সৈয়দপুরে ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি,থানায় ডায়েরী

এম আর আলী টুটুল, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুরে ভেজাল পণ্য বিক্রিতে বাঁধা দেয়ায় নাদিম আকতার নামে এক ব্যবসায়ীসহ তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে ওই ব্যবসায়ী স্থানীয় থানায় জিডি করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী সোহানা আহমেদ স্থানীয় সাংবাদিকের কাছে ঘটনাটি পত্রিকায় প্রকাশের জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। থানার জিডি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শহরের মুন্সিপাড়া জোড়াপুকুর এলাকার মৃত আজিমের পুত্র নাদিম আকতার শহরের মনিহারী পট্টি রেলওয়ে মার্কেটে তার দোকান রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে সততার সহিত ব্যবসা করে আসছেন। তিনি কোন অন্যায় কাজ পছন্দ করেন না। তার দোকানের পাশেই রয়েছে জামিল আকতার মুন্না ও সেলিম আকতার কাল্লুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ওই দোকানে বিভিন্ন অবৈধ মালামাল বিক্রয় হয়। ওই দোকান থেকে মালামাল নিয়ে ব্যবসা করছেন তাদের ভাড়াটিয়া সাজ্জাদ কসমেটিক্স ও রিফাদ ষ্টোরের মালিক নওশাদ।
এসব দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ ও বাতিল পণ্যের গায়ে নেবেল লাগিয়ে পাইকারী ও খুচরা হিসাবে সৈয়দপুর শহরসহ বিভিন্ন শহরে বিক্রি করছে। এ অবৈধ ব্যবসা করে তারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। আর এরই প্রতিবাদ করতে গিয়ে নাদিম আকতারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও তিনিসহ তার পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্নীতিবাজ যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতে নাদিম অবৈধ ব্যবসার প্রতিবাদ করায় গত ১৭/৬/২০১৯ ইং তারিখে রাত ৮টায় মনিহারী বাজারে অবস্থিত নাদিমের দোকানে মুন্না ও কাল্লুর নির্দেশে সাজ্জাদ, নওশাদ ও তার বোন জামাই ভলু সহ কয়েকজন অবৈধ ব্যবসায়ী দোকানে হামলা চালিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে তারা নাদিম ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে যে, তোকে যেখানে পাব সেখানেই জানে মেরে লাশ গুম করে দিবো। তোর কি করার আছে করিস। কারণ নাদিম না থাকলে তাদের ব্যবসা সহজ হবে। উল্লেখিত ব্যক্তিরা এই অবৈধ ব্যবসা করে কোটিপতি হয়েছেন। টাকার জোরে তারা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীকে হয়রানী ও নির্যাতন করে আসছেন। মুন্না ও কাল্লু জামায়াতের অর্থ জোগানদাতা। এর আগে মুন্নাকে র্যাব বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। উল্লেখ যে, ২৬/১/২০১৫ ইং তারিখে সৈয়দপুর রেল মার্কেট মনিহারী বাজারে আগুন লাগে। ওই আগুন লাগানোর ঘটনায় মুন্না ও কাল্লু জড়িত আছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখিত ব্যক্তিদের হুমকিতে ব্যবসায়ী নাদিম আকতার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি প্রতিকার চেয়ে সৈয়দপুর থানায় সাজ্জাদ, নওশাদ, বোন জামাই ভলু, মুন্না ও কাল্লুর নাম উল্লেখ করে থানায় জিডি করেছেন। জিডি নং ১০৯৪, তারিখ : ২১/৬/২০১৯ইং।
অভিযোগকারীরা অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে দাবী জানিয়েছেন। সেই সাথে নাদিম ও তার পরিবার যাতে সহজে চলাফেলা করতে পারে এবং নিবিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে এজন্য প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে কথা হয় জামিল আকতার মুন্নার সাথে, তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন এ ঘটনায় তাদের কোন সম্পর্ক নেই। অপরদিকে কথা হয় সাজ্জাদের সাথে তিনি উল্টো দাবী করেন তাকে মারডাং করা হয়েছে।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি