৪ মে ২০২৬

প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ইলিশ মাছ শিকার করছে জেলেরা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ইলিশ মাছ শিকার করছে জেলেরা

ফরিদপুর থেকে সংবাদদাতা: ফরিদপুরের সদরপুরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে অব্যাহত রয়েছে মা ইলিশ নিধন। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে, পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদের বিভিন্ন পয়েন্টে মাছ শিকার করছে জেলেরা। ধরা পড়ছে শত শত মা ইলিশ। ২শ থেকে ৫শ টাকায় মিলছে এক কেজি ইলিশ। ঢেউখালী ইউনিয়নের নবাব মোল্যার ঘাট, চরনাছিরপুর ইউনিয়নের মোল্যা কান্দি, হাওলাদার কান্দি বাজার, কাচিকাটা বাজার, জঙ্গীকান্দি, চুঙ্গা কান্দি, দিয়ারা নারিকেলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নন্দলালপুরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বসছে ইলিশের অস্থায়ী হাট।

এদিকে জেলা প্রশাসন ও সদরপুর উপজেলা প্রশাসন নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রাখলেও এক শ্রেণির অসাধু জেলেকে ইলিশ নিধন থেকে বিরত রাখতে পারছে না। গত কয়েকদিনে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পূরবী গোলদার, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজ সাহিন খসরু, হাসান মো. হাফিজুর রহমান ও মো. বায়েজিদুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দেড় শতাধিক জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছেন।

এ সময় কয়েক লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং প্রায় ১০ মণ ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। এক জেলে বলেন, নদীতে অভিযান আছে, তারা চলে গেলেই নদীতে জাল ফেলি। নদীতে বেশ কিছু ট্রলার আসে যারা নৌকা থেকে মাছ ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ঘাট এলাকার মাছ জানান, এখন সস্তায় মাছ কিনতে পারি, কিন্তু খুব সতর্ক হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। জেল জরিমানার ভয় রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নদীপাড়ের একাধিক বাসিন্দা বলেন, চার উপজেলা কেন্দ্রিক পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদ। সদরপুর, চরভদ্রাসন, দোহার ও শিবচর সীমানা। অভিযান কম থাকার কারণে জেলেরা নদীতে নামতে পারছেন। সেই সঙ্গে অভিযানের খবর আগেই জেলেদের কাছে চলে আসায় অনেকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নদী থেকে মাছ ধরে উপজেলার বিভিন্ন বাড়িতে ইলিশ মজুদ করে বিক্রি করেছে বেশ কয়েকটি চক্র। এদের মধ্যে প্রশাসন কয়েকজনকে আটক করে জরিমানা করেছেন। প্রতিদিন অনেকে নদীপাড় ও কাঁশবনের মধ্যে বসা অস্থায়ী হাট থেকে এসব মাছ কম দামে কিনে কৌশলে স্পিডবোট দিয়ে দ্রুত নদী পার হন।

এ ব্যাপারে সদরপুরের ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পূরবী গোলদার জানান, আমি সব সময় নদীতে অভিযান পরিচালনা করে আসছি। ইলিশ শিকার বন্ধে নদীতে তিনটি মোবাইল টিম নিয়োজিত রয়েছে। নদীর পথ দীর্ঘ হওয়ায় অসাধু জেলেরা সুযোগ পেলেই নদীতে ইলিশ শিকারে নেমে যাচ্ছেন। তবে কঠোরভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত কয়েকদিনে দেড় শতাধিক জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যেমে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া অসাধু জেলেদের কাছ থেকে কয়েক লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। জব্দকৃত প্রায় ১০মন ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি