
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সকাল ৮টা থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে একাদশী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে ভোট কেন্দ্র গুলোতে ভোটারের সংখ্যা। ভোট প্রদানের জন্য সারি সারি লাইনে দাঁড়িয়েছে নর-নারী। বাড়ছে নারীদের অংশগ্রহণ। বেলা বাড়ার সাথে খানিকটা কমতে শুরু করেছে শীতের তীব্রতা। কুয়াশা ভেদ করে দেখা দিচ্ছে মিষ্টি রোদ। ভোট উৎসবে অংশ নিতে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর অস্থায়ী বাসিন্দারা ছুটে গেছেন নিজ নিজ এলাকায়। প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে রাজধানী ঢাকা।
জাতীয় সংসদের দুইশ নিরানব্বইটি আসনে আজ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিবন্ধিত উনচল্লিশটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। গাইবান্ধা-৩ আসন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে এই আসনে ভোট স্থগিত করে ২৭ জানুয়ারি নতুন ভোট গ্রহণের তারিখ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার হুশিয়ারি, সহিংসতা ও নাশকতামূলক অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। কোনো ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার না করে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছেন সশস্ত্র বাহিনীসহ নিয়মিত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচনে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরের সাধারণ কেন্দ্রে চৌদ্দ থেকে পনেরজন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পনের থেকে ষোলজন নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন থাকবেন। পার্বত্য এলাকা, দ্বীপাঞ্চল, হাওর এলাকার কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা আরও বেশি থাকবে।
ভোটগ্রহণ উপলক্ষে আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। ব্যাংক সহ বন্ধ রাখা হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং। গত মধ্যরাত থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা ও আইনশৃংখলা রক্ষায় সাতশ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নিবন্ধিত উনচল্লিশ রাজনৈতিক দলের বাইরে অনিবন্ধিত কিছু দলও এ নির্বাচনে নিবন্ধিত দলের ব্যানারে ভোটে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে এক হাজার আটশ একষট্টিজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থেকে এক হাজার সাতশ তেত্রিশজন এবং বাকি একশ আটাশজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নিবন্ধিত দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে দুইশ বাহাত্তরজন, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে দুইশ বিরাশিজন, জাতীয় পার্টি-জাপার লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে একশ পঁচাত্তরজন প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়ছেন।
নিবন্ধিত দলের মধ্যে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে সর্বাধিক দুইশ আটানব্বইজন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আছেন। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোটের একশ সাতচল্লিশ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে সিপিবির চুয়াত্তরজন প্রার্থী কাস্তে প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
ভোট গ্রহণের পর প্রতিটি কেন্দ্রে গণনা শেষে বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হবে। সংশ্লিস্ট প্রিজাইডিং অফিসাররা লিখিত ফলাফল রির্টানিং অফিসারের কাছে পাঠাবেন। তার আগে প্রতি প্রার্থীর কাছে ফলাফল শিট হস্তান্তর করবেন প্রিজাইডিং অফিসাররা। ঢাকায় নির্বাচন ভবনের ফোয়ারা প্রাঙ্গণে বিশেষ মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে। সারা দেশে এক হাজার তিনশ আটাশজন নির্বাহী হাকিম এবং ছয়শ চল্লিশজন বিচারিক হাকিম আইন-শৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ করবেন।
ছয়টি আসনে এবার ইভিএমে ভোট হবে, সেখানে আটশ পঁয়তাল্লিশটি কেন্দ্রে পাঁচ হাজার পঁয়তাল্লিশটি ভোটকক্ষে মোট একুশ লাখ চব্বিশ হাজার পাঁছশ চুয়ান্ন জন ভোটার রয়েছেন।
শুধু ভোটকেন্দ্র পাহারায় পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ছয় লাখ আট হাজার জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ও রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন শেষ করতে ছিষট্টি জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে চৌষট্টি জেলায় সমসংখ্যক এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুই বিভাগীয় কমিশনার এ দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন পাঁচশ বিরাশিজন । ছয় লাখ বাষট্টি হাজার একশ উনিশজন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার চল্লিশ হাজার একশ তিরাশিজন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দুই লাখ সাত হাজার তিনশ বারোজন এবং পোলিং অফিসার চার লাখ চৌদ্দ হাজার ছয়শ চব্বিশ জন।
দশ কোটি বিয়াল্লিশ লাখ আটত্রিশ হাজার ছয়শ সাতাত্তর জন ভোটার এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটা দেবেন। নির্বাচনে একাশিটি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থার পঁচিশ হাজার নয়শজন ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন। এ ছাড়া বিদেশিদের মধ্যে ফেমবোসা, ওআইসি, কমনওয়েলথ ও অন্যান্য সংস্থার আটত্রিশ জন কূটনীতিক ও বিদেশি মিশনের চৌষট্টি কর্মকর্তা এবং ঢাকাস্থ দূতাবাসে বিদেশি সংস্থায় কর্মরত একষট্টিজন ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন।
বিপি/ইউএস
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]