সিটি নির্বাচন ‘গণতন্ত্রের প্রহসন’ ছাড়া কিছু নয় : মওদুদ

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সিটি নির্বাচন উপলক্ষে একদিকে গ্রেফতার আতঙ্ক চলছে, অন্যদিকে নির্বাচনের প্রচারণা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘হইচই হবে, মিছিল হবে, নির্বাচনের দু’দিন আগে দেখবেন সব ঠান্ডা। গ্রেফতার চলছে, গতকাল আমাদের একজন কাউন্সিলর প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার হরণ এবং খালেদা জিয়ার জামিন প্রতিহিংসার বিচারে অবরুদ্ধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সিটি নির্বাচনকে ‘লোক দেখানো নির্বাচন’ মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, ‘ভয়-ভীতি গ্রেফতার আতঙ্ক চলছে একদিকে, অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। এগুলো লোক দেখানো। এই নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রহসন ছাড়া কিছু নয়। এই নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করছি কারণ, আমরা জনগণের একটি রাজনৈতিক দল। আমরা মনে করি, যদি দেশের মানুষ ভোট দিতে পারে এই সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পরাজিত করবে। কিন্তু সেটা তারা করতে দেবে না, এটা আমরা জানি। গণতন্ত্রের যে মৃত্যু ঘটেছে এ দেশে, এটা সরকার এই নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করবে।’
সরকার নতজানু হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিজিবির ডিজি বললেন— ‘অনুপ্রবেশকারীরা সব বাংলাদেশি’। ভারত সরকারের নাগরিক অধিকার আইনে সবচেয়ে বড় ভিকটিম হবে বাংলাদেশের মুসলমানরা। যারা বহু বছর আগে ভারতে চলে গেছেন, ভারতের নাগরিক হয়েছেন, ভোটার হয়েছেন, ভোট দিয়েছেন, আজকে তাদেরকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আমাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। এই সরকার এত নতজানু হয়েছে যে, তারা সেটা গ্রহণ করে নিচ্ছে। প্রতিবাদ করা তো দূরের কথা, তারা এটাকে গ্রহণ করে নিচ্ছে। এর থেকে লজ্জার কথা বাংলাদেশের মানুষের জন্য আর কিছু হতে পারে না। এ সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য সবকিছু দিয়ে দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সংকট অনেক আগে থেকেই ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে এসে সেই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। গতবছর সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’
আন্দোলন নিয়ে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘আন্দোলন ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি অথবা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার কোনটাই সম্ভব নয়। আন্দোলন ছাড়া কোনও বিকল্প নাই। অনেকেই মনে করেন একটু সফট হয়ে গেলে কিছু একটা হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বারবার আমরা দেখতে পাচ্ছি সেটি সম্ভবপর নয়। এই সরকারের হাত-পা বাঁধা, তারা পারবে না কোনকিছু করতে। আমাদের জন্য একটাই পথ সেটি হচ্ছে আন্দোলন। সেটি যদি আমরা করতে পারি তাহলে আমরা সফল হবো আর করতে না পারলে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আমাদের কোনও পথ থাকবে না।’
মওদুদ আরও বলেন, ‘কিন্তু আমি মনে করি আমরা ব্যর্থ হতে পারি, এদেশের জনগণ ব্যর্থ হবে না। কারণ এদেশের মানুষ দেশপ্রেমিক, গণতন্ত্রপ্রিয়। জনগণকে আমরা আশ্বস্ত পারি এবার আমরা আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে ময়দানে থেকে বিজয় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ থেকে বাড়িতে ফিরে যাবো না।’
আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ এখন এক বাক্যে এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। মানুষ চায় বিরোধী দল আন্দোলন করুক সরকার পতনের জন্য।’
রাজনৈতিক আন্দোলন শিল্পের মতো মন্তব্য করে মান্না বলেন, ‘আপনাদের বোঝা দরকার, কখন কোথায় কিভাবে আন্দোলন শুরু করবেন। যারা আন্দোলন গড়ে তুলবেন, তাদের সামগ্রিক বিষয়টা বুঝতে হবে, তা না হলে হবে না। যারা ক্ষমতায় আছেন তারা কিন্তু বিষয়টা বুঝে। তারা প্রায়ই বলেন বিএনপি কি আন্দোলন করবে, বিএনপির আন্দোলনের কী বুঝে? কিভাবে আন্দোলন করতে হয় তা আমরা জানি। আওয়ামী লীগ জানে… তাহলে ছয় দফা দেওয়ার পরে তিন বছর বসেছিলেন কেন? শেখ মুজিবকে তাহলে বারবার কারাগারে যেতে হয়েছে কেন? আন্দোলন করে তো আওয়ামী লীগ শেখ মুজিবকে কারাগার থেকে বের করেনি। এত বড় নেতা শেখ মুজিবুর রহমান মারা গিয়েছিলেন তারপর তো আওয়ামী লীগ আন্দোলন করতে পারেনি। এবার আমি সবাইকে একটা আন্দোলন গড়ে তুলবার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ওদেরকে শিখিয়ে দেন, ‘তোমরা আন্দোলন ভাঙতে জানো, আন্দোলন করতে জানি আমরা’।’
সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বিজিবি মহাপরিচালক বলেছেন ওরা সবাই বাংলাদেশি, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু এখন স্বীকার করেছেন, ওখান থেকে ওরা আসছে। আমি জানতে চাই মোট কতজন বাংলাদেশের ঢুকেছে? এরা কবে ভারতে গিয়েছিলো, এখন ঢুকলো কেন, কোথায় আছেন তারা এখন? সাংবাদিকরা যেন সেই লিস্ট ধরে কথা বলতে পারেন। আমি জানতে চাই, মানুষ জানতে চায় যে, তারা সত্যি সত্যি বাংলাদেশের ছিল কিনা।’
শেখ হাসিনা সরকারকে অবৈধ মন্তব্য করে মান্না বলেন, ‘একটাই কথা, এই সরকারকে আর চাই না। এই সরকার অবৈধ। ক্ষমতায় যে আছেন সেটা কোনও নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, তাহলে মানবো কেন আমি। মানবো না বলেই তাঁর পদত্যাগ চাই। তিনি ব্যর্থ, তিনি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না।’
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেসারুল হক, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড.কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আমার জানাজা পড়ানোর জন্য ওয়াহাবি বা জামায়াতের প্রয়োজন নেই: ফজলুর রহমান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি