাজনীতি করে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাদের এই অপরাজনীতি দেশের মানুষ বুঝে গেছে। তারা যদি দায়িত্ব পায় তারা নিজেদের জন্য কাজ করবে, দেশের জন্য কিছুই করবে না। নির্বাচনের আগে তারা বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছে। অথচ বেহেশত-দোযখের মালিক আল্লাহ।মানুষ যদি এসব বলে তারা প্রকারান্তে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে। আর যারা আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে তারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করবে—এটাই স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এক দফা-এক দফা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তাই যারা নিজেদের জন্য রাজনীতি করে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমি বহু বছর পর নানাবাড়ি ফেনীতে এসেছি।
আমার মা নেই, আপনারাই আমাকে দেখে রাখবেন। নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম সরকার গঠন করলে কৃষক-দিনমজুর, অসহায়-দুস্থ, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা করব। তারা যাতে স্বাবলম্বী হয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আর এই জন্যই আজ তাদের হাতে সহায়তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি দেশের উন্নয়নের রাজনীতি করে। বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে দেশের অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়েছিল। আমরা এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়েছি যাতে কলকারখানাগুলো চালু হয়। আমার দেশের মানুষের যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। জনগণের মিনিমাম একটু সহযোগিতা করতে পারলে তারাই নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়ে তুলবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সামস, বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ চৌধুরী ইয়াসিন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভিপি, নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওবাদুদ ভূঁইয়া, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য সাকেরা আক্তার মুন্নি, রেহানা আক্তার রানু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবুর করিম, বাংলাদেশ ফুটবল ফেড়ারেশনের প্রেসিডেন্ট তাবিথ আউয়াল, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থেকে দেশের ৭৭টি উপজেলায় কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করেন। এ সময় ফেনীর ১০ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ১০ জন কৃষক-কিষানিকে কৃষি কার্ড এবং ১০ জন ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতকে বার্ষিক সম্মানি ভাতা প্রদান করেন।
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি