৪ মে ২০২৬

রমনা বটমূলে বোমা হামলা: ২৫ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
রমনা বটমূলে বোমা হামলা: ২৫ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

 


বাংলাপ্রেস ডেস্ক:বাংলা নববর্ষ এলেই আনন্দের পাশাপাশি অনেকের মনে ফিরে আসে এক বেদনাদায়ক স্মৃতি। ২০০১ সালের পহেলা বৈশাখে রাজধানীর রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত হন ১০ জন। ঘটনার পঁচিশ বছর পার হলেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি এই হামলার বিচার।

গণমাধ্যম সূত্র মতে, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল সকালে রমনা পার্কের বটমূলে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলছিল। হাজারো মানুষ নতুন বছরকে বরণ করতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় অনুষ্ঠানস্থলে পুঁতে রাখা দুটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সকাল ৮টা ৫ মিনিটে প্রথম এবং কিছু সময় পর আরেকটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৯ জন, পরে হাসপাতালে আরও একজন মারা যান।

পরে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের সদস্যরা এই হামলা চালিয়েছিল। ঘটনার দিনই পুলিশ হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা দুটি মামলা দায়ের করে।


এই ঘটনার হত্যা মামলার রায় আসে ২০১৪ সালে। এতে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে উচ্চ আদালতে শুনানির পর কয়েকজনের সাজা কমানো হয়। জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের মৃত্যুদণ্ড ২০১৭ সালে কার্যকর করা হয়।

তবে একই ঘটনায় করা বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেও এরপর থেকে মামলাটি আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে আটকে আছে। বিভিন্ন সময়ে আদালত পরিবর্তন ও আসামিদের হাজির না করার কারণে শুনানি দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে।

সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ শুনানির দিন ধার্য থাকলেও কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। এ কারণে আদালত আগামী ৯ জুলাই পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই নৃশংস হামলার বিচার পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় নিহতদের পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো রয়েছে আক্ষেপ। অনেকের মতে, বাংলা সংস্কৃতির ওপর ভয়াবহ আঘাত হিসেবে চিহ্নিত এই হামলার বিচার দ্রুত শেষ হওয়া প্রয়োজন।

 

 

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি