৪ মে ২০২৬

স্বামী-সন্তান দেখতে এসে কারাগারে ৮ মাস পর দেশে ফিরলেন ভারতীয় নারী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
স্বামী-সন্তান দেখতে এসে কারাগারে  ৮ মাস পর দেশে ফিরলেন ভারতীয় নারী

পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দেয়া হয় ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা ফাল্গুনী রায়কে।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:   প্রথম স্বামী ও সন্তানকে খুঁজে পাওয়ার আশায় বৈধ পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকার বাসিন্দা ফাল্গুনী রায় (২৯)।  এ খোঁজই শেষ পর্যন্ত তাকে ঠেলে দেয় প্রতারণা ও কারাবাসের কঠিন বাস্তবতায়। অবশেষে দীর্ঘ আট মাস কারাভোগ শেষে নিজ দেশে ফিরে গেছেন তিনি।

রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ২টায় দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা জয়নগর আইসিপি সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ভারতে ফেরত দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, প্রায় ১০ থেকে ১১ বছর আগে বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ সরকার পরিচয় গোপন করে ভারতে যান এবং সেখানে ফাল্গুনী রায়কে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের সংসারে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। পাঁচ বছর সংসারের পর গৌরাঙ্গ হঠাৎ ছেলেকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন এবং স্ত্রীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

স্বামী ও সন্তানের খোঁজে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে কোনো খবর না পেয়ে ফাল্গুনী পরে প্রতিবেশী প্রসেনজিতের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। তবে প্রথম স্বামী ও সন্তানকে একবার দেখার আকাঙ্ক্ষা তার মনে থেকে যায়। সেই টান থেকেই ২০২৫ সালের জুন মাসে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন তিনি।

বাংলাদেশে এসে পিরোজপুরে স্বামীর বাড়িতে পৌঁছালে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অপমান করা হয়।  এমনকি তার পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র কেড়ে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

অসহায় ফাল্গুনী শেষ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত নেন।  বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে না থাকায় তিনি দালালের সহায়তায় ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু গত বছরের ৩০ জুন মহেশপুর সীমান্তে প্রবেশের সময় বিজিবির সদস্যদের হাতে গ্রেফতার হন তিনি।

মহেশপুর থানায় সোপর্দের পর দুটি পৃথক মামলায় তার সাজা হয়।  এ সাজায় প্রায় আট মাস কারাগারে কাটাতে হয় ফাল্গুনীকে।

দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের এসআই তুহিন জানান, ফাল্গুনী রায় ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থানার টেংরা কলোনি এলাকার মৃত বিশ্বনাথ রায়ের মেয়ে। দীর্ঘ আট মাসের সাজা  শেষে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠক শেষে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।  
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি