৪ মে ২০২৬

সাংবাদিক শাহীন রেজা নূরের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের শোক

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
সাংবাদিক শাহীন রেজা নূরের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের শোক
নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনের সন্তান প্রজন্ম ’৭১-এর সাবেক সভাপতি সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্টের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। পৃথক পৃথক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রস্থ বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের নেতৃবৃন্দরা সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। শাহীন রেজা নূর গত ১২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত ১০টায় কানাডার ভ্যাংকুভারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ২ পুত্র রেখে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাফায়েত চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর মুক্তিযুদ্ধে বাবাকে হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন। তিনি যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা আলী আহসান মো. মুজাহিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী ছিলেন। দীর্ঘকাল তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সন্তানদের সংগঠন 'প্রজন্ম ৭১'-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে তাঁর লেখালেখি তরুণ প্রজন্মকে যুগ যুগ ধরে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করবে। বাংলাদেশের মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী-সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সময়ের সাহসী কণ্ঠ শাহীন রেজা নূরের অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করবার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের পক্ষ থেকে সংগঠনের সহ-সভাপতি ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি ফাহিম রেজা নূর (শাহীন রেজা নুরের ভাই)সহ তাঁর পরিবারের শোকসন্তপ্ত সকল সদস্য এবং সহযোগী ও সহযোদ্ধাদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ প্রেমিক সাংবাদিক শাহীন রেজা নূরের মরদেহ যেন দেশে নিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্তানে দাফন করা হয় তার যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, প্রজন্ম ‘৭১ তার জন্মলগ্ন থেকেই শাহীন রেজা নূর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। ‘৭৫ সালে পরিকল্পিত ভাবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর, দেশ যখন উল্টোদিকে ধাবিত হচ্ছিল ঠিক তখনই প্রজন্ম ‘৭১ একটি পোস্টার ছেপেছিল, বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ছবি দিয়ে নিচে ক্যাপশন ছিল, 'তোমাদের যা বলার ছিল, বলেছে কি তা বাংলাদেশ?'। ঠিক তারপর থেকেই সমগ্র বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পালে হাওয়া লেগেছিল এবং ঘুরে দাড়াতে শুরু করল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। দেশের জন্য আত্মত্যাগী বুদ্ধিজীবীদের সন্তানরা বেশীরভাগই তাদের বাবা-মায়েদের পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে কিছুটা হলেও নতুন দেশের জন্য মেধা পূর্ন করার চেষ্টা করেছেন। শাহীন রেজা নূর স্বাধীনতার পর দৈনিক ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী সম্পাদক হয়েছিলেন, সেই সাথে যুদ্ধাপরাধীদের আইনীভাবে শাস্তি দেবার জন্য বিশাল ভূমিকা রাখেন এবং আদালতে সাক্ষী দেন। আর পাকিস্তান আমলে যখন আল বদর রাজাকাররা শহীদ সাংবাদিক ও বঙ্গবন্ধুর বন্ধু এবং ৬ দফার প্রচার ও জনমত গঠনে নিবেদিত সিরাজুদ্দীন হোসেনকে অপহরন করেন তখন তিনিও একই পদে আশীন ছিলেন, খুনীরা তাই টার্গেট করে বিজয় দিবসের কয়েকদিন আগে তাকে হত্যা করে। পরবর্তীতে মেজ ছেলে শাহীন রেজা নূর বাবার পদে যেতে পেরেছিলেন বলেই দেশের জন্য ও দশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করতে পেরেছিলেন। আমরা সাংবাদিক শাহীন রেজা নূরের অকাল মৃত্যুতে শোকাহত ও মর্মাহত। এই কঠিন সময়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপাটের সভাপতি ফাহিম রেজা নূর সহ পরিবারের সবার প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সাথে সাথে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করছি শাহীন রেজা নূরের মরদেহ দেশে নিয়ে যেন বুদ্ধিজীবী গোরস্তানে দাফন করা হয় তার যথাযথ ব্যবস্থা করার হয়। বিবৃতিদাতারা হলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী, সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বেলাল বেগ, চলচ্চিত্রকার কবির আনোয়ার, কমিউনিটি লিডার মোরশেদ আলম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সউদ চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শফি চৌধুরী হারুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস, কণ্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান, কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, অর্থনীতিবিদ ড. শফিক ইসলাম, ডা. টমাস দুলু রায়, সাংবাদিক শীতাংশু গুহ, সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ, কবি হাসান আল আব্দুল্লাহ, সাংবাদিক ফজলুর রহমান, লেখিকা নাজনিন সিমন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন, স্বীকৃতি বড়ুয়া, রওশন আরা নিপা, শুভ রায়, আহনাফ আলম, গোপাল স্যানাল, আবুল কালাম সোয়েব, রুপা খানম, ইসমাইল হোসেন স্বপন, সেমন্তী ওয়াহেদ, ওবায়দুল্লাহ মামুন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক খসরু প্রমুখ। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি