৪ মে ২০২৬

স্ট্রাকচারাল জায়গা বদলালে আবার চব্বিশ হবে: হাসনাত

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
স্ট্রাকচারাল জায়গা বদলালে আবার চব্বিশ হবে: হাসনাত

রাজধানীর কাওরানবাজারে এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   সিজন ও চেয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের মেন্টালিটি চেঞ্জ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। 

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কাওরানবাজারে ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত ‘আবারও হুমকির মুখে মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যারা চব্বিশে রাস্তায় নেমেছিল তারা কাউকে এমপি-উপদেষ্টা বানানোর জন্য রাস্তায় নামেনি। তারা রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের জন্য রাস্তায় নেমে এসেছিল।

এনসিপির এই নেতা বলেন, সরকারকে স্ট্রাকচারাল জায়গায় এক হতে হবে। এটি থেকে সরে আসলে চব্বিশ আবারও হবে। কোনো না কোনোভাবে হয়তো সে প্রস্তুতি হচ্ছে। বাট চব্বিশ হবে। মেজরিটি দিয়ে আটকানোর সুযোগ নেই।

সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিরোধিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেকেই যারা সাফারার (ভুক্তভোগী) ছিল, তারাই এখন এর বিরোধিতা করছেন। এটা ডিসরেসপেক্টফুল (অসম্মানজনক)।

মানবাধিকার কমিশনকে মন্ত্রণালয় বা সরকারি নিয়ন্ত্রণের অধীন রাখার সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, যদি মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ যথাযথভাবে কার্যকর না হয়, তবে ২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী তদন্তের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যাবে। এর ফলে জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার মতো বিষয়গুলোর তদন্তের ভার পুলিশের হাতেই থাকবে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন না হলে জাতি আবারও অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারগুলোর কষ্টের কথা উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিল, যেখানে কাউকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হাওয়া করে দেওয়া হবে না। 

নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষের কোনো লাভ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিনশেষে আমরা সবাই সুবিধাভোগী হয়েছি। সাধারণ মানুষের এ নির্বাচনের পর কোনো লাভ হয়নি। কিন্তু আমার চাই, রাষ্ট্র আমাদের থেকে কিছু পাক; জনগণ আর আশাহত না হোক, এটাই আমাদের আশা।

ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যোক্তা ও সংগঠক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় নাগরিক সংলাপে বক্তব্য দেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মানজুর–আল–মতিন।

মানজুর–আল–মতিন বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দ্রুত গৃহীত হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী আইনটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও গুম বন্ধের ম্যান্ডেট রক্ষায় সরকারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিচার বিভাগ স্বাধীন করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।  সূত্র: যুগান্তর

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি