৭ মে ২০২৬

রোহিঙ্গা ডাক্তার ওসমানের নেতৃত্বে ক্যাম্পে সশস্ত্র বাহিনী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
রোহিঙ্গা ডাক্তার ওসমানের নেতৃত্বে ক্যাম্পে সশস্ত্র বাহিনী

কক্সবাজার প্রতিনিধি : অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি চলছে রোহিঙ্গা শিবিরে।একের পর এক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরি হচ্ছে ভেতরে ভেতরে। সাধারণ রোহিঙ্গাদের কাছে আল ইয়াকিন এবং আরসার মিশেলে গড়ে ওঠা সশস্ত্র সংগঠনটি একটি বড় ধরনের আতঙ্কের নাম।

বিভিন্ন নামে এ সংগঠনগুলোর মধ্যে সর্বশেষ নামটি এসেছে সেটি হচ্ছে আরসা (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি)। নিষিদ্ধ এ সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রোহিঙ্গা ডাক্তার ও কমন্ডার ওসমান।রোহিঙ্গারা বলছেন, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শিবিরগুলোর সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খুনোখুনি, অপহরণ, গুম, ধর্ষণ, লুটপাটসহ নানা জঘন্য অপরাধজনক ঘটনা লেগেই রয়েছে।গত ১ বছরে শুধু টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় লাশ পড়েছে ৪০টিরও বেশি। নিজেরা নিজেদের মধ্যেই রক্তাক্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় এত লাশ। এসব খবর সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ভাবিয়ে তুলেছে। কুতুপালং ডি-৩ ক্যাম্প-২ শিবিরে গত মাসের ২৫ জুন দুপুর ২টার দিকে চাঁদার দাবীতে অপহরণ করেছিল মালয়েশিয়া প্রবাসি সিরাজের পিতা নুরুল ইসলামকে। এ সময় তাকে চুরি ও রাম দা দিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। আহত নুরুল ইসলাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৩ ব্লকের মাঝি জাকারিয়া জানান, ক্যাম্প-২ এলাকায় দুর্বৃত্তরা নুরুল ইসলামকে ধরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। হামলাকারীরা চিহ্নিত ডাকাত রোহিঙ্গা ডাক্তার ওসমানের লোকজন বলে জানা যায়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোহিঙ্গা জানায়, কুতুপালং ক্যাম্প ও মোছনী ক্যাম্পের বেশ কিছু স্থানে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের এ গ্রুপ আস্তানা গেড়েছে। দিনে পাহাড়ে আর রাতে ক্যাম্পে চষে বেড়ায় তারা। নুর কলিম, শাকের প্রকাশ মোহাজ, মাষ্টার ছৈয়দ আলম, হাবিব, শহিদ, হামিদ, আয়াছ ও এনাম হচ্ছে এই গ্রুপের নেতা।

খুন, ধর্ষণ, ইয়াবা কারবার, মানব পাচার, অপহরণসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করছে না।স্থানীয়রা বলছেন, নির্যাতনের মুখে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা নিরীহ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশ বহুমুখী সমস্যার মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও। তবে আশ্রয় নেওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে গোপনে সক্রিয় ‘সন্ত্রাসী চক্র’ এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নানা ধরনের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেরাই খুনোখুনি করছে।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, যতই দিন যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের আচার-আচরণে ততই পরিবর্তন আসছে। তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। তবে এসব ঝুঁকি মাথায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি