৪ মে ২০২৬

স্থাপত্য শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
স্থাপত্য শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ

আনিছুর রহমান মানিক, ডোমার (নীলফামারী) থেকে: নীলফামারীর ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নিদর্শন। চিনা মাটির নয়নাভিরাম কারুকার্যে শোভিত মসজিদটি একনজরে দেখতে নানা দেশের পর্যটকরা ছুটে আসে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। ইতিহাস থেকে জানাযায়, উপমহাদেশে সুফী সাধকদের প্রেরণাতেই এক সময়ে মুসলিম শাসন ও মোগল আমলে বহু মসজিদ গড়ে উঠে। ধর্ম প্রচার ও প্রসারের পাশাপাশি মুসলিম সাধকরা শিল্প-সুষমা মতিরা অসংখ্য উপসনালয় ও মসজিদ তৈরি করেন। এমনি একটি উপাসানালয় নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শহরের ইসলামবাগে ১৮৬৩ সালে নির্মিত ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ। প্রথমে এটি ছিল একটি দোচালা টিনের ঘর।

পরবর্তীতে ১৯২০ সালে ইমাম হাজী হাফিজ আবদুল করিমের উদ্যোগে মসজিদের ৩৯/৪০ ফুট আয়তনের পাঁকাঘর নির্মাণ করা হয়। এর নকশা তৈরি করেন হাজী করিম নিজেই। ১৯৬৫ সালে এর দ্বিতীয় অংশটিরও নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এ সময় কলকাতা থেকে ২৪৩টি শংকর মর্মর পাথর এনে মসজিদে লাগানো হয়। মসজিদের স¤পূর্ণ অংশ চিনামাটির টুকরা দিয়ে আবৃত করতে বগুড়ার একটি গ্যাস ফ্যাক্টরি ওই মসজিদে ২৫ মেট্রিক টন চিনামাটির পাথর দান করেন। এই পাথরেই মোড়ানো হয় মসজিদের ৩২টি মিনারসহ ৩টিবড় গম্বুজ। নির্মাণ করা হয় উত্তর ও দক্ষিণে দু’টি ফটক। মসজিদের গোটা অবয়ব ঢেলে সাজানো হয় রঙিন চকচকে পাথরে।

মসজিদের বারান্দা বাঁধানো হয় সাদা মোজাইকে।দেয়াল জুড়ে চিনামাটির পাথরেই আঁকা হয় নানান সুদৃশ্য নকঁশা। স্থানীয় সাব্বিরখাঁন জানান, মসজিদের পুরো অংশ চিনামাটি দিয়ে তৈরি বলে এর নাম করণ করা হয় চিনি মসজিদ। মসজিদকে ঘিরে আছে নানা কাহিনী। এর অনন্য নকশা আর স্থাপত্য শৈলীর কারণে এটি আকৃষ্ট করেছে শিল্প বা স্থাপত্য সমঝদারদেরকেও। মসজিদটি নিছক উপাসনালয়ই নয়, নয়নাভিরাম স্থাপত্যশৈলীর এই মসজিদটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও সমান আকর্ষণীয়, তেমন ধর্মানুরাগী মুসলমানদের মনেও মসজিদের আবহ সঞ্চার করে এক দারুণ আধ্যাত্নিক অনুভূতি। দৃষ্টি মনোহর ও ঐতিহ্যমতি মসজিদটির দ্বিতীয় তলায় পর্যটকদের থাকার বিশেষ ব্যবস্থা আছে।

ফলে প্রতিবছরই দেশ-বিদেশের উলে¬খযোগ্য সংখ্যক পর্যটক, প্রথিতযশা ব্যক্তি ঘুরে আসেন এ মসজিদ। বিভিন্ন সময় পার্শবর্তী দেশের দু’জন রাষ্টপ্রধানও পরিদর্শন করেন এ মসজিদ। মসজিদটি সম্প্রসারণের দাবি উঠলেও এর বাঁয়ে একটি ইমামখানা, ডানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিমে গা ঘেঁষে খ্রিস্টিয় সম্প্রদায়ের কবরস্থান আর পূর্বে পাকা সড়কের কারণে মসজিদটি সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত। তবে এরই মধ্যে ডানদিকে কিছুটা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ধর্মানুরাগী ও বিচক্ষণ আবদুল করিম এলাকায় নির্মাণ করেন বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৯ সালে তিনি পরলোকগমন করেন। নিঃসন্দেহে চিনি মসজিদ এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করতে রেখেছে অনন্য ভুমিকা। এটি ইতিহাসের পাতায় ধরে রাখতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন এলাকাবাসী।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি