৮ মে ২০২৬

সৈয়দপুর পৌর মেয়রের অপসারণের দাবি জানিয়ে কাউন্সিলরদের সংবাদ সম্মেলন 

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
সৈয়দপুর পৌর মেয়রের অপসারণের দাবি জানিয়ে কাউন্সিলরদের সংবাদ সম্মেলন 
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নৈতিক স্খলন, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অদক্ষতার অভিযোগ এনে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবীর প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তার অপসারাণের দাবিতে একাট্টা হয়েছেন প্যানেল মেয়র সহ পরিষদের ১৪ কাউন্সিলর। তারা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা সহ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবি তুলে ধরে পৌরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন। এজন্য গত ২৩ মার্চ স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব কে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগে গত ২০ মার্চ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবরেও একই আবেদন করেছেন কাউন্সিলররা। স্ব স্ব কার্যালয়ে গিয়ে এই অভিযোগ জমা দিয়েছেন তারা। এই বিষয়ে পৌরবাসীকে অবগত করতে শনিবার (৩০ মার্চ) সংবাদ সম্মেলন করেছেন আন্দোলনকারীরা। সকাল সাড়ে ১১ টায় শহরের ওয়াপদা মোড় এলাকায় ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র শাহীন হোসেনের অফিসে এর আয়োজন করা হয়। এতে তিনি নিজে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য রাখেন ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জোবায়দুর রহমান শাহীন, ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকতার, ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল খালেক সাবু প্রমুখ। অন্যান্য কাউন্সিলরদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্যানেল মেয়র-২ ও ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা বেগম, ১৩, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর রুবিনা সাকিল, ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর ইয়াসমিন পারভীন, ১০, ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর ইয়াসমিন সুলতানা, ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেন, ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মানিক, ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জোবায়দুল ইসলাম মিন্টু, ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মঞ্জুর আলম। কাউন্সিলররা বলেন, মেয়র রাফিকা আকতার জাহান ‘মেয়র’ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ বেলেল্লাপনা চাল চলনে সৈয়দপুরবাসী শঙ্কিত হতে থাকেন। ২০২৩ সালে তার প্রথম আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি ৪ জন কাউন্সিলরকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন যে, এই ভিডিওগুলি সুপার এডিট করা হয়েছে। বছর না ঘুরতেই পুনরায় মেয়র রাফিকার অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপ ও ছবিগুলোতে দেখা যায় মেয়র রাফিকা ভিডিও কলে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রকাশ করছেন। তিনি বিভিন্ন গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অশ্লীল ভঙ্গিতে নাচছেন। আরেক ভিডিওতে দেখা যায় ভিডিও কলের অপর প্রান্তের কারও সঙ্গে বিবস্ত্র হয়ে শরীরের গোপন অঙ্গ প্রদর্শন করছেন। এমন দৃশ্যাবলি দেখার পয় সৈয়দপুরের সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্নবাণে পৌর পরিষদ জর্জরিত ও বিব্রত। তাছাড়া মেয়র গত ১৩ মার্চ তারিখের বিশেষ (জরুরি) সভার আলোচ্যসূচি নং-০২ মোতাবেক বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত সৈয়দপুর পৌরসভার নিজস্ব সুপার মার্কেট এর স্টল বরাদ্দের পৌর পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে কার্য বিবরণীতে সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্তকরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাউন্সিলরগণের যৌথ স্বাক্ষরে আবেদন করেছিলাম। এদিকে মেয়র রাফিকা তার ৪ জন পি.এস রেখেছেন, যা কখনও তিনি পারেন না। তার আত্মীয়-স্বজন ও গৃহকর্মী ১৫ জনের নামে তিনি নিজেই বেতন উত্তোলন করেন। মেয়রের ব্যক্তিগত গাড়ির তেল ও ড্রাইভারের বেতন পৌরসভা থেকেই গ্রহণ করে থাকেন এবং মেয়র ব্যবহৃত গাড়ি ও ড্রাইভারকে অন্য কোথাও পারিবারিক কাজে ব্যবহারকালীন সময়ে পৌরসভার তেল গ্রহণ করে থাকেন। অন্যদিকে সৈয়দপুর পৌর এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই বেহাল। বিশেষভাবে তামান্না মোড় হইতে ওয়াপদা মোড় এবং দিনাজপুর রোড বইতে বসুনিয়া বাড়ির মোড় পর্যন্ত খানা-খন্দকে পরিপূর্ণ। পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাটও বেহাল। একজন অদক্ষ, ব্যর্থ মেয়র হিসাবে পৌর এলাকার জন্য কিছুই করতে পারেন নি। পৌরসভার নামীয় সম্পত্তি যাহা চেলু পাম্প নামে পরিচিত সেটি বিগত পরিষদের মামলা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান মেয়র রাফিকা আকতার জাহান মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুনরায় তাকে লিজ দেন। পৌরসভার বিভিন্ন বহুতল ভবন ও বড় বড় মার্কেটে হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে মালিককে ডেকে রিভিউ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কম রেটে ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। যাহা পৌর আইন পরিপন্থি। সৈয়দপুর পৌর বাজারের নির্মাণাধীন বিভিন্ন দোকান ও মার্কেট নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে চিঠি দ্বারা নোটিশ করা হয়। ৩ দিনের মধ্যে মেয়রের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়। তার পোষ্য দালালদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুনরায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য মৌখিক অনুমতি দেয়া হয়। সেই সাথে পৌর বিধি লঙ্ঘন করে মন মর্জি মোতাবেক মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে দোকানের নাম পরিবর্তন করা হয়। উল্লেখ্য যে, যার নাম পরিবর্তন করা হল বছর না ঘুরতেই মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অন্য কাউকে নাম পরিবর্তন করা হয় (যেমন- ঢাকা টেইলার্স, আবুল খায়েরসহ অন্যান্য দোকান)। মেয়র রাফিকার এহেন অপকর্মের প্রতিবাদে তার পরিবারের সদস্যগণ একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এমতাবস্থায় মেয়র রাফিকা আকতার জাহানের কুরুচিপূর্ণ ভিডিও ক্লিপ, পৌরসভা পরিচালনে নানান দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং নৈতিক স্খলনে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম শ্রেণি এই পৌরসভার মেয়রকে তার পদ থেকে অপসারণ করার জন্য আমরা কাউন্সিলরগণ যৌথ স্বাক্ষর করে স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় ও সচিব মহোদয়কে পত্র দিয়েছি। আমরা আশা করছি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় দৃষ্টান্তমূলক একটি কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। সেই সাথে জাতির বিবেক ও কলম সৈনিক হিসাবে আপনাদের নিকট আকুল আবেদন, যার যার অবস্থান থেকে মেয়র রাফিকা আকতার জাহানের অনৈতিক ভিডিও, কুকর্ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সোচ্চার হউন। আমাদের সহযোগিতা করুন। এবিষয়ে পৌর মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবীর মন্তব্য জানতে প্রথমে পৌর ভবনে ও পরে তার বাড়িতে গিয়েও তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর মোবাইলে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।   বিপি/টিআই  
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি