সৈয়দপুরকে সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়নের দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

রমজান আলী টুটুল, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : ১৯৭৩ সালে বিলুপ্ত সৈয়দপুর সিটি শহরের মর্যাদা পূনরুদ্ধারে এবং সৈয়দপুরের ব্যপক উন্নয়ন করতে সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়নের দাবীতে গতকাল সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে সৈয়দপুর সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়নে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কমিটির পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি পেশ করা হয়।
বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ১৬৭ টি লেটার হেড প্যাড, ১২ হাজার ১৫০ জনের গণস্বাক্ষর এবং প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের আলোকে পেপার কাটিং ৩০ পাতা সম্বলিত স্মারকলিপি ওই দিন দুপুর ১২টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রদানের উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব এস, এম গোলাম কিবরিয়া‘র নিকট হস্তান্তর করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কমিটির আহবায়ক তামিম রহমান, যুগ্ন আহব্বায়ক মনিরুজ্জামান (মনির), যুগ্ন আহব্বায়ক মাহবুব উল হাসান মুকুল, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম, আফতাব আলম পাপ্পু, গোলাম রসুল রাজু, বকুল শেখ, তাহমিদ হোসেন দিপু, মমিনুল ইসলাম, সাব্বির আহম্মেদ, আলমগীর হোসেন সহ আরো অনেকে।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কমিটি নেতৃবৃন্দ সৈয়দপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের মাধ্যমে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে দাবী আদায় করা হবে এবং সকলকে সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়নের দাবী বিভিন্ন ভাবে উপস্থাপন ও প্রচার চালানোর পাশাপাশি সৈয়দপুরবাসীকে আরো সচেতন করতে এই সামাজিক আন্দোলন সংগ্রামে সস্পৃক্ত করতে লিফলেট বিতরন, সকল জায়গায় স্টিকার লাগানো এবং সর্বোপরি সৈয়দপুরের প্রত্যেক সচেতন নাগরিকদের প্রতি ‘‘সৈয়দপুরকে সিটি কর্পোরেশন চাই’’ লেখা ব্যাপকভাবে প্রচার করার স¦ার্থে তাদের নিজ নিজ খরচে কমপক্ষে ১টি করে ডিজিটাল ব্যানার টাঙিয়ে প্রচার চালানোর লক্ষে এবং এই সামাজিক আন্দোলনকে আরো বেগবান করার জন্য সকলের প্রতি উদ্ধাত্ব আহবান ও অনুরোধ করা হয়। ঘোষিত কর্মসুচীতে সকলের সহযোগীতা কামনা করা হয়।
উল্লেখ্য যে, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯, প্রতিষ্ঠা বিধিমালা ২০১০এবং (সংশোধিত) ২০১১আইন অনুযায়ী একটি পৌরসভার নূন্যতম ২৫ বর্গ কিঃ মি এলাকা, বার্ষিক আয় ১০ কোটি টাকা, স্থানীয় আয়ের উৎস ৫ কোটি টাকা, জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতিবর্গ কিঃ মিঃ এ তিন হাজার হতে হবে। অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর ও অবকাঠামোগত সুবিধা থাকতে হবে। লোক সংখ্যা ৪ লক্ষ হতে হবে। জনমত থাকতে হবে। প্রথম শ্রেণীর সৈয়দপুর পৌরসভায় সব শর্তই বিদ্যমান রয়েছে।
আরোও উল্লেখ্য যে, অষ্টম বাণিজ্যিক প্রধান শহর হিসেবে খ্যাত এক সময়ের সিটি ভাতা প্রাপ্ত এই সৈয়দপুরে রয়েছে আর্ন্তজাতিক রেল কোচ নির্মানে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা, ৯টি অভ্যন্তরীন বিমান চলাচলকারী বিমানবন্দর (নির্মাণাধীন ৪র্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) সেনানিবাস, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা, রেলওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সার্কেল কার্যালয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরন কেন্দ্র, এফএসএম প্লান্ট গবেষনা কেন্দ্র, আর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক বীমা প্রতিষ্ঠান, পেপার মিল, রাইস মিল, ইটভাটা, ফাইলেরিয়া হাসপাতাল সহ ৬০০টির মতো ছোট বড় কারখানা এবং বিসিক শিল্প নগরী এলাকা সহ অনেক সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান।
বাংলাপ্রেস/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি