সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে প্রধানমন্ত্রী, মুগ্ধ কিশোরগঞ্জবাসী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের আদর ভালোবাসা বিলিয়ে দিচ্ছেন।
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: রাষ্ট্রীয় সফর মানেই কঠোর নিরাপত্তা, প্রটোকল আর আনুষ্ঠানিকতার ব্যস্ততা। তবে সেই চেনা দৃশ্যের বাইরে গিয়ে সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে চড়ে কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া ও কিশোরগঞ্জ পৌঁছে ব্যতিক্রমী নজির তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এমন স্বাভাবিক ও সাদামাটা চলাফেরা মুহূর্তেই কটিয়াদীবাসীর মধ্যে কৌতূহল ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
রাস্তায় বাস থামিয়ে তরুণদের সঙ্গে সেলফি, আবার কোথাও বাস থামিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছেন বল- প্রধানমন্ত্রীর এমন সাদামাটা ও আন্তরিক আচরণে মুগ্ধ কিশোরগঞ্জবাসী।
আজ চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবখানেই ঘুরছে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমী মুহূর্তগুলোর ছবি ও ভিডিও।
অনেকের ভাষ্য- রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থেকেও সাধারণ মানুষের মতো সহজ-সরলভাবে মিশে যাওয়ার এমন দৃশ্য আগে খুব একটা দেখা যায়নি।
কেউ বলছেন, এটি শুধু সরলতার প্রকাশ নয়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দূরত্ব কমিয়ে দেওয়ারও এক অনন্য বার্তা।
রোববার জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কটিয়াদীতে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের পথে সাধারণ যাত্রীদের মতো বাসে তার যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই বিষয়টিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমানোর একটি প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখছেন।
কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন বলেন, পদ-পদবির আনুষ্ঠানিকতা দূরে রেখে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়ানোর এই দৃশ্য সত্যিই ব্যতিক্রমী। প্রধানমন্ত্রীর
এমন সরলতা জেলাবাসীর নজর কেড়েছে।
শিক্ষক ও সাংবাদিক মাসুম পাঠান বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে করে কোনো এলাকায় আসছেন—এমন দৃশ্য আগে দেখিনি। বিষয়টি অনেকটা স্বপ্নের মতো লেগেছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান চন্দন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন সাধারণভাবে চলাচল মানুষের সঙ্গে তার দূরত্ব কমানোর একটি সুন্দর বার্তা বহন করে। কটিয়াদীর মানুষের কাছে এটি সফরের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
এদিকে জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধন ঘিরে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে দিনটিকে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার জন্য ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাটে মৎস্য দিবস উপলক্ষে পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি একপর্যায়ে জনসমাগমে পরিণত হয়। সেখানে দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
কটিয়াদীতে প্রধানমন্ত্রী একটি হ্যাচারি পরিদর্শন করেন এবং মৎস্যচাষিদের মধ্যে স্বর্ণপদক প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। সংসদ সদস্য তার পোস্টে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজনের জাঁকজমকের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ যাত্রীর মতো বাসে কটিয়াদীতে পৌঁছানোর ঘটনাটি যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা। রাজনৈতিক পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের গণ্ডি পেরিয়ে তার এমন স্বাভাবিক চলাফেরা স্থানীয়দের কাছে দিনটির অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকল। সূত্র: যুগান্তর
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সরকারের ১৮০ দিনের পথচলা স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রতিফলন: মাহদী আমিন
আল-কায়েদার সম্প্রসারণ নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুমাননির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আমরা ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি দেখতে চাই!
সঙ্গীত একাডেমি