৪ মে ২০২৬

সেহরিতে সময়মতো জাগার সহজ কৌশল

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
সেহরিতে সময়মতো জাগার সহজ কৌশল

সেহরিতে জেগে ওঠার পন্থা

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   রমজান মাসে সেহরি রোজার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। সেহরির খাবার শরীরকে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও পানির জোগান দেয়। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই ঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠতে না পারায় সেহরি মিস করেন। রাত জাগা, অনিয়মিত ঘুম ও ক্লান্তির কারণে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। অথচ কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে নিয়মিত সেহরিতে ওঠা খুব কঠিন নয়।

দীর্ঘ সময় রোজা রাখার আগে শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পানি সরবরাহ করতে সেহরি বাদ দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়।

তবে অনেকের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হল—সেহরির জন্য ঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠা। রাত জাগা, অনিয়মিত ঘুম ও ক্লান্তির কারণে অনেকেই সেহরি খেতে পারেন না। যদিও কিছু সহজ অভ্যাসে এই সমস্যার সমাধানও সম্ভব।

ঘুমের সময় আগে এগিয়ে নেওয়া

রোজার সময় অনেকেই দেরিতে ঘুমাতে যান, ফলে ভোরে ওঠা কঠিন হয়ে যায়। চেষ্টা করতে হবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে ঘুমাতে যেতে। এতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম হয় এবং ভোরে ওঠাও সহজ হয়।

মোবাইল ও স্ক্রিন ব্যবহার কমান

ঘুমানোর আগে মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপ ব্যবহার করলে ঘুম দেরিতে আসে। স্ক্রিনের আলো মস্তিষ্ককে জাগিয়ে রাখে। তাই ঘুমানোর অন্তত আধা ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা ভালো।

একাধিক অ্যালার্ম ব্যবহার

শুধু একটি অ্যালার্মে ভরসা না করে কয়েক মিনিট পরপর একাধিক অ্যালার্ম সেট করতে পারেন। অ্যালার্ম ফোন বা ঘড়িটি বিছানা থেকে একটু দূরে রাখলে বন্ধ করতে উঠতেই হবে, ফলে ঘুম ভাঙা সহজ হয়।

পরিবার বা সঙ্গীর সহায়তা

পরিবারে কেউ আগে উঠলে একে অন্যকে ডেকে তুলতে পারেন। একসঙ্গে সেহরি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সময়মতো ওঠার উৎসাহও বাড়ে।

ঘুমানোর আগে ভারি খাবার এড়িয়ে চলা

রাতে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা ভারী খাবার খেলে ঘুমে অস্বস্তি হয় এবং সকালে উঠতে কষ্ট লাগে। তাই হালকা খাবার খেয়ে ঘুমানো ভালো।

সেহরির জন্য আগেই প্রস্তুতি

রাতে খাবার প্রস্তুত করে রাখলে সকালে তাড়াহুড়া কম হয়। দ্রুত খাবার পরিবেশন করা যায় বলে সময়মতো ওঠার আগ্রহও বাড়ে।

পর্যাপ্ত পানি পান

দিনে পর্যাপ্ত পানি না খেলে ক্লান্তি বাড়ে, যা ঘুম ভাঙতে বাধা দেয়। তাই ইফতার থেকে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

দুপুরে অতিরিক্ত ঘুম নয়

রোজার দিনে দুপুরে বেশি সময় ঘুমালে রাতে দেরিতে ঘুম আসে। ফলে ভোরে ওঠাও কঠিন হয়। তাই দিনের ঘুম সীমিত রাখাই ভালো।

মানসিক প্রস্তুতি জরুরি

ঘুমানোর আগে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। সেহরিতে ওঠা স্বাস্থ্য ও রোজার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই মানসিক প্রস্তুতি অনেক সময় অ্যালার্মের আগেই জাগিয়ে দেয়।

ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি

প্রথম কয়েক দিন কষ্ট হতে পারে, তবে নিয়মিত চর্চায় শরীর নিজেই নির্দিষ্ট সময়ে জেগে উঠতে অভ্যস্ত হয়ে যায়।

কেন সেহরি বাদ দেওয়া উচিত নয়

সেহরি বাদ দিলে সারাদিন দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই সঠিক সময়ে ওঠার অভ্যাস তৈরি করা রোজা সহজ রাখতে সাহায্য করে।

নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকরভাবে রোজা পালনের জন্য সেহরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময় ঘুমানো, সহজ কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা এবং মানসিক প্রস্তুতি থাকলে সেহরিতে ওঠা সহজ হয়ে যায়। শুরুতে কিছুটা কষ্ট হলেও ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়। তাই সুস্থ শরীর ও সুন্দরভাবে রোজা পালনের জন্য সেহরিতে সময়মতো জেগে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। সূত্র: যুগান্তর

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি